Site icon CPLUSBD.COM

ক্যাসিনো কারবারে টিনের ঘর থেকে তিন বছরে ১৫ বাড়ি

রাজধানীর গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের নেতা এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়ার বাবার একটি টিনশেড বাড়ি ছিল ওয়ারীর মৈশুন্দি এলাকায়। তাঁরা তিন বছর আগে গেণ্ডারিয়া আওয়ামী লীগের কমিটিতে জায়গা করে নেন। এরপর যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার হাত ধরে ক্যাসিনো কারবারে যুক্ত হন তাঁরা। দুজনই খালেদের ডানহাত হিসেবে পরিচিত। এখন রাজধানীতে তাঁদের ১৫টির বেশি বাড়ি রয়েছে। রয়েছে বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাটও। নগদ টাকা আর বাড়ি-ফ্ল্যাট মিলে দেড় শতাধিক কোটি টাকার মালিক এই দুই ভাই।

যুবলীগ নেতা খালেদের হয়ে দুই সহোদর এনু ও রুপন সূত্রাপুর, গেণ্ডারিয়া ও ওয়ারী এলাকার অপরাধীচক্র নিয়ন্ত্রণ করতেন। এ জন্য তৈরি করেন ২৬ জনের বাহিনীও। এতে তাঁদের পরিবারেরই রয়েছে ১০-১২ জন। তাদের ভয়ে তটস্থ থাকত এলাকার লোকজন। চাঁদাবাজিসহ তাদের অন্যান্য অপকর্মের কথা জানলেও প্রতিবাদ করার সাহস পেতেন না স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

র‌্যাব, স্থানীয় লোকজন, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতারা এসব তথ্য দিয়েছেন।

ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর বন্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে প্রথমে র‌্যাব-৩-এর একটি দল সূত্রাপুর থানাধীন বানিয়ানগর এলাকার ৩১ নম্বর ছয়তলা বাড়িতে অভিযান চালায়। এটি এনু ও রুপনদের নিজেদের বাড়ি। ভবনটির দোতলায় এনুর ফ্ল্যাটে থাকা দুটি ভল্ট ও পাঁচতলায় রুপনের ফ্ল্যাটে থাকা একটি ভল্ট থেকে এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা, প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের আট কেজি স্বর্ণালংকার ও পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব খবর পায় আরো টাকা ও অস্ত্র আছে নারিন্দার দুটি বাড়িতে। এরপর ৮২/১ লালমোহন স্ট্রিটের দোতলায় এনুর কর্মচারী আবুল কালাম ওরফে কালার নিজস্ব ফ্ল্যাটে থাকা ভল্ট থেকে দুই কোটি টাকা ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এরপর শরত্গুপ্ত রোডের ২১/১/এ নম্বর দোতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে একটি ভল্ট থেকে দুই কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়। এ বাড়ির মালিক এনুর বন্ধু হারুনুর রশীদ। তবে তাঁদের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি র‌্যাব। পুরান ঢাকায় এনু ও রুপনদের ১৫টি বাড়ির সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও র‌্যাবের কাছে তথ্য আছে।

র‌্যাব-৩ সূত্র বলছে, ১৫টি বাড়ি ১০ কোটি টাকা করে হলে ১৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া তাঁদের ফ্ল্যাটও রয়েছে। পাওয়া গেছে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার। হিসাব করলে এনু ও রুপনের দেড় শ কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে।

র‌্যাব-৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক এ এস এম সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ‘এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরো মামলা দায়ের করা হবে।’

বুধবার ( ২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সূত্রাপুর থানাধীন দয়াগঞ্জ নতুন রাস্তার পাশে বানিয়ানগরের ৩১ নম্বর বাড়িটিতে গিয়ে দেখা গেছে, কলাপসিবল গেটে তালা লাগানো। কিন্তু বাড়ির সামনে মানুষের ভিড়। এসেছেন আশপাশের বাড়ির কয়েকজন নারীও।

তাঁদের একজন জানান, একসময় এনুর বাড়ির জায়গাটিতে কাসেমের রিকশার গ্যারেজ ছিল। বছর দুয়েক আগে হঠাৎ তাঁরা দেখতে পান গ্যারেজটি ভেঙে এনুরা বহুতল বাড়ি নির্মাণ করছেন। জমিটি দখল করা হয়েছে, নাকি তাঁরা এনুর কাছে বিক্রি করেছেন সেটা বলতে পারেননি তিনি।

স্থানীয় লোকজন বলেছে, এনু ও রুপন গত তিন বছরে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তাঁদের অবৈধ আয় দিয়ে বাড়ি বানানো ও ফ্ল্যাট কেনার নেশা ছিল।