নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে হাসপাতাল ও ক্লিনিক আছে ৪০০টি, করোনা রোগের চিকিৎসা দেয় ২৩টি

মো: মহিন উদ্দীন: চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় দেড় কোটি মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে প্রায় ৪০০টি। তার মধ্যে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের নিরবচ্ছিন, কার্যকর সেবা প্রদান করার কথা রয়েছে ২৩টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে ১৮টি হাসপাতাল।

করোনা মহামারীতে সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য প্রশাসন ও সরকারের কাছে দাবী করে সচেতন মহল।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ কমাতে না পারলে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়বে৷ কারণ যে হারে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে সেই হারে কোভিড চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়৷

জানা যায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে শয্যা আছে ২০৬টি, জেনারেল হাসপাতালে আছে ১৫০টি, বিআইটিআইডিতে ৩২টি, বেসরকারি চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ১০৯টি, মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ৫০টি, পার্কভিউ হাসপাতালে ৫৬টি, সিএসসিআরে ২৪টি ও ন্যাশনাল হাসপাতালে ৫৪টি। কিন্তু বর্তমানে প্রায় সবগুলো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সাধারণ ও আইসিইউ শয্যা রোগীতে পূর্ণ।

অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতাল আছে ৫০টি এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ্র আছে প্রায় ৫৫টি। এসব কেন্দ্রে প্রতিদিন চেম্বার করেন প্রায় ১২০০ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

অন্যদিকে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের নিরবচ্ছিন, কার্যকর ও ইতিবাচক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের ১২টি বেসরকারি হাসপাতালে আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

১২টি হাসপাতাল গুলো হল: পাচশাইলের পার্ক ভিউ হাসপাতাল লিমিডেট, ডেলটা হাসপাতাল লিমিটেড ও সিএসটিসি হাসপাতাল লিমিটেড; জিইসিতে অবস্থিত মেডিকেল সেন্টার; খুলশীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল; কাতালগঞ্জের সার্জিস্কোপ হাসপাতাল লিমিটেড (ইউনিট-২); ওআর নিজাম রোডের সিএসসিআর হাসপাতাল লিমিটেড, এশিয়ান হাসপাতাল লিমিটেড, ওয়েল হাসপাতাল লিমিটেড ও মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লিমিটেড; মেহেদীবাগের ন্যাশনাল হাসপাতাল লিমিটেড ও ম্যাক্স হাসপাতাল লিমিটেড।

এ ছাড়াও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, ফয়েস’লেকের বঙ্গবন্ধু মেমরিয়াল হাসপাল (ইউএসটিসি), শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি, সাউর্দান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, আগ্রবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতালের রিজিওনাল টিবি রেফারেল ল্যাবরেটরি (আরটিআরএল), ইপিক হেলথ কেয়ার, এন্টিজেন টেস্টে, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজসহ আরও অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিক করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

তবে সরকারি হিসেবে এসব হাসপাতালে শয্যা রয়েছে ২ হাজার ৭২৮টি। এত শয্যা থাকলেও সবগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে না করোনা রোগীদের চিকিৎসায় এমন অভিযোগ রোগীর স্বজনদের।

একাধিক করোনা রোগীর স্বজনরা আক্ষেপ করে জানান, আল্লাহ তায়ালার কি গজব জানি না। কোন রোগ কিংবা অসুস্থ হলেই সব হাসপাতাল ও ক্লিনিক মনে করে করোনা। রোগী না দেখেই করোনা মনে করে অন্য হাসপাতালে যেতে বলে। কোন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য এ রোগের চিকিৎসা আসেনি। কেননা, যাদের কোন আত্মীয় স্বজন ডাক্তার কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও টাকা আছে কেবল তাদের জন্যই চিকিৎসা মিলে। না হয় এ হাসপাতাল ঐ ক্লিনিক দৌড়াতে দৌড়াতে পথেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করবে রোগী। অথচ তিনি কোন করোনা রোগী নন।

চিকিত্সকরা জানান, আইসিইউ বেডে চিকিত্সা সেবা পরিচালনার জন্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিধারী প্রশিক্ষিত চিকিত্সকের চরম সংকট রয়েছে। আইসিইউ পরিচালনার জন্য ক্রিটিক্যাল মেডিসিন বিষয়ে ডিগ্রীধারী চিকিত্সকের প্রয়োজন। পাশাপাশি এই বিষয়ে ডিগ্রিধারী প্রশিক্ষিত নার্সেরও প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে এই বিষয়ে চিকিত্সক ও নার্সের চরম সংকট বিরাজ করছে।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা: সেখ ফজলে রাব্বী সিপ্লাসকে বলেন, চট্টগ্রামে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রায় ৪শ টি সরকারি- বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। তাদের মধ্যে থেকে কভিড চিকিৎসার জন্য সরকারি গেজেটে ১৮টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। তবে ২৩টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। মোটামোটি কম বেশি সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে করোনার চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

এ ছাড়াও সরকারিভাবে নির্দেশনা রয়েছে ৫০ শয্যার সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া। চট্টগ্রাম জেলায় মহানগরে প্রায় ৭০ লাখ এবং উপজেলায় ৭০ লাখ মিলে ১ কোটি ৪০ লাখ লোকের বসবাস হিসেবে ধরা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here