আদালত প্রতিবেদক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)’র সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের বদলির আদেশ স্থগিত চেয়ে রিট আবেদনকারী শহিদুল ইসলাম লিটন কে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
চট্টগ্রামের স্থানীয় পত্রিকায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এই আদেশে আগামী ২৬ আগস্ট সকাল সাড়ে দশটার মধ্যে তাকে আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে ওই কর্মকর্তার বদলি সংক্রান্ত ভুয়া সার্টিফায়েড কপি সরবরাহ করা এবং তার ভিত্তিতে ভুল সংবাদ পরিবেশন করার পেছনে জড়িতদের বের করতে দুদককে তদন্ত করতে বলেছেন আদালত।
এই দিকে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
মুলত: দুদকের আাইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান জানান, দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের বদলির আদেশ ঠেকাতে শহিদুল ইসলাম লিটন নামে এক ব্যক্তি রিট করেছিলেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, রিটকারী কক্সবাজারের চকরিয়ার একটি মানবাধিকার সংগঠনের সভাপতি পরিচয় দিয়ে রিট করেন। কিন্তু তিনি সঠিক ব্যক্তি কি-না আদালত তার পরিচয় নিশ্চিত হতে চান। এ কারণে তাকে তলব করা হয়েছে।
অন্যদিকে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের বদলি নিয়ে চট্টগ্রামের স্থানীয় বেশ কয়েকটি পত্রিকায় ভুল সংবাদ প্রকাশ করে। ইতোমধ্যে পত্রিকাগুলোর পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।
গত ৩১ জুলাই পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যার শিরোনাম ছিল- ‘হাইকোর্টের আদেশে সেই দুদক কর্মকর্তার বদলির আদেশ স্থগিত’।
এই প্রতিবেদনের বিষয়টি নজরে আসার পর আদালত বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের বদলির ওপর কোনো স্থগিতাদেশ দেয়া হয়নি।’
এসময় আইনজীবী ওই পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি আদালতকে দেখান। দুদক পক্ষের আইনজীবী খুরশীদ আলম খানকে ডেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন আদালত। আদেশ না হওয়া সত্ত্বেও এমন খবর প্রকাশ হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন উচ্চ আদালত।
এ বিষয়ে সংশোধনী প্রকাশ এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য দুদকের আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তারই ধারাবাহিকতায় সেটি শুনানির জন্য আসে।
এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান আদালতকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের পূর্বকোণ পত্রিকা দুঃখ প্রকাশ করে সংশোধনী ছাপিয়েছে। আদেশের সার্টিফায়েড কপিটি আমার মনে হয় জাল। তার কারণ জজ সাহেবের নামও তারা ভুল লিখেছে।’
তখন আদালত বলেন, “এটা জাল হয়ে থাকলে এর দায়ভার পিটিশনারকে নিতে হবে। এ সংক্রান্ত আরও যদি কোনো তথ্য থাকে তাহলে দেন। কারণ এটা ধরে নিতে হবে পিটিশনার এবং তার আইনজীবী এটা করেছেন।”
এ সময় দুদকের আইনজীবী আদালতকে জানান, দৈনিক পূর্বকোণ ছাড়াও মহানগর চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার নিউজে এ খবর এসেছে।
তখন আদালত বলেন, ‘আপনি সবগুলোতে যোগাযোগ করেন। আপনার অফিস থেকে যেন তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হয়।’ তারপরে দুদক থেকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পত্রিকায় দুঃখ প্রকাশ করে প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এই আদেশ দেন আদালত।
দুদক আইনজীবী বলেন, ‘আমি দুদককে জানিয়েছি। দুদক তার নিজস্ব ইনটেলিজেন্সির মাধ্যমে খতিয়ে দেখছে। এরপরও আদালত যে নির্দেশ দেবেন, সে অনুযায়ী দুদক পদক্ষেপ নেবে।’ তারই ধারাবাহিকতায় কাল বহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

