কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বৈরাগিরখিল এলাকায় দুই পরিবারের বিরোধ নিস্পত্তি করতে গিয়ে সংর্ঘষের মামলায় আসামি হয়েছেন জসিম উদ্দিন নামের এক ভুক্তভোগী। তিনি ছিলেন যে পক্ষ আসামী করেছে সে পক্ষের সালিশকারক। শুধু তাইনয় এ মামলায় কলেজ ছাত্রসহ তার দুই ছেলেকেও আসামি করা হয়েছে। যদিও তারা ঘটনাস্থলে কেউই ছিলেন না। গ্রেফতার এড়াতে ভুক্তভোগী ও তার দুই ছেলে বর্তমানে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
গত রবিবার বিকেলে চকরিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে হয়রানির এসব অভিযোগ তুলে ধরেন উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বৈরাগিরখীল গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী মোঃ জসিম উদ্দিন (৫০)। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রতিবেশি আমার চাচাতো ভাই ডাঃ আবু তাহের পরিবার ও তাঁর ভাগিনা বকতিয়ার উদ্দিন ভুট্টোর পরিবারে ভিটেবাড়ি নিয়ে বিরোধ চলছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারী উভয়পক্ষ একমত হয়ে গ্রামে বিরোধ নিস্পত্তিতে সালিশ বৈঠক বসেন।
এ সমঝোতা বৈঠকে আবু তাহের পরিবার আমাকে সালিশকার হিসেবে রাখেন। বৈঠকে শালিসকার হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোঃ ফখরু উদ্দিন, স্থানীয় বাসিন্দা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডাঃ ফরিদুল হক ছাড়াও কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি।
ঘটনার বর্ননা দিয়ে ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন বলেন, শালিস বৈঠক চলাকালীন সময় ডাঃ আবু তাহেরের স্ত্রী ও ছেলেদের সাথে বখতিয়ার উদ্দিন ভুট্টো গংয়ের লোকজন তর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিতর্কের একপর্যায়ে দুইপক্ষের মারামারি থামাতে আমি এবং শালিসকাররা বাধা দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু তারা আমাদের বাধা না মেনে উভয় পক্ষে রক্তপাত শুরু করে দেয়। এতে দুপক্ষের অন্তত ৬-৭ জন নারীপুরুষ আহত হয়েছে। পরে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন অভিযোগ তুলেছেন, সমঝোতা বৈঠকে আমি শালিসকার ছিলাম চাচাতো ভাই ডাঃ আবু তাহের পরিবারের পক্ষে। সংর্ঘষের সময় রক্ষা করার চেষ্ঠা করেছি ভাইয়ের পরিবারের সবাইকে। কিন্তু পরে দেখি চকরিয়া থানায় আবু তাহেরের পুত্র আবদুল্লাহ আল আরমান বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় আমাকে ও আমার দুই ছেলেকে আসামি করা হয়েছে।
জসিম উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তুলে বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে আসামি করা হলো। কিন্তু আমার কলেজ পড়ুয়া ছেলে মামুনুল ইসলাম (২২) ও অপর ছেলে সাইফুল ইসলামকে (৩২) ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও কিভাবে আসামি করা হয় ? সেখানে মানবাধিকার বলতে কিছু আছে কিনা! আমি এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। সাজানো এই ধরণের হয়রানিমুলক মামলা থেকে আমাকে ও কলেজ ছাত্রসহ দুই ছেলেকে অব্যাহতিদানে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারের কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।








