Site icon CPLUSBD.COM

ঘাট শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিল এর অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে

সিপ্লাস ডেস্ক: শ্রমিক সংগঠন এর নাম দিয়ে তথাকথিত স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের গুটিকয়েক ভূয়া শ্রমিক নেতা ঘাট গুদাম শ্রমিকলীগ এর নাম দিয়ে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল এর অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ করেছে সদরঘাট থানা ঘাট ও গুদাম শ্রমিক লীগের সদস্যরা।

শনিবার(৭ আগস্ট) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদরঘাট থানা ঘাট ও গুদাম শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজা হাওলাদার।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আমরা ঘাট ও গুদাম শ্রমিকরা আজ অত্যন্ত অসহায় হয়ে আপনাদের কাছে এসেছি চট্টগ্রাম এর ঘাট শ্রমিকলীগ এর নাম ব্যবহার করে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল টাকা আত্মসাৎ কারী কিছু ঘাট শ্রমিকলীগ এর নাম ধারী স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির লোকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও দেশবাসীকে জানানোর একটি উদ্যোগ।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে চট্টগ্রাম এর সদরঘাট থেকে বারেক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে মোট ১৭ টি ঘাটে আছে। এর মধ্যে সদরগাট থানা ঘাট গুদাম শ্রমিকলীগ এর আওতায় মোট ১১টি ঘাটে কাজ করছে প্রায় ১৭০০ জন শ্রমিক। এই ১৭০০ জন শ্রমিক এর মজুরী থেকে দৈনিক একটি অংশ কেটে রাখা হয় শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিল এর নাম দিয়ে। বিগত ১০-১২ বছর আগে থেকে এই শ্রমিক দের মজুরী থেকে কর্তনকৃত অংশ চেম্বার অব কমার্স-এর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনামতে শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিল নামে ব্যাংক হিসাব করার কথা থাকলেও তা আজ পর্যন্ত করা হয় নাই।নানা আন্দোলন এবং দাবীর প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে জুলাই মাসে একবার শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিল এর টাকা সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।২০১৬সালের জুলাই মাসের পরে আর কোন শ্রমিক কল্যান তহবিল থেকে কোন টাকা পয়সা পায় নাই।শ্রমিকদের আপদে বিপদেও সন্তোষমূলক কোনো সহযোগিতা পায়নি। এই চক্রের হোতারা হচ্ছেন ১)ইদ্রিস হাওলাদার লাদেন২)নাছির উদ্দিন পলাশ ৩)মনির চৌকিদার ৪)এয়ার উদ্দিন রাশেদ ৫)জুয়েল শিকদার।

২০১৬সালের জুলাই মাসের পর থেকে উল্ল্যেখিত ব্যাক্তিবর্গ প্রশাসনের সাথে হাত মিলিয়ে উক্ত অর্থ তুলে শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যবহার না করে নিজেদের মধ্যে বিলি বন্টন করে আসছে। ২০১৬সালের জুলাই মাসের পরে যখন শ্রমিকরা কোন টাকা পয়সা পাচ্ছে না।

এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কর্মাস এ অভিযোগ করা হলে চেম্বার সভাপতি স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ইস্যু করা হয় বিভিন্ন ঘাট মালিকদের কে যাতে শ্রমিকদের মজুরী থেকে কোন অর্থ কল্যাণ তহবিল এর নামে কর্তন করা না হয়। যার যা মজুরী তা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু তা শর্তেও এই সকল ব্যাক্তিবর্গ ঘাট মালিকদের থেকে কল্যাণ তহবিল এর নামে দিয়ে উত্তোলনকৃত অর্থ নিজেদের মধ্যে বিলি বন্টন করে ফেলছে। এই ব্যাপারে আমরা প্রতিবাদ করায় প্রতিনয়ত আমাদের উপরে বিভিন্ন সময় হামলা ও মামলা করে আসছে এই উল্লেখিত ব্যাক্তিবর্গ।

আমরা শ্রমিক দিনমজুর, দিনে এনে দিনে খাই তাই সর্বোচ্চ প্রতিকারের আশায় আজ এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মাদার অব হিউমেনিটি খ্যাত গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ,মাননীয় শ্রম কল্যাণ মন্ত্রী,মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী,চট্টগ্রাম -১১আসনের মাননীয় এম.পি,স্থানীয় প্রশাসন, ও চট্টগ্রাম এর চেম্বার অব কমার্স এর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে শ্রমিক কল্যান তহবিল নামে আর কোন অর্থ শ্রমিকদের মজুরি থেকে কর্তন করা অর্থ ঐ দূর্নীতিবাজ নেতাদের হাতে হস্তান্তর করা না হয় এবং অতীতে দীর্ঘ ৫৭ মাস ধরে কল্যাণ তহবিল এর নাম দিয়ে মোট তিন কোটি তের লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা (৩,১৩,৫০০০০) যে সমস্ত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে তা শ্রমিকদের মাঝে বন্টন করার দাবী জানাছি।