নিউজটি শেয়ার করুন

খালেদার জামিন শুনানি হবে আপিলের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে

সোমবার আবেদনটির শুনানির কথা থাকলেও প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আবেদনটির শুনানি পিছিয়ে বৃহস্পতিবার দিন রাখে।

আপিল বিভাগের সোমবারের কার্যতালিকায় আবেদনটি শুনানির জন্য থাকলেও প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, “আবেদনটি আমরা সবাই মিলে শুনবো। বৃহস্পতিবার রাখছি।”

খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে আদালতে ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমদ ও জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, কায়সার কামাল, একে এম এহসানুর রহমান।

দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আইনজীবী জয়নুল আবেদীন পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আদালত বললেন, আগামী বৃহস্পতিবার ফুল বেঞ্চে শুনবেন। এটা সর্বোচ্চ আদালত। আমরা ন্যায়বিচার আশা করি।”

হাই কোর্ট গত ৩১ জুলাই খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনটি খারিজ করে দিলে গত ১৪ নভেম্বর আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী কায়সার কামাল।

খালেদা জিয়ার জামিন সরকার ‘আটকে রেখেছে’ বলে বিএনপি বরাবর অভিযোগ করে এলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছেন, জামিনের বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের এখতিয়ার, এক্ষেত্রে সরকারের কিছু করার নেই।

দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি খালেদা জিয়া জামিন পেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন বলেও জানিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা।

জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে আসা প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চার আসামির সবাইকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে গত বছর ২৯ অক্টোবর রায় দেয় বিচারিক আদালত।

পাশাপাশি তাদের ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর ট্রাস্টের নামে কেনা কাকরাইলের ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়।

ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান এ মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি হাতে পাওয়ার চার দিন পর গত বছর ১৮ নভেম্বর খালেদার দণ্ড বাতিল ও খালাস চেয়ে হাই কোর্টে আপিল করেন তার আইনজীবীরা।

৬৩৮ পৃষ্ঠার মূল রায়সহ প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার এই আপিলের সঙ্গে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদার জামিন আবেদনও করা হয়। গত ৩০ এপ্রিল ওই আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাই কোর্ট।

গত ২০ জুন এ মামলার রেকর্ড (মূল নথি) হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা পড়লে গত ২৩ জুন নথিভুক্ত জামিন আবেদনটি উপস্থাপন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। এরপর খালেদা জিয়া ও দুদকের আইনজীবীর বক্তব্য শোনে আদালত।

অপরাধের গুরুত্ব, সংশ্লিষ্ট আইনের সর্বোচ্চ সাজা এবং বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদাসহ অন্য আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত- এ তিন বিবেচনায় বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ৩১ জুলাই খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেয়।