নিউজটি শেয়ার করুন

গণফোরামের বঞ্চিত নেতারা ক্ষোভ ঝাড়লেন, কাল বর্ধিত সভা

গণফোরামের আহ্বায়ক কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা। ছুড়ে ফেলা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে রাজনীতি করা নেতাদেv। এ নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন বঞ্চিতরা।

নতুন কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে ড. কামাল হোসেনকে। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ড. রেজা কিবরিয়াকে। কমিটিতে রাখা হয়নি দলটির সাবেক নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ অন্তত ডজন খানেক সিনিয়র নেতাকে।

গণফোরামের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কমিটিতে স্থান না পাওয়া নেতারা। তারা বলছেন, এটা গঠনতন্ত্রবহির্ভূত এবং নীতি–আদর্শবিরোধী ব্যক্তিদের দ্বারা এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ১৪ মার্চ তারা বর্ধিত সভা ডেকেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে বঞ্চিত নেতারা বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নেন।

বৃহস্পতিবার রাতে গণফোরামের আগের কমিটির দফতর সম্পাদক মো. আজাদ হোসেনের স্বাক্ষরে এক বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, গণফোরামের মহানগর কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অগঠনতান্ত্রিক ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভেঙে দেয়া ও অভিনব কায়দায়, গঠনতন্ত্রবহির্ভূত পন্থায়, মনগড়া ও গণফোরামের ত্যাগী, নিষ্ঠাবান নেতাদের বাদ দিয়ে গণফোরামের নীতি–আদর্শবিরোধী ব্যক্তিদের দ্বারা কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করায় তীব্র নিন্দাসহ ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান না পাওয়া নেতাদের অভিযোগের তীর নতুন সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়ার দিকে। তারা অভিযোগ করেন, ১০ মাসে কেন্দ্রীয় কমিটির সভা আহ্বান করার জন্য কামাল হোসেন ও রেজা কিবরিয়াকে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও কোনো সভা আহ্বান করা হয়নি। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির সভার আহ্বানকারী ৫৯ জনের মধ্য থেকে ১৮ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয় এবং পরে তাদের মধ্য থেকে চারজন কেন্দ্রীয় নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এ নেতাদের আরও অভিযোগ, এসব বিষয়ে গণফোরামের জ্যেষ্ঠ নেতারা কামাল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করলে তিনি সাংগঠনিক সমস্যা নিরসনের আশ্বাস দিলেও সমাধান করেননি। কিন্তু অবৈধ ও অগঠনতান্ত্রিকভাবে কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেয়া হয়।

এই নেতারা ১৪ মার্চ শনিবার বেলা তিনটায় গণফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বর্ধিত সভা করবেন। গণফোরামের নেতা হেলালউদ্দিনের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার, লতিফুল বারী প্রমুখ।

রেজা কিবরিয়া স্বাক্ষরিত গতকালের বিজ্ঞপ্তিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাইরে ৭০ জনকে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন— মোকাব্বির খান এমপি, আ ও ম শফিকউল্লাহ, আবদুল আজিজ, মহসিন রশীদ, এএইচএম খালেকুজ্জামান, শান্তিপদ ঘোষ, জানে আলম, সগির আনোয়ার, সুরাইয়া বেগম, সেলিম আকবর, মোশতাক আহমেদ, ড. মাহবুব হোসেন, ড. শাহজাহান, আবদুর রহমান জাহাঙ্গীর, মেসবাহউদ্দীন আহমেদ, ডা. মিজানুর রহমান, এনামুল হক (যুক্তরাজ্য), ফরিদা ইয়াসমীন, মুজিবুল হক, মির্জা হাসান, আইয়ুব করম আলী, হিরণ কুমার দাস মিঠু, আনসার খান, ইসমাইল, এম শফিউর রহমান খান বাচ্চু, রবিউল ইসলাম তরফদার রবিন, আবুল কালাম আজাদ, রতন ব্যানার্জি, আবুল হাসেন জীবন, হারুনুর রশিদ তালুকদার, এসএম শাফি মাহমুদ, লিংকন চৌধুরী, আমজাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।

সুব্রত চৌধুরী, আবু সাইয়িদ ও মোস্তফা মহসিন মন্টুর বাদ পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে তাদের রাখা হয়নি। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংগঠনে কার কি অবদান এসব চিন্তা করেই কমিটি দেয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, দলের ভেতরে অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টি এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

সুব্রত চৌধুরীর বাদ পড়ার কারণ জানতে চাইলে রেজা কিবরিয়া বলেন, উনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে পার্টির গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। কিন্তু সংগঠন শক্তিশালী করতে এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কতটুকু অবদান রাখতে পেরেছেন?

মোস্তফা মহসীন মন্টুর বিষয়ে তিনি বলেন, আগের কমিটিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন না। তাই আহ্বায়ক কমিটিতে তার থাকা না থাকা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তেমন আগ্রহ নেই।

রেজা কিবরিয়া বলেন, আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দলের কাউন্সিল করব। আজকে নতুন আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। জেলা মহানগর সম্মেলনগুলো শেষ করেই আমরা কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করব।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৪ মার্চ কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। একই সঙ্গে পরবর্তী কাউন্সিল না হওয়ার পর্যন্ত দুই সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন।

আহ্বায়ক কমিটিতে কামাল হোসেন নিজেকে সভাপতি এবং বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করেন।