মো: মহিন উদ্দীন: কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে হালাল পশু জবাহের পর মাংস কাটার জন্য কাঠের গুড়ির (খ্যাইটা) আর মাংস কাটার পরে তা বন্টন করার জন্য চাটাইয়ের বেশ প্রয়োজন। আর এই কোরবানীকে কেন্দ্র করে নগরে সেই কাঠের গুড়ির খ্যাইটা ও চাটাইয়ের ব্যবসা জমে উঠেছে।
যদিও আর ২ দিন পরই ঈদুল আজাহা। মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এসব গুড়ির পসরা নিয়ে বসেছেন নগরের বিভিন্ন রাস্তায়।
রবিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকার দেখা যায়, গাছের ছোট ছোট গোল আকৃতির টুকরা তৈরি করা হচ্ছে মাংস কাটার খ্যাইটা এবং গরু জবাই করার পরে মাংস রাখতে ও বন্টন কিংবা বিলি করতে দরকার চাটাই। এই সব চাটাই ও খাইট্টা নগরীর বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে সেগুলো বিক্রি করা হচ্ছে। আকার অনুযায়ী একেকটি খাইট্টা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা করে। আবার প্রতিটি চাটাই আকার ভেদে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিবিরহাটে চাটাই বিক্রি করছেন মাহাবুব (৫৩) নামে এক ব্যক্তি। সিপ্লাসের প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় তিনির। বিবিরহাটেই তার বাড়ি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই সব চাটাইয়ের ব্যবসায় করেন। রাঙামাটিরর ঘাগড়া থেকে এসব চাটাই কিনে নগরীতে বিক্রি করে। শুধু কোরবানির সময় বিক্রি হয় তা নয়। সারা বছরই এই সব চাটাই বিক্রি হয়। যেমন বিয়ে, মেজবান, ছাদ ঢালাই, কৃষিকাজে, বাসায়, মসজিদে এ সব চাটাই ব্যবহার করা হয়। তবে কোরবানির ঈদের সময় একটু বেশি বিক্রি হয়।
নগরের এলাকায় মাংস কাটার গুড়ি কিনতে আসা আতুরারডিপু এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা কাজী মঈনউদ্দীন, বলেন, ঈদের দিন গরু জবাহের পর মাংস কাটার জন্য এই খ্যাইটা ও চাটাই (ধাইজ্জা) খুব প্রয়োজন।কারণ গরু জবাই করার পরে মাংস গুলো রাখতে চাটাই দরকার। তাই বাজারে কিনতে আসলাম।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও সব্যসাচী লেখক অধ্যাপক মির্জা মো: শহিদুল্লাহ সিপ্লাসকে বলেন, ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ সমাগত। ঈদ হলো আনন্দের উপলক্ষ। বিশ্বব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে এবার কোরবানি ঈদের আমেজ একটু ভিন্ন। আনন্দের মাঝে দেখা দিয়েছে নানা শঙ্কা, জনমনে রয়েছে নানা প্রশ্ন। কোরবানির পশু কেনা থেকে শুরু করে পশু জবাই ও খাদ্য গ্রহণের প্রতিটি স্তরে স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে চলা যাবে কি না তা নিয়ে রয়েছে নানা বিভ্রান্তি। ধর্মীয় রীতি ও আনন্দ ভাগাভাগি করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি বা স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যবিধি এবং নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চললে অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটার সম্ভাবনা কমবে এবং করোনাকালেও ঈদকে আনন্দময় করে তোলা যায়। কোরবানির ঈদ আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো খাবার। অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মূল আয়োজনে থাকে বিভিন্ন রকমের মাংসের পদ, যেমন গরু, খাসি, মহিষ এমনকি উটের। ঈদ উৎসবে সবারই মনের প্রবল ইচ্ছা বেশি করে মাংস খাওয়া। তবে খাদ্য সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি।
ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় কোরবানি বলা হয়- মহান রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের আশায় নির্ধারিত তারিখের মধ্যে হালাল কোনো পশু আল্লাহর নামে জবেহ করা।
কোরবানি নতুন কোনো প্রথা নয় বরং এটা আদিকাল থেকে চলে আসছে। হজরত আদম (আ.) এর যুগে কোরবানির সূচনা হয়েছিল। তাই সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর কোরবানি ওয়াজিব। তার জন্য পশু জবেহ করার পর থেকে চাটাই ও মাংস কাটার খাইট্টা’র কদর একটু বেশি হয়। তবে গ্রামীণ অঞ্চলে এত কিছুর প্রয়োজন হয় না। কারণ গ্রামের মানুষ গরু জবাই করার পর কলা গাছের বরজ দিয়ে মাংস কেটে নেন। তাদের আবার খাইট্টাও লাগে না যেমন, ছোট গাছের টুকরা দিয়েই তারা মাংস কেটে ফেলে। এখন নগরীতে এই ধরনের জিনিসপত্র নেই এবং মানুষ অনেক উন্নত হয়েছে। তাই মাংস কাটার খাইট্টা ও চাটাই বেশি প্রয়োজন। আমিও কিনেছি। সবাইকে অগ্রীম ঈদ মোবারক।








