সিপ্লাস ডেস্ক: করোনা উপেক্ষা করে চলতি মৌসুমে ব্যাপকহারে মিঠাপানির গলদা চিংড়ি চাষ হলেও দাম না পেয়ে হতাশ নড়াইলের চিংড়ি উৎপাদনকারী ঘের মালিকেরা। স্থানীয় ক্রেতাদের দাবি, সিন্ডিকেটের কারণে ভালো দামে চিংড়ি বিক্রি করতে না পেরে তারাও লোকসান গুনছেন। মিঠাপানির চিংড়ি উৎপাদনে দেশের ৫ম স্থানে থাকা এই জেলায় আগামীতে রপ্তানীযোগ্য এই পণ্য উৎপাদন ব্যহত হবার আংশকা দেখা দিয়েছে।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি বড় খাত চিংড়ি। এ কারণে দিন দিন নড়াইলে গলদা চিংড়ি চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। করোনার মধ্যেই জেলার কয়েক হাজার চিংড়ি ঘেরে এ বছর প্রচুর পরিমাণে গলদা চিংড়ির চাষ হয়েছে। মাছের আকার দেখে চাষিরা খুশি হলেও আড়তে দাম না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন তারা।
চাচুড়ী এলাকার ঘের মালিক তৌরুত মোল্যা বলেন, গত বছর ৭টি কেজির যে চিংড়ি বিক্রি করেছি ১৫০০ টাকা। এ বছর তা বিক্রি করতে হচ্ছে সাড়ে ৯০০ টাকায়, কেজিপ্রতি প্রায় ৫০০ টাকা কমে বিক্রি করছি। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে চিংড়ি চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
একই এলাকার আরেক চিংড়ি চাষি খসরুজ্জামান বলেন, করোনার মধ্যে সব কাজ বাদ দিয়ে যে মাছ উৎপাদন করলাম তা দেখে খুবই ভালো লাগছে। কিন্তু দাম যা পাচ্ছি তাতে কষ্ট হচ্ছে। মাছের খাবার, জন সব কিছুর দাম বাড়তি। কেন চিংড়ির দাম পড়ে গেল তা বুঝতে পারলাম না।
জেলার বাশগ্রাম, চাচুড়ী, মির্জাপুর, তুলারামপুর, মাইজপাড়াসহ বিভিন্ন আড়তে প্রতিদিন মনকে মণ চিংড়ি আসলেও মাছ কিনে লোকসান গুনছেন ব্যাপারীরা। আড়তগুলোতে প্রতিদিন শতশত মণ মাছ কেনাবেচা হলেও ব্যাপারীরা হতাশ।
এ বছর মাছের ফলন বেশী হওয়ায় নতুন করে কয়েকটি এলাকায় আড়ত বসেছে। বাঁশগ্রাম বাজারে নতুন ভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি আড়তে গড়ে দৈনিক ৩০/৪০ মণ মাস আসছে। এসপি মৎস্য আড়তের মালিক তরুণ উদ্যোক্তা শফিউল আজম পাশা বলেন, এলাকায় গলদা চিংড়ির ফলন বেশী হয়েছে। তবে এ বছর কম্পানিগুলোর কারণে চিংড়ি চাষি কিম্বা ব্যাপারী কেউই লাভবান হচ্ছে না।
স্থানীয় বাঁশগ্রামের মাছ ক্রেতা শরীফুল ইসলাম বলেন, আমরা এখান থেকে মাছ কিনে তা খুলনা আর চট্টগ্রাম পাঠাই। সেখান থেকে কম্পানির লোকরা যে দাম দেয় তাই নিতে বাধ্য হই। বর্তমানে কম দামে মাছ কিনেও তাতে প্রতিকেজিতে ৫০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
সরজন নামের আরেক ব্যাপারী বলেন, গত কয় মাসে আমি ৫০ মণ মাছ কিনে চট্টগ্রামে পাঠাইছি। এ পর্যন্ত আমার প্রায় ৫ লক্ষ টাকা লোকসান হয়েছে। সিন্ডিকেট করে একটি মাত্র কম্পানি মাছ কিনছে তারা যে দাম দেয় তাই নিতে হয় বাধ্য। এ বছর মাছে প্রচুর লোকসান হচ্ছে।
জেলা মৎস্য অফিসের হিসাবে, গত ২০১৯ মৌসুমে জেলায় মোট ২ হাজার ৩২৭ হেক্টর এলাকায় গলদা চাষ হয়েছে। ৫ হাজার ৫৯১টি ঘেরে ২হাজার ৬৯০ মে.টন গলদা চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে। যার সবই রপ্তানীতে চলে গেছে। চলতি মৌসুমে গলদা চিংড়ি উৎপাদনের পরিমাণ গতবছরের চেয়ে বেশী হবে। প্রায় ৫ হাজার চাষি আর শ্রমিক মিলে প্রায় ৩০ হাজার লোক চিংড়ি চাষের এই জীবিকার সাথে জড়িত।
নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফারুকুল ইসলাম বলেন, করোনায় সরকারি সহজ ঋণের কারণে উৎপাদন ভালো হয়েছে। চিংড়িতে ইউরোপের বাজার খোলা থাকলেও কম্পানিগুলো সিন্ডিকেট করেছে। জেলায় সরাসরি রপ্তানীকারকের মাধ্যমে মাছ ক্রয়ের ব্যবস্থা না থাকায় চাষিরা দাম পাচ্ছে না।
প্রান্তিক পর্যায়ে বাজার ব্যবস্থা উন্নত করে সরাসরি রপ্তানীকারকের কাছে মাছ বিক্রি করতে পারলে রূপালী সোনা নামে খ্যাত এই রপ্তানী পণ্যের উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে।

