নিউজটি শেয়ার করুন

খুলশী এলাকায় ভবন মালিক খুন, দারোয়ানের যোগসাজশে চাঁদাবাজির বলি!

খুলশী এলাকায় ভবন মালিক খুন

সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন ভবনের পাশ থেকে এক ব্যক্তির হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর নাম নেজাম পাশা (৬৫)। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তিনি ওই ভবনটির মালিক।  সোমবার সকালে নগরের খুলশী জালালাবাদ জমির হাউজিং এলাকা থেকে পুলিশ নেজাম পাশার লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশের সন্দেহ, চাঁদাবাজি এবং দারোয়ানে সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে নেজাম পাশাকে হত্যা করা হতে পারে। এ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন ভবনের দারোয়ান মো. হাসান।

নেজাম পাশা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার ধুরং এলাকার বাসিন্দা। খুলশী এলাকায় সাততলা একটি ভবন নির্মাণ করছেন তিনি। গ্রামের বাড়ি থেকে এসে তিনি নির্মাণকাজ তদারকি করতেন। এক বছর আগে তিনি দুবাই প্রবাসী ছিলেন।

নেজাম পাশার পরিবারের সন্দেহ চাঁদাবাজরা দারোয়ান মো. হাসানের যোগসাজশে এ হত্যাকান্ড ঘটাতে পারে।তাকে আসামী করে নেজাম পাশার স্ত্রী সেলিনা ইয়াছমিন বাদি হয়ে খুলশী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নেজাম পাশা ফটিকছড়ি থেকে প্রায়ই নগরীর জালালাবাদ এলাকার ভিআইপি রোডের পাশে নির্মাণাধীন সাত তলা ভবনের কাজ দেখতে যেতেন। অন্য সময়ের মতো রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালেও নেজাম পাশা জালালাবাদে যান। এদিন তিনি নির্মাণাধীন ভবনের কর্মচারীদের বেতনও দেন। কিন্তু সকাল ১০টা থেকে তার ফোনটি ধরা হচ্ছিল না। এমনকি একপর্যায়ে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। বাড়ির কাজ দেখাশোনার জন্য সেখানে হাসান নামের যে কেয়ারটেকার আছেন, তার কাছে নেজাম পাশার খোঁজ চাইলে তিনিও অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন।

রোববার সন্ধ্যা পার হওয়ার পরও নেজাম পাশার কোনো হদিস না পাওয়ায় তার বড় মেয়ে বড় মেয়ে নাজমুন শবনম নগরীর খুলশী থানায় জিডি করেন।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে জালালাবাদের স্থানীয় মসজিদের মুসল্লিরা নির্মাণাধীন ভবনের প্রায় ৪০ গজ দূরে উলঙ্গ অবস্থায় হাত-পা বাঁধা একটি লাশ দেখতে পান। সেই খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা এসে নেজাম পাশার লাশ শনাক্ত করেন।

নেজাম পাশা স্বজনরা জানান, ২০১৯ সালে জালালাবাদের ভবনটি তোলার শুরু থেকে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা চাঁদা চেয়ে আসছিল। কিন্তু নেজাম পাশা তাদের কোনো দাবিই কখনও মানেননি। কাউকে এক টাকা চাঁদা দিতেও রাজি ছিলেন না তিনি। এ কারণে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা তাকে খুন করতে পারে বলে স্বজনদের সন্দেহ।

অন্যদিকে জালালাবাদের নির্মাণাধীন ভবন দেখাশোনার জন্য যে কেয়ারটেকার রাখা হয়েছিল, তার সঙ্গেও নেজাম পাশার মনোমালিন্য ছিল। নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। আবার নেজাম পাশার লাশ উদ্ধারের পর থেকে হাসান নামের সেই দারোয়ান পলাতক রয়েছে।

চাঁদাবাজরা দারোয়ানের যোগসাজশে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পুলিশ এবং নেজাম পাশার পরিবারের ধারণা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here