ক্যাসিনোর কারবারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে শেখ সেলিমের ছোট ভাই শেখ ফজলুর রহমান মারুফকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় তিনি সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হওয়ার আধা ঘণ্টা পর পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন বলে এক কর্মকর্তা জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য শুনতে ২৯ ডিসেম্বর শেখ মারুফকে তলব করে নোটিস পাঠান সৈয়দ ইকবাল।
‘ঠিকাদার জি কে শামীমসহ অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাদের শত শত কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্যাসিনো ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকা অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্জন করে বিদেশে পাচার ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের’ বিষয়ে বক্তব্য শুনতে নোটিসে মঙ্গলবার মারুফকে হাজির হতে বলা হয়।
গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় অবৈধভাবে চালানো ক্যাসিনো বন্ধে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অভিযান শুরু হলে এ কারবারে যুবলীগের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসে।
ওই অভিযানের মধ্যেই নিজের অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থসহ গ্রেপ্তার হন যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে ঠিকাদারি ব্যবসা চালিয়ে আসা জিকে শামীম। অনলাইন ক্যাসিনোর কারাবারে সম্পৃক্ততায় গ্রেপ্তার হন ব্যবসায়ী সেলিম প্রধান, যিনি ‘প্রধান গ্রুপ’ নামে একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের চেয়ারম্যান।
এই গ্রুপের কোম্পানি পি২৪ গেইমিং রীতিমত ওয়েবসাইটে ঘোষণা দিয়ে ক্যাসিনো ও অনলাইন ক্যাসিনোর কারবার চালিয়ে আসছিল। পি-টোয়েন্টিফোর গেইমিং ছাড়াও পি-টোয়েন্টিফোর ল ফার্ম লিমিটেডে সেলিম প্রধানের ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে রয়েছেন শেখ ফজলুর রহমান মারুফ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত ২১ অক্টোবর মারুফ ও তার স্ত্রী সানজিদা রহমানের পাশাপাশি পি-টোয়েন্টিফোর গেইমিং কোম্পানি লিমিটেড ও পি-টোয়েন্টিফোর ল ফার্ম লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে।
ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িতদের অবৈধ সম্পদের খোঁজে গত ৩০ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধানে নামে দুদক। মোট ১৮৭ জনের তালিকা ধরে ওই অনুসন্ধান চলছে বলে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জানান কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।
দুদকের অভিযোগের বিষয়ে শেখ মারুফের বক্তব্য জানতে পারেনি।








