নিউজটি শেয়ার করুন

ঘুর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে উত্তাল সাগর, আতঙ্কে কক্সবাজারবাসী

সিপ্লাস প্রতিবেদক: ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজারকে ৬ নং বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। তবে উপকূলীয় অনেক এলাকায় প্রশাসনের সতর্কবার্তা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।

এদিকে ৮টি উপজেলায়  নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসন।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। জোয়ারের পানি স্বাভাবিক চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে কক্সবাজার ও সমুদ্র উপকূলবর্তী ৫টি গ্রামে বসবাস করছে ১০ হাজারের অধিক মানুষ। যারা এখনও সর্তকতা হিসেবে মাইকিং বা প্রশাসনের কোনো নির্দেশনা পায়নি। যার কারণে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে তাদের মাঝে।

চরপাড়ার বাসিন্দা হাবিব বলেন, সৈকতের পাশে ঝাউবিথীতে সংসার নিয়ে ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস করি। এখন দেখছি সাগরে পানির উচ্চতা বাড়ছে। এতে ভয় হচ্ছে। এখন ৬ নম্বর বিপদ সংকেত টিভিতে দেখেছি। যদি সংকেত আরও বাড়ে তাহলে আশ্রয় কেন্দ্র চলে যাব।

আরেক বাসিন্দা সিরাজ আহমেদ বলেন, সমুদ্র এলাকার কাছাকাছি থাকায় একটু ভয় তো লাগছে। তবে কিছুই করার নেই। আমরা তো অসহায়। যদি পরিস্থিতি খারাপ হয় তখন বউ-বাচ্চা নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাব।

এদিকে আবহাওয়া অফিসে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের বিপদ সংকেত জারির পর সাগর থেকে উপকূলে ফিরতে শুরু করেছে মাছ ধরার ট্রলারগুলো। ইতোমধ্যে ৬ হাজার ট্রলার নিরাপদে উপকূলে ফিরেছে বলে জানিয়েছে মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে কক্সবাজার জেলার ৮টি উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, জেলার ৫৭৬টি আশ্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ১০ হাজারের অধিক স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে ৫০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১০ লাখ বরাদ্দ হয়েছে, যা জরুরি প্রয়োজন ব্যবহার করা হবে।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে বসবাস করছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় সেখানেও যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সেনা ক্যাম্পসমূহের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গা ভলান্টিয়ার প্রস্তুত রাখা হয়েছে এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায়।