সিপ্লাস প্রতিবেদক: কক্সবাজারের চকরিয়ার ভেন্ডিবাজার এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে ধাক্কা লেগে চলন্ত মাইক্রোবাস (নোহাগাড়ি) খাদে পড়ে ৪ নারীসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
এদের একজন ঘটনাস্থলে বাকী ৬জন হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান বলে জানিয়েছেন উদ্ধার তৎপরতা চালানো চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন।
রবিবার (১৫ আগস্ট) বেলা সোয়া ১০ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত আরো দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী যাত্রীবাহী নোহা গাড়িটি ১০/১২ জন যাত্রী নিয়ে চকরিয়ার দিকে আসছিল। সকাল সোয়া ১০টার দিকে চকরিয়াস্থ গ্রিনবেলী কমিউনিটি সেন্টারের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি পুকুরে পড়ে যায়। আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে চকরিয়া হাসপাতালে আনার পর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফহিম আহমেদ ফয়সাল ছয় জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতরা হলেন- নোহা গাড়ীর যাত্রী কক্সবাজারস্থ ঘোনাপাড়ার প্রদীপের মা রানী রুদ্র (৬০), স্ত্রী পূর্ণিমা (৩৫), তার ৩ বছরের সন্তান বেবী, চকরিয়াস্থ ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বৈরাগীর খিলের রাম মাস্টারের ছেলে রতন বিজয় (৫০), তার স্ত্রী মধুমিতা (৪৫), পথচারী চকরিয়াস্থ ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতেমা বেগম ও অজ্ঞাতনামা এক যাত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাদ দিয়ে এসআই মোশাররফ জানান, চট্টগ্রামমুখী প্রাইভেট নোহাটি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া ভেন্ডিবাজার এলাকায় পৌঁছালে সড়কের পাশে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আচমকা ধাক্কা লাগে। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে ডুবে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত এগিয়ে এসে গাড়িটি টেনে তোলার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস আসে ঘটনাস্থলে। কিন্তু গাড়ির দরজা জানালা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় আটকা পড়াদের বের করতে বেগ পেতে হয়। অনেক চেষ্টায় তাদের বের করার পর একজনকে স্পটে মৃত অবস্থায় পায়। বাকিদের বিপদাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে আরো ৬জনের জনের মৃত্যু হয়।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রিয়াসাদ আজিম সিদ্দিকী জানান, এই দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৪ জন যাত্রী। ৩ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। অন্যজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশটি হাইওয়ে পুলিশের কাছে রয়েছে। বাকি মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর পরই উৎসুক মানুষের ভিড়ে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় থানার পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অকুস্থলে ছুটে গিয়ে হতাহতদের একে একে উদ্ধার তৎপরতা চালান। এ সময় গাড়িটি ক্রেন দিয়ে তোলা হয়। এর পর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।








