নিউজটি শেয়ার করুন

নানান নামের সেই রমনী শেষ পর্যন্ত কারাগারে

প্রতারণার করে বিয়ের অভিযোগে নারী কারাগারে
ছবি: সিপ্লাসবিড.নেট

মোঃ নেজাম উদ্দীন: প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে একাধিক পরিচয়পত্র/আইডি কার্ড ব্যবহার করে একাধিক পুরুষকে বিয়ে, বিভিন্ন অযুহাতে টাকা আত্মসাৎ,বিয়ের কয়েকদিন পরে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানো, পরে কাবিনের টাকা আদায় নিয়ে প্রতারনার অভিযোগে মিনু আক্তার নামে এক নারীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

এর আগে এই নারীর বৈবাহিক প্রতারণার শিকার হয়ে প্রবাসী ইমাম হোসেনের পক্ষে আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রতারক মিনু আক্তার, মোস্তফা জামিল (৩৭) ও রাশেদকে (৩৯) আসামি করে আদালতে মামলা করা হয়। মামলাটি বায়েজিদ থানাকে এজাহার হিসেবে নেওয়ার জন্য আদালত আদেশ দিয়েছিলেন। ঐ নারী আজ বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শফি উদ্দিন এর নিকট আগাম জামিনের আবেদন করলে জামিন আবেদন নামন্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।

অভিযুক্ত মিনু আক্তার রাংগামাটি জেলার রাখাইছড়ি থানাধীন বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের উগলছড়ি এলাকার আলী আহমদের মেয়ে।

মিনু আক্তারের বিরুদ্ধে কয়েকটি এনআইডি কার্ড এবং বিভিন্ন নামে নাগরিক সনদ বানিয়ে বৈবাহিক প্রতারণাসহ ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন নামে অ্যাকাউন্ট খুলে দেশি ও প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। এই নারীর অন্তত ৪টি ভিন্ন নামের পরিচয়পত্র, তিনজন বৈধ স্বামী, বৈবাহিক সম্পর্ক বলবৎ থাকা অবস্থায় অন্য পুরুষকে বিয়ের ডকুমেন্ট আদালতের নজরে আনার জন্য দাখিল করা হয়েছিল। এই নারী একাধিক নাম যেমন মিনু আক্তার/নাছমিন আক্তার সিমু/মোছাম্মত ফাতেমা আক্তার/ ফাতেমা আক্তার রোমানা সহ বিভিন্ন ছদ্ম নামে পরিচয় দিতেন।

মামলার আসামী পক্ষের আইনজীবি এড. মুহাম্মদ বরকত উল্লাহ খান সিপ্লাসকে বলেন, মামলায় অভিযুক্ত আসামীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলা হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট নয়। এই মহিলাটা নিজেই প্রতারণার শিকার মাত্র। স্বামীর সাথে স্ত্রীর বনিবনা না হলে স্বামীকে তালাক দিতে পারে , তা আইন বহির্ভুত কিছু নয়। বাদীর সাথে আসামীর বনিবনা না হওয়ায় স্বামীকে তালাক দিয়েছেন। বাদীর সাথে বনিবনা না হওয়ার কারণ হচ্ছে বাদী তার স্ত্রীকে ভরণপোষণ, দেখাশোনা করছেন না তাই বাধ্য হয়ে মামলার বিবাদী তালাক দিয়েছেন। বাদী তার স্ত্রীর কাবিনের টাকা না দেয়ার জন্য ঐ নারীকে হয়রানী করার জন্য এই মামলা করেছেন। আজ আমরা এই নারীর পক্ষে আগাম জামিনের আবেদন করেছি, জামিন আবেদন নামন্জুর করে আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত। আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবো।

অন্যদিকে মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এড. গোলাম মাওলা মুরাদ সিপ্লাসকে বলেন,এই মহিলা এমন প্রতারণা শুধু মামলার বাদীর সাথে নয়, অনেকের সাথে করেছেন। এই নারীর একাধিক পরিচয়পত্র আছে। আজ আসামী পক্ষ আগাম জামিন আবেদন করেছেন, আমি বাদী পক্ষ আসামী পক্ষের জামিন আবেদনের বিরুধিতা করেছি। আদালতে প্রয়োজনীয় প্রমানিয় ডকুমেন্ট দেখাইছি, অধিকতর শুনানী করেছি্‌, শুনানী শেষে আদালত আসামী পক্ষের জামিন আবেদন না মন্জুর করে C/W মুলে আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

মুলত: গত ৮ সেপ্টেম্বর মিনু আক্তার নামে ঐ নারীর বৈবাহিক প্রতারণার শিকার হয়ে আইনগত প্রতিকারের জন্য আদালতে এই নারীর বিরুদ্ধে বাদী পক্ষের আইনজীবী এড. গোলাম মুরাদ মাওলা প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি তদন্তের আদেশ দেন। পরবর্তীতে ৩১ অক্টোবর শুনানীর তারিখ নির্ধারন করা হয়। এর মধ্যে আজ অভিযুক্ত ঐ নারী আগাম জামিনের জন্য আদালতে আবেদন করলে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। বিয়ের নামে বহু পুরুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ-সম্পদ লুট, জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে নানামুখী প্রতারণা-জালিয়াতি ও নিরীহ লোকদের হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগে এই প্রতারক (৩৬) নারীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বিস্তারিত ভিডিওতে..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here