নিউজটি শেয়ার করুন

কোভিড-১৯: যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম টিকা পেলেন আইসিইউ নার্স

সিপ্লাস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম দফায় ফাইজার-বায়োএনটেকের কোভিড-১৯ টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। নিউ ইয়র্কের কুইন্সে ‘লং আইল্যান্ড জুইশ মেডিকেল সেন্টার’ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) একজন নার্সকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে গণমাধ্যমের খবরে।

সোমবার নার্স সান্দ্রা লিন্ডসেকে টিকা দেওয়ার মুহূর্তটি ক্যামেরায় ধারণ করা হয় এবং তা সরাসরি নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু ‍কুমোর টুইটার ফিডে দেখানো হয়।

এ বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম দফা সংক্রমণের সময় নিউ ইয়র্ক দেশটির মহামারীর উপকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। এখন সেই জায়গাতেই প্রথম টিকার এই যাত্রা শুরুতে আশা আর আনন্দের বাণী ঝরে পড়েছে গভর্নর কুমোর কণ্ঠে।

তিনি বলেছেন, “এই টিকা হচ্ছে মানবতাকে অশুভ শক্তির আক্রমণ থেকে রক্ষাকবচ, যার মধ্য দিয়ে চলমান করোনাভাইরাস-বিরোধী যুদ্ধের সফল সমাপ্তি ঘটবে।” উৎফুল্লচিত্তে কুমো আরও বলেন, “এই টিকা করোনাভাইরাস প্রতিরোধের শুভ সূচনা; যা মহামারীর সমাপ্তি ডেকে আনবে।”

ওদিকে, টিকা নেওয়ার পর নার্স লিন্ডসে বলেছেন, “এই টিকা নেওয়াটা অন্য কোনও টিকা নেওয়ার থেকে আলাদা কিছু মনে হয়নি। কোনও যন্ত্রণাও অনুভব করিনি। আশা করি এটি আমাদের ইতিহাসের অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি সময়ের সমাপ্তির সূচনা করবে।”

“আমি মানুষের আস্থা বাড়াতে চাই, বলতে চাই এই টিকা নিরাপদ। আমরা একটি মহামারীর মধ্যে আছি এবং আমাদের সবাইকে নিজ নিজ কাজ করে যেতে হবে। মহামারীতে ক্ষত-বিক্ষত মানবতার পরিত্রাণে এই টিকার বিকল্প ছিল না। তাই সবাইকে তা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। তাহলেই করোনাকে পরাস্ত করা সম্ভব হবে।”

এই টিকা দেওয়ার কয়েক মিনিট পরই প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একটি টুইট করেন। তাতে তিনি লেখেন, “প্রথম টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। অভিনন্দন যুক্তরাষ্ট্র! অভিনন্দন বিশ্ব।”

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) জরুরি ব্যবহারের জন্য ফাইজার-বায়োএনটেকের কোভিড-১৯ টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। সোমবারই টিকার ৩০ লাখ ডোজের প্রথম চালান সারা দেশে বিতরণ করা হয়েছে।

বিবিসি জানায়, সোমবার যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে প্রায় ১৫০টি হাসপাতাল এই টিকা হাতে পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টিকাদান প্রকল্পে আগামী এপ্রিলের মধ্যে ১০ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় ‍আনার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।

নিউ ইয়র্কের গভর্নর বলেছেন, রাজ্যটিতে প্রথম দফায় পাওয়া টিকার ৭২ হাজার ডোজ প্রয়োগ করা হবে। প্রথমবার টিকা নেওয়ার তিন থেকে চার সপ্তাহ পর আবার টিকা নিতে হবে সংশ্লিষ্টদের।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ এবং মৃত্যু উভয় তালিকাতেই এক নম্বর নাম যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এ মহামারী এরই মধ্যে প্রায় তিন লাখ মানুষের প্র্রাণ কেড়ে নিয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই কোভিড-১৯ টিকাদান শুরু দেশটির জন্য দারুণ স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীষ্মে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার কিছুটা কমে গিয়েছিল। কিন্তু নভেম্বরে সেটি যেন আবার দ্বিগুণ গতিতে ফিরে এসেছে। তারপর থেকে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর গ্রাফ খাড়া উপরের দিকে উঠছে। দেশটিতে এখনও এক লাখ ৯ হাজারের বেশি কোভিড রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজার এবং জার্মানির বায়োটেকনোলজি কোম্পানি বায়োএনটেক মিলে এই টিকা তৈরি করেছে। টিকার তৃতীয় ধাপের চূড়ান্ত ‘ট্রায়ালে’ এটি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে মানবদেহে অ্যান্টিবডি তৈরিতে ৯৫ শতাংশ কার্যকর বলে দাবি করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যুক্তরাজ্য, কানাডা, সৌদি আরব, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, কুয়েত ও মেক্সিকো ফাইজারের টিকা অনুমোদন করেছে। যুক্তরাজ্য  কয়েকদিন আগেই ফাইজারের টিকা দেওয়া শুরু করেছে।

বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ ও প্রতিষ্ঠান কোভিড-১৯ এর টিকা উদ্ভাবনের পথে রয়েছে। রাশিয়া তাদের আবিষ্কার করা কোভিড-১৯ এর টিকা স্পুৎনিক-ভি সাধারণ মানুষকে দেওয়া শুরু করেছে।