সিপ্লাস ডেস্ক: চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর করার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে ছাত্র ফোরাম নামের একটি সংগঠন।
সোমবার দুপুরে এই কর্মসূচির পর জাদুঘরের গেটে ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর’ লেখা একটি ব্যানার লাগিয়ে দেয় মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দাবি করা এই সংগঠনটির কর্মীরা, যাদের বেশিরভাগ স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত।
এরআগে শুক্রবার চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল মুক্তিযুদ্ধ ও চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত (পুরাতন সার্কিট হাউজ) জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নাম বদলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর করার দাবি জানান।
পরদিন শনিবার নগর বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন এক অনুষ্ঠানে নওফেলের এই দাবির বিরোধিতা করে বলেন, জিয়া স্মৃতি জাদুঘর থাকবে।
এরপর রোববার জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর দিন জাদুঘর পরিদর্শনে যান শাহাদাতসহ বিএনপির কয়েকজন নেতা।
সোমবার ছাত্র ফোরামের সমাবেশে সংগঠনের সহ-সভাপতি ও নগর ছাত্রলীগের সদস্য মোশরাফুল হক পাবেল বলেন, “জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছিল। সিপাহি বিপ্লবের নামে ক্ষমতা দখলের জন্য মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকদের হত্যা করেছিল।
“জিয়াউর রহমান একজন খুনি, তার নামে চট্টগ্রামে কোনো স্থাপনা থাকতে পারে না। খুনি জিয়ার নামে এই স্থাপনা চট্টগ্রামে হওয়াতে বীর চট্টলার মানুষ প্রতিটা মুহূর্তে বিব্রতবোধ করছেন। আমরা ইতিমধ্যে এই স্থাপনার নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর করার জন্য চট্টগ্রামের ৩০ হাজার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জমা দিয়েছি।”
নাম পরিবর্তনে বিলম্বিত হওয়া চট্টগ্রামের মানুষের মাঝে একটা চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে যার প্রেক্ষিতে আবারও সংগঠনটি কর্মসূচি পালন করছে বলে সমাবেশে জানানো হয়।
সংগঠনের সহ-সভাপতি সৈকত বর্মণ বলেন, “শিক্ষা উপমন্ত্রী জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। এজন্য উনাকে ধন্যবাদ। নাম পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
শতবর্ষী চট্টগ্রামের প্রথম সার্কিট হাউজে অবস্থানকালে ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাতে একদল সেনা সদস্যের হাতে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতা আসার পর ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর এখানে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হয়।
সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নগর ছাত্রলীগের সদস্য ইমরান আহমেদ শাওনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন সাইফুল, ইমরান খান ও মনির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম প্রমি, এস এম আল আমিন বাবু, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজবাহ উদ্দীন সিকদার সুমন, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন মানিক, মোমিনুল হক সুমন, সৈকত দাশ, আরাফাত মহসিন প্রমুখ।








