সিপ্লাস প্রতিবেদক: কোতোয়ালী থানাধীন এনায়েত বাজার মোড় থেকে চোরাইকৃত লোটার মেশিন, ড্রিল মেশিন, কাটার মেশিন, সেলাই রেন্স, স্ক্র-ড্রাইবার, মেশিন খোলার ডালি ও হাতুড়িসহ চোর চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে তাদের আটক করে।
আটককৃতরা হলেন, মোঃ মনির হোসেন (২৮), পিতা-মোঃ ইব্রাহীম খলিল, সাং-মোলা সাহেবের বাড়ী, থানা-নবীনগর, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়ীয়া বর্তমানে-দোস্ত কলোনী, পেশকারে বাড়ী, আসকারদিঘীর দক্ষিণ পাড়, থানা-কোতোয়ালী, মোঃ আলম(৫০), পিতা-মোঃ শামছুল আলম, সাং-ষোলদানা, চৌকিদার বাড়ী, থানা-ফরিদগঞ্জ, জেলা-চাঁদপুর, বর্তমানে-গোয়ালপাড়া, তুলাতুলি, নাহার এর ঘর, থানা-কোতোয়ালী, কামাল উদ্দিন মন্জু(৪৫), পিতা-মৃত শামছুল আলম, সাং-এনায়েতবাজার, বদর হাজীর বাড়ী, থানা-কোতোয়ালী, মোঃ আলী(৩২), পিতা-মোঃ আজিজুল হক ভান্ডারী, সাং-বাগঘোনা, মমতা ক্লিনিক, সুচনা আবাসিক, দিদারুল আলম মাসুমের বাড়ী, থানা-খুলশী, এবং মোঃ সিরাজ(২০), পিতা-মোঃ মোবারক, সাং-মুসলিমপাড়া, ৮নং ওয়ার্ড, খলিল র্সদারের বাড়ী, থানা-মাটিরাঙ্গা, জেলা-খাগড়াছড়ি, বর্তমানে-গোয়ালপাড়া, তুলাতুলি, মনার ঘর, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-চট্টগ্রাম।
থানা সুত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর ভোর অনুমান সাড়ে ৫টার সময় এসআই মোঃ আরাফাত হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ কোতোয়ালী থানাধীন এনায়েত বাজার মোড়ে চেকপোস্টে তল্লাশী করার সময় আসামী মোঃ মনির হোসেন (২৮) কে বিভিন্ন চোরাই মালামালসহ সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করে। এসময় তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে। তার কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়।
একপর্যায়ে আসামী মোঃ মনির হোসেন (২৮) স্বীকার করে যে, সে গত ৪ অক্টোবর ভোরবেলা কোতোয়ালী থানাধীন আসকারদিঘীর পাড়ের ১টি গোডাউন থেকে লোটার মেশিন, ১টি সবুজ রংয়ের ড্রিল মেশিন, ১টি লাল রংয়ের ড্রিল মেশিন, ১টি কাঠ/বোর্ড কাটার মেশিন, ২টি সেলাই রেন্স, ৩টি স্ক্র-ড্রাইবার, ১টি মেশিন খোলার ডালি, ১টি হাতুড়ি চুরি করে।
আসামীর প্রদত্ত স্বীকারোক্তি মতে কোতোয়ালী থানাধীন আসকারদিঘীর উত্তর পাড়স্থ নিউ ইউনিভার্সেল ফার্নিচার নামক দোকানের সামনের গোডাউন এর ভিতর গিয়া জনাব মোঃ আবুল কালাম সহ উপস্থিত লোকজনদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা চুরির ঘটনা সম্পর্কে জানান।
এ ঘটনায় মোঃ আবুল কালাম তার গোডাউনে চুরি অপরাধে এজাহার দায়ের করলে পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৪৬১/৩৮০ ধারায় ০১টি মামলা রুজু হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মোঃ মনির হোসেন (২৮) কে চোরাই মাল বিক্রয়ের বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে উক্ত চোরাই মালামাল কামাল উদ্দিন মনজু (৪৫) এর নিকট বিক্রয় করে।
এছাড়াও সে চোরাই মালামাল বিভিন্ন সময়ে মোঃ আলম(৫০), মোঃ আলী(৩২), মোঃ সিরাজ(২০)’র নিকট বিক্রয় করে।
কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন, পিপিএম বলেন, গোয়ালপাড়া তুলাতুলি নাহার এর ঘরের ভাড়াটিয়া মোঃ আলম এর কক্ষ থেকে ধৃত আসামী মোঃ মনির হোসেন (২৮) এর দেখানো মতে চারজন ব্যক্তিকে আটক করে।
এ সময় তাদের ঘরের ভিতর থেকে ১টি প্লাস্টিকের সাদা বস্তার ভিতরে রক্ষিত হাতুড়ি ১৫ পিস, প্লাস ১২ পিস, স্ক্রু-ড্রাইভার ছোট-বড় ৩৫টি, হ্যাসবল ৬০ পিস, দরজার সিটকিনি ৬০ পিস, দরজার কবজা ছোট ২৫পিস, রেদ ১৮ পিস, ১টি প্লাস্টিকের সাদা বস্তার ভিতরে রক্ষিত ডালি ৩৬ পিস, হিটার মেশিন ওয়াটার ৮টি, টেপ ২৪টি, তাতাল ৩ পিস, ছোট-বড় তালা ২০ পিস, আড়ি ব্ল্যাড ফ্রেম ২টি, আড়ি ব্ল্যাড ১৩টি, ড্রিল মেশিনের বিট ৫০টি, বাটাল ৫টি, কসটেপ ৪০টি, ১টি প্লাস্টিকের সাদা বস্তার ভিতরে রক্ষিত ইলেকট্রিক সুইচ ৭০ পিস, থ্রিপিন ও টুপিন প্লাগ ৭০পিস,ওভারড্রোপ এর তালাচাবি ১৭পিস, হোল্ডার ৪০পিস, রেগুলেটার ৪ পিস, ১টি পুরাতন ভাঙ্গা সেলাই মেশিন। উপরোক্ত চোরাই মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি এবং বৈধ কোন কাগজপত্রও দেখাতে পারেনি।
ধৃত আসামী মোঃ আলম(৫০) জানায় যে, ধৃত কামাল উদ্দিন মনজু ও মোঃ আলী(৩২) তার সহযোগী। তারা চোরাই মালামাল বিক্রয় করে থাকে।
ধৃত মনির ও আলম আরো জানায় যে, তারা বিভিন্ন চোরদের থেকে উক্ত চোরাই মালামাল ক্রয় করে অভ্যাসগতভাবে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রেখেছে।
উল্লেখ্য যে, ধৃত ২নং আসামী সিএমপি’র কোতোয়ালী থানার মামলা নং-২৬(৭)২১ ও ২৭(৭)২১ এর আসামী এবং কামাল উদ্দিন মনজু ও মোঃ আলী ইতিপূর্বেও কোতোয়ালী থানায় বেশ কয়েকবার চোরাই মাল রাখার অপরাদে গ্রেফতার হয়।

