সিপ্লাস প্রতিবেদক: আসামীরা সকলেই একটি সংঘবদ্ধ নারী চক্র। খোশগল্পের আড়ালে চুরি করা তাদের পেশা। তারা ৯/১০ জনের একটি টিম। তারা যেখানে যায় সেখানে আগে থেকে রেকি করে চুরি কিভাবে করা যায়। তারা সকলেই নির্মানাধীন বিল্ডিং টার্গেট করে। বিল্ডিংয়ের ভিতর কোথায় কি আছে সেটা আগে থেকে দেখে আসে। তারা একটি বিল্ডিংয়ে উঠার সময় কেউ যদি দাড় করায় তাহলে তাকে টাইলসের কাজ করার জন্য আসছে বলে জানায়। সে মোতাবেক কোন মিস্ত্রি যদি জিজ্ঞেস করে তাহলে তারা একই উত্তর দেয় যাতে কারো কোন সন্দেহ না হয়।
তাদের মধ্যে একজন সিড়ির নিচে থেকে পানের বাটা নিয়ে বসে থাকে এবং পান খাচ্ছে ও কিছু কাজ করার জন্য বসেছে এরকম ভাব নিয়ে থাকে আর অপরাপর আসামীরা সকলেই উপরে উঠে যায়। কেউ যদি সিড়ি দিয়ে উপরে উঠার চেষ্টা করে তাহলে তাকে দাড় করিয়ে খোশগল্প করতে থাকে যাতে উক্ত ব্যক্তি সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতে না পারে। এর ফাকে উপরে উঠা মহিলা আসামীরা ২য় তলায় উঠে সেখানে কি কি জিনিস আছে সেটা সাথে সাথে চেক করে তাৎক্ষনিক পরিকল্পনা নিয়ে ফেলে কিভাবে চুরি করে নিয়ে যাবে।
একপর্যায়ে তারা সুযোগ বুঝে বিল্ডিংয়ের তার (ক্যাবল), পাইপ ফিটিংসের মালামাল সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কৌশলে শাড়ির আড়ালে চুরি করে নিয়ে যায়। সুযোগ বুঝে চুরি শেষে তারা বিল্ডিং থেকে নেমে চলে যায়।
এনামুল হক প্রকাশ এনাম (৩৮) ও তার অংশীদাররা কোতোয়ালী থানাধীন ফিরিঙ্গী বাজার এয়াকুব নগর, প্রগতি সংঘ ক্লাবের পাশে ৩৫/বি হোল্ডিং এ একটি বহুতল ভবন নির্মানের কাজ করছেন। বিগত প্রায় ২০ মাস যাবত উক্ত বিল্ডিং এর নির্মান কাজ চলছে। বর্তমানে বিল্ডিং এর ০৮ তলার নির্মান কাজ চলছে। বিল্ডিং এর নির্মান কাজ করার জন্য আনা সকল মালামাল বিল্ডিং এর দ্বিতীয় তলায় একটি ষ্টোর রুম করে উহার মধ্যে রাখা হত। নির্মানাধীন হওয়ায় উক্ত ষ্টোর রুমের অস্থায়ী ভাবে করা দরজায় ছোট একটি তালা লাগিয়ে নির্মান সামগ্রী রাখা ছিল। বিল্ডিং এর নির্মান কাজ শুরু থেকে মো: সোহেল (২৬) উক্ত বিল্ডিং এর সিকিউরিটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। বিল্ডিং এর নির্মান সামগ্রীর সাথে বিল্ডিং ওয়ারিং কাজ করার জন্য বাল্ডিল আকারে তার (ক্যাবল), যার প্রতিটি বান্ডিলে অনুমান ১০ কেজি করে গোলাকারে বাঁধা অবস্থায় নির্মানাধীন বিল্ডিং এর ২য় তলায় ষ্টোর রুমে রাখা ছিল। তিনি মাঝে মাঝে বিল্ডিংয়ের নির্মাণ কাজ তদারকী সহ মালামাল সমূহ সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখেন।
গত ১২ এপ্রিল সন্ধায় তিনি নির্মানাধীন বিল্ডিং এর ষ্টোর রুমে পরীক্ষা কালে উহার মধ্যে থাকা মালামাল ও নির্মান কাজে ব্যবহৃত মালামাল যাচাই করিয়া মোট ৩৩ বান্ডিল ইলেক্ট্রিক সার্ভিস লাইনের তার (ক্যাবল) কম পান। পরবর্তীতে নিরাপত্তা কর্মী ও নির্মান কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা শেষে দেখেন যে ষ্টোর রুমের তালা পরীক্ষা কালে তালাটি খুব ছোট ও তা টান দিলে চাবি ছাড়া খুলে যায়। এটি দেখে তিনি ষ্টোর রুমে থাকা মালামালের নিরাপত্তার জন্য কিছু মালামাল নিচের তলায় নিরাপত্তা কর্মীদের অস্থায়ী রুমে রাখার ব্যবস্থা করেন। নির্মান কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও নিরাপত্তা কর্মী সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যে, গত ৯ ও ১২ এপ্রিল সকালে অপরিচিত কয়েক জন মহিলা বিল্ডিং এ এসে তারা টাইলস এর কাজের জন্য এসেছে বলে জানায়। তারা বিল্ডিংয়ের নির্মাণ কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন শ্রমিকদের সাথে বিভিন্ন কথাবার্তা বলে এক/দেড় ঘন্টা থাকার পর নিরাপত্তা কর্মীরা অন্যত্র ব্যস্ত থাকার সুযোগে করে চলে যায়। বিষযটি সন্দেহ হলে তিনি সকলের প্রতি নজর রেখে চুরি যাওয়া মালামাল সংক্রান্তে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকেন।
১৩ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টায় উপরোক্ত মহিলা আসামীগন পূনরায় নির্মানাধীন বিল্ডিংয়ে এসে তারা টাইলস এর কাজ করার জন্য দেখতে এসেছে জানিয়ে বিল্ডিং এর নির্মান কাজের জন্য নিয়োজিত ব্যক্তিদের সাথে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বসে খোশ গল্প করা আরম্ভ করে। নিরাপত্তাকর্মী মো: সোহেল পুর্বের দিনে আসা মহিলারা আবার এসেছে এবং বিভিন্ন কাজের কথা বলে সকলের সাথে গল্গ আরম্ভ করেছে বলে মোবাইলে এনামুল হক প্রকাশ এনাম (৩৮) কে জানালে তিনি তাদেরকে কৌশলে আটক রাখার জন্য নির্দেশ দিয়ে তাৎক্ষনিক নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ে চলে আসেন। ধৃত মহিলাদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা কার নির্দেশে কি কাজ করার জন্য এসেছে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা বিভিন্ন অসংলগ্ন কথা বার্তা বলে। বিল্ডিং এর নির্মান কাজ করার জন্য নিয়োজিত কন্টাক্টরের প্রতিনিধি মো: মফিজ ও টাইলস এর কাজ করার জন্য নিয়োজিত ঠিকাদার মো: হায়দারকে জিজ্ঞাসা করলে তারা কোন মহিলা শ্রমিক কোন কাজের জন্য নিয়োজিত করেন নাই বলে জানান।
স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে মহিলাদের কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা নির্মানাধীন ভবনের ষ্টোর রুম থেকে সার্ভিস তার (ক্যাবল) চুরি করার কথা স্বীকার করে। তারা পরিকল্পিতভাবে নির্মানাধীন বিল্ডিং এ প্রবেশ করে নিয়োজিত নির্মান শ্রমিক ও নিরাপত্তা কর্মীদের বিভিন্ন কথার মাঝে ব্যস্ত রেখে ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৮টা ও ১২ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে যে কোন সময়ে নির্মানাধীন বিল্ডিং এর ২য় তলায় অস্থায়ী ষ্টোর রুমে প্রবেশ করে ওর মধ্যে থাকা মালামাল হতে ৩৩ বাল্ডিল ইলেক্ট্রিক সার্ভিস লাইনের তার (ক্যাবল), যাহার মূল্য অনুমান ২,১০,০০০/-(দুই লক্ষ দশ হাজার) টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। ১৩ এপ্রিল তারা একই ভাবে চুরি করার জন্য এসেছিল।
এসআই সুকান্ত চৌধুরী, এএসআই ইউসুফ আলী থানা থেকে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত শুনে উপরোক্ত মহিলদেরকে হেফাজতে নেয়। আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা তাদের নাম ঠিকানা প্রকাশ করে এবং নির্মানাধীন বিল্ডিং হতে উক্ত তার (ক্যাবল) চুরি করার কথা স্বীকার করলেও চোরাই মালামাল সংক্রান্তে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কথা বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এনামুল হক প্রকাশ এনাম (৩৮) বাদী হয়ে এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করেছেন।








