সিপ্লাস প্রতিবেদক: গত ১৪ এপ্রিল থেকে চলমান কঠোর লকডাউনে তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর আবারও শর্ত দিয়ে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নেন সরকার। এদিকে গণপরিবহন চালুর প্রথমদিনে চট্টগ্রাম নগরীর সড়কজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এসময় যাত্রী ও চালক এবং হেলপারের মুখে মাস্ক পরার তেমন চিত্র দেখা যায়নি।
বৃহস্পতিবার (৬ মে) সকালে নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গাদাগাদি করে যাত্রী উঠানামাসহ দিগুণ ভাড়া আদায়ের পুরোনো হালচালে ফিরেছে গণপরিবহনগুলো। অধিকাংশ যাত্রীর অভিযোগ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হচ্ছে। অন্যদিকে মাঠে থাকা ট্রাফিক সার্জেন্টেরা এরকম পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন স্থানে সড়কজুড়ে তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ নগরবাসী। স্টেশন রোড, পোর্ট কানেকটিং রোড, অক্সিজেন মোড় , মুরাদপুর, ২নং গেইট, বহদ্দারহাট, ইপিজেড, বন্দর, সল্টগোলা ক্রসিং, আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন স্থানে ভারী মালবাহী যানবাহন ও গনপরিবহন চলাচল শুরু হওয়ায়। তীব্র যানজটের শিকার হচ্ছে নগরবাসী।
বন্দর এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, কাস্টমস থেকে ইপিজেড সড়কে সবসময় যানজট লেগেই থাকে। এই সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করা মানুষের ভোগান্তি আজ নতুন নয়। আমাদের চলাচল করতে খুবই কষ্ট হয়। এ ছাড়া নগরীর লালখানবাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজ চলার কারণে রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা যানজট লেগে থাকে। ১৬ কিলোমিটারের এই দূরত্বের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ যানজট তীব্রতর করছে। পোর্ট কানেকটিং রোডের বড়োপোল থেকে অলংকার পর্যন্ত রাস্তার একপাশ বন্ধ থাকায় একপাশ দিয়েই চলছে যানবাহন। তাই এই রাস্তায় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। কাস্টমস মোড় থেকে সল্টগোলা ক্রসিং পর্যন্ত সড়কজুড়ে উল্টোমুখী যান চলাচল করছে অবলীলায়। তাতেও সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। যানজটের পাশাপাশি গণপরিবহন চালুর প্রথম দিনই দেখা গেছে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই গনপরিবহনে। যাত্রী আর চালক-হেল্পার অনেকের মুখেই নেই মাক্স । অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের বদলে আসন সংখ্যা পূরন হয়ে দাঁড়ানোর তো জায়গা নেই বরং ঝুলে ঝুলে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে।
গণপরিবহন গুলো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চলাচলের বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এই প্রশ্নের জবাবে দায়িত্বরত এই সাজেন্ট জানান, সড়কে গণপরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
সেগুলো হলো- আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ রাখা; কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে উল্লিখিত মোট আসন সংখ্যার অর্ধেকের (৫০ শতাংশ) বেশি যাত্রী বহন না করা; সমন্বয়কৃত ভাড়ার (বিদ্যমান ভাড়ার ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি) অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা; ট্রিপের শুরু ও শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত করা এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট মোটরযান চালক, অন্যান্য শ্রমিক কর্মচারী ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনে গত ১৪ এপ্রিল থেকে বন্ধ হয়ে যায় গণপরিবহন। টানা তৃতীয় দফা বিধিনিষেধের মধ্যে (লকডাউন) আজ বৃহস্পতিবার (৬ মে) থেকে অর্ধেক যাত্রী এবং বর্ধিত ভাড়ায় গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়।








