নিউজটি শেয়ার করুন

গুলি করে উধাও কাউন্সিলর আলমগীর: গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত

সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় সাইফুদ্দিন খান (৪৯) নামে এক ব্যবসায়ীর পায়ে গুলির ঘটনায় মামলা হলেও প্রধান আসামী পৌরসভার কাউন্সিলর আলমগীর আলী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

তিনি রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক।

পুলিশ বলছে ঘটনার পর তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে তাঁর অবৈধ অস্ত্রের উৎসের।

স্থানীয় একটি মসজিদ পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরে গত বুধবার (১৪ এপ্রিল) বিকালে পশ্চিম গহিরার শেখ ইব্রাহিম জামে মসজিদ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ব্যক্তিরা গুলিবিদ্ধ সাইফুদ্দিনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাঁর পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে রাউজান থানায় প্রধান আসামি কাউন্সিলর আলমগীর আলীর (৫৪) ও তার দুই ভাই রাশেদ আলী (৪৩) ও এরশাদ আলীসহ (৪০) মোট আটজনকে আসামি করে এ মামলা করেন গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ীর ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন।

মামলার বাদী সাইফুদ্দিনের ছোট ভাই রাউজান পৌর যুবলীগের জ্যেষ্ঠ সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন এজাহারে উল্লেখ করেন, আমার সামনেই কাউন্সিলর আলমগীর আলী পকেট থেকে পিস্তল বের করে আমার ভাইয়ের পায়ে দুবার গুলি করেন।  প্রথমবার গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দ্বিতীয়বার ভাইয়ের বাঁ পায়ে গুলি লাগে।

তিনি এই হত্যাচেষ্টার বিচার চান।

স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় শেখ ইব্রাহিম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন কাউন্সিলর আলমগীর আলীর বাবা মৃত আলী আজম। বেশ কিছুদিন আগে তিনি মারা যাওয়ার পর থেকে আর নতুন কমিটি হয়নি। মসজিদের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় কাউন্সিলর আলমগীর আলীদের হাতে।

এ নিয়ে পৌর যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন ও আলমগীর আলীর পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে সম্প্রতি মসজিদে লাশ বহনের একটি খাটিয়া দেন স্থানীয় এক প্রবাসী। কিন্তু এর বিরোধিতা করে খাটিয়াটি ওই প্রবাসীর বাড়িতে ফেরত পাঠায় একটি পক্ষ।  এ নিয়ে বুধবার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।  তখন কাউন্সিলর আলমগীর আলী ব্যবসায়ী সাইফুদ্দিনের পায়ে গুলি করেন।

রাউজানে গুলিতে আহত সাইফুদ্দিন খান।

আলমগীর আলী আর আবদুল্লাহ আল মামুন একই এলাকার পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা হলেও তাঁদের মধ্যে নানা বিষয়ে বিরোধ আছে। আহত সাইফুদ্দিন খান একসময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকতেন। পরে দেশে ফিরে মুরগির খামার ব্যবসায় যুক্ত হন।

মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। লাশ পরিবহনের জন্য মসজিদে খাটিয়া দানকে কেন্দ্র করে কিছুদিন ধরেই এলাকার দুই পক্ষের বিরোধ চলছিল।

ঘটনার পর এ বিষয়ে কাউন্সিলর আলমগীর আলী গণমাধ্যমে বলেন, ‘বুধবার বিকেলে কিছু লোক মসজিদের উন্নয়নকাজে বাধা দেন। মসজিদের জন্য দান করা খাটিয়া ওই প্রবাসীর বাড়িতে ফেরত পাঠান তাঁরা। এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক ব্যক্তির আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হয়েছেন। আরও বেশ কয়েকজন আহত হন। তবে গোলাগুলির ঘটনা বানানো কথা। আমি কাউকে গুলি করিনি।’

রাউজান থানার ওসি আবদুল্লাহ আল হারুন জানান,  এ ঘটনায় মাঠে নেমেছে পুলিশ।  কাউন্সিলর আলমগীর আলীসহ অভিযুক্ত আট আসামিকে গ্রেফতার করা জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।আলমগীর আলীর মোবাইল ফোন বন্ধ।তাঁর নামে নিবন্ধন করা কোন অস্ত্র নেই। সন্ধান করা হচ্ছে অবৈধ অস্ত্রের উৎস।