সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার গারাংগিয়ার পীর সাহেব হযরত শাহ হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাছান ছিদ্দিকী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না-লিল্লাহি লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজেউন)।
বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করে।
তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বৎসর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, তিন কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, ভক্ত-মুরিদান রেখে যান। বেশ কিছুদিন থেকে তিনি ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে ভূগছিলেন। সোস্যাল মিডিয়ায় তাঁর ইন্তেকালের সংবাদ প্রচার হওয়ার সাথে সাথে গারাংগিয়া দরবারের ভক্ত মুরিদানের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
আগামীকাল ২০ আগস্ট জুমাবার সকাল এগারটায় গারাংগিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা ময়দানে নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে।
জানাযায় ইমামতি করবেন মরহুমের জ্যেষ্ঠ সন্তান আল হাছান ইসলামী কমপ্লেক্সের চেয়ারম্যান, গারাংগিয়া ইসলামিয়া রব্বানী মহিলা ফাযিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি মাওলানা এআরএম মহিউদ্দিন রাশেদ।
গারাংগিয়ার পীর সাহেব শাহ হাফেজ আল্লামা মুহাম্মদ মাহমুদুল হাছান ছিদ্দিকী ছিলেন ইমামুত তরিকত হযরত শাহছুফি আল্লামা আবদুর রশিদ হামেদী ছিদ্দিকী প্রকাশ গারাংগিয়ার ছোট হুজুর কেবলার ৪র্থ সন্তান। তিনি নিজের বড় আব্বা সুলতানুল আউলিয়া শাহছুফি আল্লামা আবদুল মজিদ প্রকাশ গারাংগিয়ার বড় হুজুর কেবলা (রাহ.) ও স্বীয় পিতার হাতে খেলাফতপ্রাপ্ত ছিলেন।
প্রাথমিক থেকে শুরু করে হেফজখানায় ভর্তি এবং হেফজ শেষে মাদ্রাসায় ভর্তি- সবই তাঁর বড় আব্বার তত্বাবধানে তিনি সম্পন্ন করেন। গারাংগিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় ফাযিল পর্যন্ত লেখাপড়া শেষ করে চট্টগ্রামের দারুল উলুম মাদরাসা থেকে কৃতিত্বের সাথে কামিল শেষ করে হযরত বড় হুজুর কেবলার ঐকান্তিক ইচ্ছাতে গারাংগিয়া মাদ্রাসাস্থ মসজিদে বায়তুর রহমত ও গারাংগিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় শিক্ষকতায় যোগ দেন।
দীর্ঘ ৪৩ বৎসর শিক্ষকতা শেষ করে ২০১৮ সালে তিনি অবসরে যান। তিনি ‘ইমাম সাহেব হুজুর’ নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন। অত্যন্ত সহজ সরল ও অমায়িক স্বভাবের অধিকারী ছিলেন হযরত শাহ হাফেজ শাহ মাওলানা মাহমুদুল হাছান ছিদ্দিকী।
সহনশীলতা, আত্মশুদ্ধি ও খোদাভীতির এক জ্বলন্ত আধার ছিলেন তিনি। সুন্নাতে রাসূলের পরিপূর্ণ অনুসরণ করে আমৃত্যু তরিকতের খেদমতের আঞ্জাম দিয়ে গেছেন তিনি।
কাদেরিয়া, মুজাদ্দেদিয়া, চিশতিয়া, নক্সবন্দিয়াসহ আট তরিকার খেলাফত প্রাপ্ত ছিলেন। তাঁর হাতে খেলাফত প্রাপ্ত খলিফাগণ বর্তমানে বিভিন্ন খানকায় তরিকতের খেদমতে নিয়োজিত আছেন। তিনি নিজেও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত গারাংগিয়া তরিকতের খানকায় গিয়ে তরিকতের জিকির-আযকারের মাহফিল পরিচালনা করতেন।
তিনি গারাংগিয়া ইসলামিয়া রব্বানী মহিলা ফাযিল মাদ্রাসা ও শাহ মজিদিয়া রশিদিয়া এতিমখানার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এই দুই প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক অবদান রাখেন। তাঁর মেঝ ছেলে প্রফেসর ড. এইস. এম এরশাদ উদ্দিন স্বনামধন্য একজন স্কলার।
তিনি বর্তমানে তুরস্কের বিখ্যাত আনাতুলিয়া মারমারা ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনায় নিয়েজিত আছেন।
এদিকে, গারাংগিয়ার পীর শাহ হাফেজ আল্লামা মাহমুদুল হাছান ছিদ্দিকীর ইন্তেকালে গভীর শোক জ্ঞাপন বিবৃতি প্রদান করেছেন চট্টগ্রাম- ১৫ সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও আইআইইউসি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এর উপাচার্য প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফ, বায়তুশ শরফের পীর সাহেব আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী (মু.জি.আ), শাহ মজিদিয়া রশিদিয়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক আহমদুল ইসলাম চৌধুরী।
বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে এতজন প্রতিথযশা, শ্রদ্ধাভাজন ও শীর্ষস্থানীয় আলেমের ইন্তেকাল দেশ-জাতি ও মুসলিম মিল্লাতের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। তাঁরা গারাংগিয়ার পীর সাহেব হযরত শাহ হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাছান ছিদ্দিকীর জন্য জান্নাতের আ’লা মাকাম কামনার পাশাপাশি শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।








