চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানা পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডের বড়ুয়া বিল্ডিংয়ের নিচে রহস্যজনক বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গ্যাস লাইন থেকে বিস্ফোরণ বলে ধারণা করা হলেও ভবনটির আবাসিক সংযোগের রাইজারটি অক্ষত থাকায় এ দাবিটি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এই ঘটনা অনুসন্ধানে তদন্ত কাজ শুরু করেছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও চলছে তদন্ত কাজ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক জনের সাথে কথা বলে এখন পর্যন্ত কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে কাজ করছে তদন্ত টিম৷ ধারণা করা হচ্ছে ভবনের নিচে থাকা সেফটি ট্যাঙ্কে জমে থাকা গ্যাস বিষ্ফোরিত হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া এখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেখা হচ্ছে এই বিস্ফোরণের পেছনে কোন কেমিক্যাল বা বিষ্ফোরক আছে কিনা। সেই সাথে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিষ্ফোরনের বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই মুহূর্তে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কেউ মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছে, বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর পুরো আশপাশের এলাকা ধোয়াচ্ছন্ন হয়ে যায়, তবে তারাও কোনো আগুন দেখতে পায়নি বলে দাবি করেন।
এদিকে চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন সিপ্লাসকে জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলে অগ্নিকান্ডের কোন আলামত তারা এখনও পর্যন্ত পায়নি। বড়ুয়া বিল্ডিং এর নিচতলায় বিগত ১০ বছর ধরে ভাড়ায় থাকছে কাজল কান্তি নাথ ও তার পরিবার। ঘটনার সময় গৃহকর্তা বাসায় না থাকলেও সেই সময় ঘরে ছিল তার মেয়ে ছেলে সহ এক নিকট আত্মীয়। দুর্ঘটনার কয়েক মিনিট আগে তার বড় ছেলে নাস্তা আনতে বাসার বাইরে যাওয়াই দুর্ঘটনায় থেকে সে বেঁচে যায়। তবে কাজল কান্তির গুরুতর আহত মেয়ে অর্পিতাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গিয়ে দেখা যায় মেয়েটির মুখমণ্ডলসহ শরীরের বেশিরভাগ চামড়া ঝলসে গেছে। কাজল কান্তি ছেলে সিপ্লাস কে বলেন, নাস্তা আনতে পাশের হোটেলে গেলে সেখানে সে বিকট শব্দ শুনতে পায়। সে বাসায় ফিরে এসে দেখে তার বাসার সবকিছু লণ্ডভণ্ড এবং তার দিদি আহত অবস্থায় দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে গেছে। তার দিদির শরীর কিভাবে পুড়ে গেছে সেটাও সে বুঝতে পারেনি।

এই বিষ্ফোরনের ভয়াবহতা এতটাই মারাত্মক ছিল যে, বড়ুয়া ভবনের নিচতলার লোহার গেট অপারের ফার্মেসির ভেতর পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলো। বিস্ফোরণটি মূলত ভবনের বাহির দিকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণে রাস্তায় থাকা পথচারী রিকশাযাত্রী, রিকশাচালক, ক্ষুদ্রব্যবসায়ীরাই বেশি হতাহত হয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসী এই দুর্ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে। এই দুর্ঘটনার পেছনে যে রহস্য থাকুক না কেন তদন্তে উঠে আসবে বলে আশা করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।








