চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি) নির্বাচনে দলের ‘কৌশল’ নির্ধারণে রোববার বন্দর নগরীতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বর্ধিত সভা করার কথা থাকলেও তিনি তা না করে প্রার্থীদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবেন।
রোববার চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাথে ওবায়দুল কাদের ‘রুদ্ধদ্বার’ সভা করবেন বলেও জানা গেছে।
সিসিসি নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় সাধারণ সম্পাদকের চট্টগ্রাম সফরের সময় বর্ধিত সভা হওয়ার কর্মসূচি শুরুতে নির্ধারিত হলেও শুক্রবার রাতে তাতে পরিবর্তন এসেছে।
এর আগে দলের নেতারা জানিয়েছিলেন, রোববার নগরীর আলমাস মোড়ের একটি কনভেনশন সেন্টারে ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে বর্ধিত সভা হবে।
শুক্রবার রাতে সিসিসি নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে সমন্বয়কারীর দায়িত্বে থাকা প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, “বর্ধিত সভা হবে না, ক্লোজ ডোর মিটিং হবে। সেখানে সিনিয়র নেতারা থাকবেন।
“রোববার সকালের দিকে সভা হবে। মূলত মেয়র নির্বাচনে দলের কৌশল ঠিক করতেই এ সভা।”
নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, “ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে যে বর্ধিত সভা হওয়ার কথা ছিল সেটা হচ্ছে না। কোথায় সভা হবে সেটা দলের সাধারণ সম্পাদক আসার পর বুঝতে পারব। সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতেই তিনি আসছেন।”
এবার সিসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী নগর কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী।
মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব নগর কমিটির সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, “দলের সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে রোববারের বর্ধিত সভা হচ্ছে না।
“তবে রোববার বিকেলে নগর কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং থানা, ইউনিট ও ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের উপস্থিতিতে বর্ধিত সভা হবে। তাতে মেয়র পদে নির্বাচনী প্রচারণা, আচরণবিধি মেনে চলাসহ ভোট কেন্দ্রভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।”
এদিকে নগরীর ৪১টি সাধারণ ও ১৪টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে এবারই প্রথম প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
দলের মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটের মাঠ ছাড়বেন না বলে অনড় অবস্থানে আছেন।
এ রমক পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর থিয়েটার ইন্সটিটিউটে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাথে বিদ্রোহী ও দল মনোনীত কাউন্সিলদের নিয়ে হওয়া বৈঠকে সমঝোতা চেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়।
সেই সভায় নির্বাচনী সমন্বয়কারী মোশাররফ হোসেন দল মনোনীত প্রার্থীদের মেনে নিয়ে বিদ্রোহীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
বিপরীতে বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীরা কাউন্সিলদের সব পদে প্রার্থিতা ‘উন্মুক্ত’ রাখার দাবি জানান।
ওই সভায় দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছিলেন, ৮ মার্চ রোববার দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে বর্ধিত সভা হতে যাচ্ছে।
সেই সভায় বিদ্রোহীদের বিষয়ে আলোচনা হবে এমন আশ্বাসও দেওয়া হয় বলে কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী জানিয়েছিলেন।
তবে শুক্রবার রাতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, কাউন্সিলর পদে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, “দল যেটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই চূড়ান্ত। যারা দলের প্রার্থী হতে ইচ্ছুক তারা সবাই তো অলরেডি দলের কাছে প্রত্যাহারপত্র জমা দিয়েই দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন।”
ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, “এবারই প্রথম কাউন্সিলর পদে দলের মনোনয়ন বোর্ডের প্রধান দলীয় সভানেত্রী আমাদের প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন দিয়েছেন। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় কোনো অপশন নেই।”
খোরশেদ আলম সুজন বলেন, “রোববার সকালে সাধারণ সম্পাদক আসলে দুপুরের মধ্যে আমাদের সভা হবে। সেদিন বিকেল পর্যন্ত তো সময় আছে। অপেক্ষা করেন।”
৮ মার্চ সিসিসি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ৯ মার্চ থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা।








