প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সীমান্তে নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে সৌদি আরব।
উপসাগরীয় সহযোগী সংস্থাভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর নাগরিকরা ভাইরাস আক্রান্ত যেকোনও দেশ ভ্রমণের পর অন্তত ১৪ দিন সৌদিতে ঢুকতে পারবেন না। এ সময়সীমা শেষে শরীরে করোনা আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা না গেলে তবেই অনুমতি দেবে সৌদি প্রশাসন।
বুধবার(৪মার্চ) সৌদি আরবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দ্বিতীয় রোগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি সৌদি নাগরিক, এবং তিনি সম্প্রতি ইরানে ভ্রমনে গিয়ে সেখান বাহরাইন হয়ে ঘুরে পুনরায় সৌদি আরবে ফিরেছেন। সৌদি আরবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তির সাথেই তিনি ভ্রমনে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সৌদি আরবে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয়রোগী পাওয়া গেলো!
এক ঘোষনায় সৌদি স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যাক্তি পুলিশকে জানাননি যে তিনি ইরানে ভ্রমন করেছেন।
জানা গেছে যে, সৌদি আরবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তির সাথেই তিনি ইরান ও বাহরাইনে গিয়েছিলেন। এছাড়া, সৌদি নাগরিকদের দেশে ফেরার সময় ১৪ দিনের মধ্যে জিসিসি’র বাইরে কোনও দেশ ভ্রমণ করলে সেই তথ্য কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। সড়কপথে দেশে প্রবেশকারী সবারই স্ক্রিনিং করা হবে।
গত সোমবার সৌদি আরবে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন। তিনি ইরান থেকে বাহরাইন হয়ে কিছুদিন আগেই সৌদি ফিরেছিলেন। মঙ্গলবার সৌদির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, ওই রোগীর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এছাড়া, তার সংস্পর্শে আসা আরও ৭০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়া, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ওমরাহ যাত্রী ও মসজিদে নববী ভ্রমণকারীদের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এ পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ইরানে। দেশটিতে অন্তত ৭৭ জন করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন, আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩৩৬ জন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২১, কুয়েতে ৫৬, বাহরাইনে ৪৭, লেবাননে ১২, ওমানে ১৩, ইসরায়েলে ১০, কাতারে সাত, জর্ডানে একজনের শরীরে নভেল করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।








