কাজ করতে করতে মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ে। দেখা দেয় বিষন্নতা। ক্লান্তি আর বিষন্নতা ঝেড়ে ফেলতে মাঝে মাঝে একটু প্রকৃতির সান্নিধ্য ছুটে যেতে চাই মানুষ। প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে মানুষ ছুটে যায় দেশের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। কিন্তু প্রকৃতি প্রেমিদের জন্য দেশেই রয়েছে ঘুরে দেখার মতো নানা প্রাকৃতিক স্থাপনা। এজন্য চাই ছুটি। আর ছুটিতে যদি প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্য অবগাহন করতে চান তাহলে প্রকৃতি প্রেমিরা ঘুরে দেখতে পারেন কক্সবাজারের চকরিয়া ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভিতরে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট লেক। পাশাপাশি দেখতে পারেন নানা প্রজাতির পশু-পাখি ও জীব-জন্তু।
দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের কুমির বেস্টনির সামনে রয়েছে ৫ একর বিশিষ্ট একটি লেক। এটি প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্ট। লেকের চারপাশে রয়েছে উচু উচু গাছ-গাছালি। লেকের দ্বারে বসানো হয়েছে ইট-সিমেন্ট দিয়ে তৈরী করা চেয়ার। লেকের পানিতে সাফারি পার্কের ভিতরে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাথে রয়েছে আফ্রিকা থেকে আসা অতিথি পাখির কিচিরমিচির কলতান। পার্কে আসা দর্শীনার্থীরা বিভিন্ন পশু-পাখি, জীব-জন্তু দেখা ছাড়াও লেকের দ্বারে বসে নিভৃতে আড্ডা দিচ্ছে। দুর করছে ক্লান্তি। ছুটি ছাড়াও প্রকৃতি প্রেমীরা ক্লান্তি দুর করতে মাঝে মাঝে ছুটে আসেন পার্কে। পার্কের ভিতর লেকের ধারে বসে আড্ডা দিচ্ছেন দু’বন্ধ রবিউল ও হাসান। এসময় কথা হয় তাদের সাথে।
তারা বলেন, পার্কে থাকা পশু-পাখি ও জীব-জন্তুর চাইতে বেশি ভাল লাগে লেকের পার। অবসর ফেলেই আমরা ছুটে আসি লেকে। লেকে বসলে মনে প্রশান্তি চলে আসে। তারা বলেন, পার্ক কর্তৃপক্ষ যদি লেকের চারিদিক ঘুরে দেখার জন্য নৌকার ব্যবস্থা করতো তাহলে আরো বাড়তি আনন্দ হতো। এবিষয়ে কথা হয় পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে।
তিনি বলেন, আসলে লেকটি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট। এটি সাফারি পার্ক তৈরীর অনেক আগে থেকেই ছিল। লেকের পানিতে পার্কের বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ ঘুরে বেড়ায়। লেকে থাকা মাছ ধরতে আসে বক। এটি আসলেই খুবই অপূর্ব একটি দৃশ্য। তিনি আরো বলেন, লেকে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কোন নিয়ম নেই। এটি যেহেতু প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট আমরাও চাচ্ছি লেকটির অপরুপ সৌন্দর্য্য দেখে ক্লান্তিহীন মানুষ মনে প্রশান্তি ফিরে পাবে। তাই লেকেটি যেভাবে আছে সেভাবেই থাকবে।








