ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় সরকার ‘যথেষ্ট রকমের ব্যবস্থা’ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
মওদুদ বলেন, এই যে ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে ১০ নম্বর বিপদ সংকেত দিয়েছে। সরকার যথেষ্ট রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন কিনা- তা আমরা জানি না। আমাদের জানা মতে, সরকার যথেষ্ট রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আজকে যদি এই ঘূর্ণিঝড় আঘাত করে তাহলে আমাদের অনেক জান-মাল ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আমাদের লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা অতীতেও দেখেছি- সরকারের অবহেলার কারণে এই ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় গরিব মানুষরা যারা একেবারে উপকূলে থাকে।
আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাবের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কেন্দ্রীয় নেতা ফরিদা ইয়াসমীন, জাতীয়তাবাদী উলামা দলের শাহ নেছারুল হক, মৎস্যজীবী দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, এই সরকার বলে তারা উন্নয়নের রোল মডেল। শুনতে শুনতে এখন কান জ্বালা-ফালা হয়ে গেছে। ১৫ মিনিট বৃষ্টি হলে যে দেশের রাজধানী পানির নিচে চলে যায়-এটাকে নাকি বলে উন্নয়নের রোল মডেল, যে রাজধানীতে এক কিলোমিটার পথ যেতে ৪৫ মিনিট সময় লাগে এটাকে নাকি বলে মডেল। কে বিশ্বাস করবে এ সব? এ সব মানুষকে ধোঁকা দেয়া ছাড়া আর কিছুই না। হ্যাঁ অবশ্যই বাংলাদেশ উন্নয়নে নয়, গণতন্ত্রহীনতার মডেল, জবাবদিহিহীনতার মডেল, বিচারহীনতার মডেল, নারী-শিশু নির্যাতন, নারী-শিশু ধর্ষণের মডেল।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, বাংলাদেশে আজকে যে মডেল সৃষ্টি করেছেন ক্যাসিনো ক্লাবের মডেল। সারা বিশ্ব জেনে গেছে যে, বাংলাদেশের রাজধানীতে ১৫০টি ক্লাবে ক্যাসিনো। কারা চালিয়েছে? সরকারি দলের লোকেরা চালিয়েছে, কারা চালিয়েছে? এই যুব লীগের নেতারা চালিয়েছে। এই খালেদ আর শামীম-এরা তো কিছুই না। অনেক গভীরে এই দুর্নীতি ঢুকে গেছে, এই দুর্নীতি থেকে এই সরকার কোনো দিন বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না, তাদের নিজেদের পতন তারা নিজেরাই, নিজেদের পতনের সুরঙ্গ তারা তৈরি করেছেন এই দুর্নীতির মাধ্যমে।
মওদুদ বলেন, দুঃশাসন, অপশাসন, দেশে সুশাসন বলতে কিছু নেই। সুশাসন বলতে বুঝায় একটা জবাবদিহিমূলক সরকার থাকতে হবে, জবাবদিহিমূলক একটা সংসদ থাকতে হবে। যে সংসদে উন্মুক্ত আলোচনা হবে, যে সংসদে বিতর্ক হবে, যে সংসদে জাতীয় সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। আজকে ১১ বছর হয়ে গেছে বাংলাদেশের সংসদে কোনো একটি মুলতবি প্রস্তাব আলোচনা হয়নি, কোনো একটি জাতীয় ইস্যু নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়নি। একটাও দেখাতে পারবে না। এই অকার্যকর সংসদ কোনো কোনোদিনই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। গণমাধ্যমকেও সরকার নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।








