সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি এলাকায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ৪৮জন করোনা আক্রান্ত রোগীর জন্য মাত্র দুটি অক্সিজেন সিলিন্ডার সাপোর্টের বিষয়টি প্রকাশ হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন রোগীর স্বজনসহ চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (০৯ জুন) পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৪৮ জন রোগী ভর্তি আছেন। কিন্তু এই ৪৮ জনের জন্য রয়েছে মাত্র দুটি অক্সিজেন সিলিন্ডার। করোনা আক্রান্ত রোগীর অবস্থা জটিল হলে দুটি অক্সিজেন সিলিন্ডারই ভরসা বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির একজন চিকিৎসক।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রেলওয়ে কতৃপক্ষের এ হাসপাতালটি ১০০ শয্যার জন্য প্রস্তুত রাখা হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো চিকিৎসাসামগ্রী পায়নি হাসপাতাল। এমনকি নার্স, ওয়ার্ডবয় ও পরিচ্ছন্নকর্মীসহ ২৩জন কর্মচারীকে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে কোনো সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হয়নি। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের পিপিই (ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী) দিয়েছে।
দুটি অক্সিজেন সিলিন্ডার থাকলেও ভেন্টিলেটরসহ অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রীও নেই এই হাসপাতালে। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে মাত্র দুজন চিকিৎসক দেওয়া হয়েছে। তারা রোস্টার অনুযায়ী দিনে একবার গিয়ে রোগী দেখে আসেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া কয়েকজন রোগী জানান, দিনে মাত্র একবার চিকিৎসক আসেন রোগী দেখতে। চিকিৎসা বলতে এখানে শুধু বেডে শুয়ে রেখে স্যালাইন দেওয়া। আর কারও শ্বাসকষ্ট হলে তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া।
হাসপাতালে করোনা রোগীর দেখাশোনা করার জন্য ৪ জন জুনিয়র নার্স আছেন। আয়া এবং ওয়ার্ডবয় মিলে আছেন ৯ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী আছেন ১০ জন। তারা এক সপ্তাহ কাজ করার পর কোয়ারেন্টিনে যাওয়ার জন্য এখনও কোনো হোটেল বুক দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদফতর।
তারা কাজ করার সময় যদি করোনায় সংক্রমিত হন এবং হোটেলে না গিয়ে যদি বাসায় যান তাহলে তাদের পরিবারও ঝুঁকির মধ্যে পড়বেন বলে জানিয়েছেন পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা (সিএমও) ডা. সামশুল আলম মো. ইমতিয়াজ।
তিনি বলেন, আমাদের ২৩ জন স্বাস্থ্য কর্মচারী হাসপাতালে কাজ করছেন। তাদের পিপিইসহ সুরক্ষা সামগ্রী আমরা সরবরাহ করেছি। হাসপাতালে মাত্র দুটি অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে, নেই ভেন্টিলেটরসহ অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী।
বিষয়টি স্বীকার করে চট্টগ্রামের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোস্তফা খালেদ আহমেদ বলেন, মূলত স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে এখনও বরাদ্দ না পাওয়ায় রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা সামগ্রী দেওয়া হয়নি। বরাদ্দ হলে সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে।

