Site icon CPLUSBD.COM

খাগড়াছড়িতে ডাকাতি-ধর্ষণ: ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

সিপ্লাস প্রতিবেদক: খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি পরিবারের বাড়িতে ঢুকে দলবেঁধে ধর্ষণ-ডাকাতির মামলায় নয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোপত্র দিয়েছে পুলিশ; যার মধ্যে একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তার বিচার হবে শিশু আদালতে।

শুক্রবার সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল আজিজ বলেন, আসামিদের মধ্যে দুইজন এখনও পলাতক রয়েছে। আর আটকতরা সবাই জবানবন্দি দিয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার রামগড় উপজেলার তৈচালা পাড়ার নুরুল আমিন (৪০), দারোগা পাড়ার মো. অন্তর (২০), খাগড়াছড়ি পৌর এলাকা কুমিল্লা টিলার বেলাল হোসেন (২৩), গঞ্জপাড়ার মো. আব্দুল হালিম (২৮), গুইমারা উপজেলার বড় পিলাক এলাকার ইকবাল হোসেন (২১), পশ্চিম বড় পিলাক এলাকার মো. শাহিন মিয়া (১৯), মাটিরাঙ্গা উপজেলার দক্ষিণ মুসলিম পাড়ার আব্দুর রশিদ (৩৭)।

পুলিশ একাধিক স্থান থেকে অভিযান চালিয়ে এসব আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতি হওয়া নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল সেট, ডাকাতিকালে ব্যবহার করা একটি নম্বর বিহীন অটোরিকশা, দরজা ভাঙ্গার একটি শাবল।

এসময় খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ও আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযানের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, আসামিরা প্রত্যেকে ধর্ষণের সাথে জড়িত ছিল এবং পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এর ফাঁকে ফাঁকে তারা ঘরে থাকা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার লুন্ঠন করে। ডাকাতি ও ধর্ষণ শেষ করে তারা বাড়ি থেকে বেড়িয়ে মাটিরাঙ্গার দিকে চলে যায়।

পুলিশ সুপার আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেকের নামে থানায় একাধিক মামলা আছে। এরমধ্যে অনেকে ধর্ষণ মামলার আসামিও আছে। এ ডাকাত দল জেলখানা বসে একে অপরের সাথে পরিচয় ঘটে। সেখানে তারা ডাকাত দল গঠন করে। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তারা আবার এ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ সুপার জানান, ডাকাতির ঘটনায় মোট ৯ জন অংশ নেয়। যে বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে সেখানে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। ডাকাতির আগে সেখানে একাধিকবার রেকি করে। বাড়িতে কে কে থাকে? বাড়ির অবস্থা কেমন সবদিক জানার পর তারা ডাকাতি করতে যায়। গিয়ে তারা শাবল দিয়ে দরজা ভাঙে। বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে বাড়িতে থাকা তিনজনকে বেধে ফেলে। বেধে ফেলার পর বাড়িতে থাকা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণ করে। পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় এবং লুন্ঠন করা হয়।

 পুলিশ সুপার বলেন, এখানে ডাকাতি ও ধর্ষণ দুটো ঘটনা ঘটেছে তাই এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার বিস্তারিত সব তথ্য আমাদের হাতে আছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যে যে অপরাধ করেছে সে সে শাস্তি পাবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ি শহরের বলপেইয়া আদামে একদল ডাকাত একটি বাড়িতে প্রবেশ করে ঘরে সবাইকে বেধে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীকে দল ধর্ষণ ও বাড়িতে ডাকাতি করে। পুলিশ এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত ৯ জনের মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকী দুজনকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।