সিপ্লাস প্রতিবেদক: করোনাকালে ভিন্ন আয়োজন। আকাশে চোখ মেললেই ঘুড়ির লড়াইয়ের দৃশ্য। গানের তালে তালে চলছে ঘুড়ি কাটাকাটির খেলা।
একসময় ঘুড়ি ওড়ানো আর ঘুড়ি কাটার প্রতিযোগিতার রেওয়াজ ছিল। যা এখন প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে নেটপ্রেমী কিংবা স্মার্টফোনে বুঁদ হওয়া তরুণ প্রজন্মকে মাঠে ফেরাতে দারুণ কাজ করছে ঘুড়ি। আর করোনাকালে এ দৃশ্য যে কারোরই মন ভালো করে দিতে যথেষ্ঠ।
গ্রাম বা শহরে এখন ঘুড়ি ওড়ানো খেলা অনেকাংশে বন্ধ হয়ে গেছে। শিশুরা বড় হচ্ছে খাঁচার মধ্যে। ঘরে বসে শহুরে শিশুরা কম্পিউটার বা ভিডিও গেইম খেলে সময় কাটায় এখন। তাই এই করোনাকালে দীর্ঘ ৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে ঘরবন্দি নানা শ্রেণীর পেশার মানুষকে ঘুড়ির সুতায় একীভুত করতে চট্টগ্রাম শহরে ৬ আগস্ট থেকে তিনদিন ব্যাপী প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে চট্টলা ঘুড়ি উৎসব-২০২০।এই ঘুড়ি উৎসবে মোট ১৮ টি দল অংশগ্রহণ করেছে।

মোহাম্মদ আলী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- সিএমপি’র গোয়েন্দা বিভাগের সিনিয়র সহকারি কমিশনার মো. জাহেদুল ইসলাম। উদ্বোধক ছিলেন পাহাড়তলী থানার অফিসার ইনচার্জ মঈনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ক্রিড়া সংগঠক পলাশ খাস্তগীর, চট্টগ্রামের বেসরকারি কারাপরিদর্শক আজিজুর রহমান আজিজ। সভাপতিত্ব করেন মরহুম মোহাম্মদ আলী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান মামুন।
নগরীর ১২ নং সরাইপাড়া ওয়ার্ড় ঈদ গাঁ বৌ বাজার এলাকায় বেড়ে উঠা এই স্বপ্নবাজ তরুণের নাম আনিছুর রহমান মামুন। নিজের ব্যস্তময় কর্মজীবনের পাশাপাশি অবসর বিকেলে ঘুড়ি উড়ানোর নেশা থেকেই এবার তার বাড়ির ছাদকে ভেন্যু করে আয়োজন করেছে দীর্ঘদিনের পুরনো ঘুড়ি উড়ানো খেলার উৎসব। বেশ বড় এই আয়োজনটির মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিলো চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় জনপ্রিয় অনলাইন টেলিভিশন সিপ্লাসটিভি।
স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিশু-কিশোররা যেমন ঘুড়ি উড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে এখানে, তেমনই অফিস-আদালত ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকায় বড়রাও ঘুড়ি উড়ানোর প্রতিযোগিতায় আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

মূলত বিশ্বের অনেক দেশে অবসর কাটানোর বিনোদন হিসেবে ঘুড়ি ওড়ানো একটি মজার খেলা। বাংলাদেশের পুরান ঢাকায় পৌষ সংক্রান্তিতে ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব পালিত হয়। প্রতিবছর ১৪ জানুয়ারি ওখানে সাকরাইন উৎসব নামে এই দিনটি উদযাপন করা হয়।বিকেল নামতে না নামতেই নাটাই-ঘুড়ি হাতে হইহই করে বেরিয়ে আসে ছেলে-বুড়ো সবাই।
ঘুড়ি উদ্ভাবন এবং ওড়ানোর ইতিহাস অনেক প্রাচীন। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে গ্রিসে ঘুড়ি উদ্ভাবন হয়। গ্রিসের বিজ্ঞানী আর্চিটাস ঘুড়ি উদ্ভাবন করেন। এরও বহু যুগ পূর্বে এশিয়া মহাদেশের লোকেরা ঘুড়ি ওড়ানোর ব্যাপারে দক্ষ ছিল। চীন, জাপান, কোরিয়া, মালয়েশিয়ায় ঘুড়ি ওড়ানো খেলার প্রচলন রয়েছে। উইকিপিডিয়ার তথ্যে, প্রায় ২,৮০০ বছর পূর্বে চীন দেশে ঘুড়ির সর্বপ্রথম উৎপত্তি ঘটেছে। পরবর্তীকালে এটি এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।









