সিপ্লাস প্রতিবেদক: ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে পানির উচ্চতা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় কক্সবাজার জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে গাছপালা। এর মধ্যে সেন্টমার্টিনের অবস্থা ভয়াবহ। বিধ্বস্ত ও পানির নিচে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি। ব্রিজ, কার্লভাট ও রাস্তাঘাট ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভাঙন ধরেছে জেটির পন্টুনে ও রাস্তাঘাটে।
কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, মহেশখালী, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের শতাধিক গ্রামে ঢুকে পড়েছে জোয়ারের পানি। কক্সবাজার জেলার উপজেলার উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। পাশাপাশি জোয়ারের পানি এলাকায় ঢুকে কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
তিনটি এলাকায় বেড়িবাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারও মানুষ। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কেও আছড়ে পড়ছে জোয়ারের পানি।
দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রবল জোয়ারের পানিতে উপড়ে পড়েছে গাছপালা। ভাঙন ধরেছে জেটির পন্টুনে ও রাস্তাঘাটে। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে বেড়িবাঁধের ব্লকে ধস নেমেছে। তবে মানুষের জানমাল রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সেন্টমার্টিনের অবস্থা ভয়াবহ। তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে রাক্ষুসে সাগর। ভেঙে যাচ্ছে জেটির পন্টুন। সেন্টমার্টিন দ্বীপের শতাধিক গ্রামে ঢুকে পড়েছে জোয়ারের পানি।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, ‘দ্বীপের লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার মতো এখনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যদি সংকেত বাড়ে, তখন মাইকিং করে লোকজন নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে দ্বীপের উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকের অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরইমধ্যে বেশ কিছু গাছপালা উপড়ে গেছে। রাস্তাঘাট ভাঙছে। আর প্রবল জোয়ারের ধাক্কায় বালিয়াড়িতে থাকা পাঁচটি ট্রলার ভেঙে গেছে। জোয়ারের পানির তোড়ে জেটির পন্টুনটি বিধ্বস্ত হয়েছে। নানা অংশ ভেঙে পড়েছে।’
কোস্টগার্ড সেন্টমার্টিন স্টেশনের ইনচার্জ লে. কমান্ডার রাসেল মিয়া বলেন, ‘দ্বীপে সব মিলিয়ে বাসিন্দা রয়েছে ১০ হাজার ২৬ জন। এরইমধ্যে দ্বীপের হোটেল, রিসোর্ট, স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ মিলে ৩০টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। যেখানে ৬ হাজার মানুষকে আশ্রয় দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে প্রবল জোয়ারের পানিতে জেটির পন্টুন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর সব ধরনের ট্রলার চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। টেকনাফে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে প্রায় ৫০টি অধিক ট্রলার। আর ছোট ট্রলার, নৌকা ও স্পিডবোটগুলো দ্বীপের উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে। আশা করি, সবার সমন্বয়ে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতি মোকাবিলা সম্ভব হবে।’
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেজ জানিয়েছেন, কক্সবাজার উপকূলের ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল দুই দিন আগেই। প্রস্তুত রাখা হয়েছিল আশ্রয় কেন্দ্র এবং স্বেচ্ছাসেবকদের। মানুষের জানমাল রক্ষায় আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ঝুঁকি থেকে কক্সবাজার মুক্ত বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান।
তিনি বলেন, কক্সবাজারে ৩নং সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। সাগরের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর প্রভাবে সাগর এখন খুবই উত্তাল।

