নিউজটি শেয়ার করুন

ঘটনাস্থলের অদূরে পুলিশের বাঁশি, পালাল ডাকাত দল!

রাউজানে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে এক দূর্ধর্ষ ডাকতির ঘটনায় নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল লুটে নিয়েছে ডাকাত দল।

শুক্রবার( ২০ ফ্রেবুয়ারি) রাত ২টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের ৮ নং ওর্য়াডস্থ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মৃত শেখ শফিউল ইসলামের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ডকাত দলের সদস্যদের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে শেখ আক্তারুজ্জামান পারভেজ(৪০) নামের একজন আহত হয়েছেন। তিনি ডাকাত কবলিত পরিবারের সদস্য শেখ জহিরুল ইসলামের একমাত্র পুত্র।

ডাকাত কবলিত বাড়ির সদস্য আহত শেখ আক্তারুজ্জামান পারভেজ বলেন, রাত দুইটার দিকে আমাদের দ্বিতল বিশিষ্ট বাড়ির নিচ তলার সিঁড়ি ঘরের পাশের দরজাটি ভেঙ্গে ৫-৬ সদস্যের একটি ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করেন। এই সময় তারা আমাকে দেশীয় অস্ত্র দ্বারা আমার মাথায় আঘাত করে জখম করেন। তারা ঘরে প্রবেশ করে মহিলা সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ পঞ্চান্ন হাজার টাকা, দশ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও পাঁচটি মোবাইল লুটে নেন। এর পর ডাকাত দলের কয়েকজন সদস্য দ্বিতীয় তলায় থাকা আমার জেঠা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মৃত শেখ শফিউল ইসলামের পরিবারে হামলা চালায়।

তিনি আরো বলেন, ডাকাতি সংগঠিত কালে পুলিশ ঘটনাস্থলের অদূরে উপস্থিত হয়ে বাঁশি দিলে ডাকাত দল পালিয়ে যায়। এই ঘটনার থানায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মৃত শেখ শফিউল ইসলামের পুত্র শেখ নাহিদুল ইসলাম, বলেন, ডাকাত দল নিচ তলা হতে উপরে উঠে আমাদের গায়ের কাপড় দ্বারা আমাদের হাত বেঁধে নেন। এরপর তারা আমাদের ব্যবসায়ের থাকা নগদ দুই লক্ষ টাকা , ১৮ ভরি স্বার্ণালঙ্কার, ৪টি মোবাইল নিয়ে যান। এই ঘটনায় আমরা মামলা করব।

এই ব্যাপারে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ডাকাতির সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ভুল তথ্যের কারণে পুলিশ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের বাড়িটি ঘেড়াও করে নিয়মানুসারে বাঁশি দেন। পরে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ডাকাত দল ততক্ষণে পালিয়ে যান। আমরা ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করি। এই ঘটনার ডকিতি কবলিত পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

২১ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) বেলা ১ টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাউজান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম এহেছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কেপায়েত উল্লাহ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল জব্বার সোহেল, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি দুলাল বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম, সংগঠক মহিউদ্দিন ইমনসহ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিগণ।

উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম এহেছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল এই সময় জেলা পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাথে যোগাযোগ করেন। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহকে ঘটনায় জড়িত প্রকৃত ডাকাতদের দ্রুত খুঁজে বের করে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।