মো: মহিন উদ্দীন: চট্টগ্রামে হঠাৎ বেড়ে গেছে ঘরে ঘরে জ্বর। এই জ্বর সবার মাঝে দেখা যাওয়ায় উদ্বিগ্ন আক্রান্ত পরিবার। তাদের মাঝে আরও আতংক বিরাজ করে করোনা নাকি ডেঙ্গু রোগ নিয়ে।
তবে করোনাকালে কেবল এ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে তা নয়। করোনার আগেও একই অবস্থা ছিল। তবে এ জ্বরে ছোট বড় সবাই আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। ঋতু পরিবর্তনের সাধারণ জ্বর এবং করোনার কারণে জ্বরের মধ্যে অনেক পার্থক্য। জ্বর হলে ভয় পাওয়া বা অযথা আতঙ্কিত হওয়া উচিত নয় বলে জানালেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক এবং কভিড-১৯ ও টিকাদান কর্মসূচির প্রধান সমন্বয়ক ডা. সাজ্জাদুল ইসলাম
মনে রাখা দরকার, মন দুর্বল হয়ে গেলে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কমে যায়। ভিটামিন প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়া প্রয়োজন। শিশুদের ক্ষেত্রে বেবি ফুড, এনার্জি ড্রিঙ্ক বা ফুড সাপ্লিমেন্ট কনও সুষম আহারের বিকল্প হতে পারে না।
এদিকে, হঠাৎ করে করোনা মহামারির মাঝেই ডেঙ্গু ও আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে কম বেশি সবার মধ্যে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় প্রচন্ড ভয় সাধারণ মানুষের মাঝে।
চমেকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এই জ্বর করোনার নতুন কোনো ধরন কিনা তা যাচাই করার জন্য জিনোম সিকুয়েন্সিং করারও পরামর্শ দিয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জ্বর ভাইরাস ঘটিত একটি রোগ। ফলে তার জন্য শুধু প্যারাসিটামল ট্যাবলেটই যথেষ্ট। তবে ওষুধ না খেলেও নিজে থেকেই ৫-৭দিনের মধ্যে এই জ্বর সেরে যায়। বিশেষ ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল কিংবা হিস্টাসিন জাতীয় ট্যাবলেট প্রয়োজন হয়। তবে যদি তাতেও জ্বর না সারে সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কোভিড পরীক্ষা করা জরুরি। কোনও অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
জ্বরে আক্রান্ত শরীফ নামে একব্যক্তি জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে পরিবারের সবাই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। ৩দিন ধরে জ্বর। এই জ্বর ১০২ থেকে ১০৩ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠা-নামা করছে, ঘেমে জ্বর ছাড়ে, ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর পর জ্বর আসে, কাশি আছে, খাবার রুচি পায় না।
চমেকে ভর্তি হওয়া শফি নামের একব্যক্তি বলেন, আমার জ্বর ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছে। করোনা ও ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হয়েছিল। কিন্তু ডেঙ্গু ও করোনা কোনোটাই শনাক্ত হয়নি। গায়ে জ্বর থাকলেই যে কোন চিকিৎসক আগে করোনা ও ডেঙ্গুর পরীক্ষা দিয়ে হয়রানি করছে বলার মত না। করোনা হলেই তো কতগুলো লক্ষণ থাকে। সেগুলো তো তারা ভাল জানেন। তারপরও কেন তারা এত পরীক্ষা নিরীক্ষা দিয়ে হয়রানি করে।
গ্রামীণ অঞ্চলে জ্বরে আক্রান্ত হলেও করোনার ভয়ে চিকিৎসকের কাছে যায় না অনেকেই। নিজের কিংবা পল্লী চিকিৎসকের কাছে গিয়ে নাপা ও প্যারাসিটামল কিনে সেবন করে।
চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দ্বায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা: সুপ্তা দাশ সিপ্লাসকে বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিনই জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। এই জ্বরে লক্ষণ হচ্ছে ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠা-নামা করে, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কাশি খুব বেশি, খাবার রুচি পায় না ছোট বড় সবাই। তবে শিশুদের শরীর খুব দুর্বল হয়ে যায়। এই জ্বর ৫-৭দিন থাকতে পারে। প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে সাপোজিটর, ফিক্স-এ-ডিএস, নাপা (প্যারাসিটামল) এবং আলার্টল খেলেই ভাল হয়ে যাবে। ঋতু পরিবর্তনের কারণে যে সব শিশু জ্বর,সর্দি কাশি নিয়ে আসছে, তাদের বাবা মায়ের মধ্যেও কোভিড আতঙ্ক গ্রাস করছে। আতঙ্কিত হবেন না।শিশুদের অনাক্রমতা বা ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য ফলজ, ভিটামিন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেলে সংক্রমণ ছড়ানোর ভয় থাকবে না।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা: আফতাবুল ইসলাম সিপ্লাসকে বলেন, আবহাওয়ার কারণে জ্বরের প্রকোপ বেড়ে যাচ্ছে। তবে শুধু আবহাওয়ার জন্য নয় বিভিন্ন কারণেও শরীরে জ্বর আসতে পারে।
এই জ্বরের লক্ষণ গুলো হচ্ছে সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কাশি খুব বেশি হয়। জ্বর ১০৩ থেকে ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠে। জ্বর ৫-৭ দিন থাকে। এই জ্বরের সঙ্গে ডেঙ্গু জ্বরের বিভ্রান্তি রয়েছে। এই জ্বর করোনাও না, ডেঙ্গুও না। তবে এই জ্বর করোনার নতুন কোনো ভ্যারিয়েন্ট কিনা বলা খুব মুশকিল। করোনা কিনা সন্দেহ থাকে। তাই এজন্য জিনোম সিকুয়েন্সিং করা প্রয়োজন বলে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মনে করেন।
তারা আরও জানান, জ্বরের জন্য সাধারণ রোগীদের প্যারাসিটামল, সর্দি থাকলে এন্টি হিস্টামিন খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি বেশি কাশি অন্য কোনো ধরনের জটিলতা থাকলেও ওই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা উচিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।








