নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে মশার উৎপাতের রহস্য উদঘাটন করলেন মেয়র

সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগরে মশার  উৎপাতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যা থেকে রাত, এমনকি দিনেও নিস্তার নেই মশার কামড় থেকে। ফুটপাত থেকে বাসাবাড়ি-সব জায়গায় এখন মশার উপদ্রব। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বললেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরজুড়ে চলছে  উন্নয়ন কর্মকান্ড। যে কারণে কোথাও কোন পানির চলাচল নেই। বদ্ধ পানি হচ্ছে মশার প্রজননের প্রধান শক্তি। তাই বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পরও চট্টগ্রামে মশার উপদ্রব এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

উপদ্রব বাড়লেও মশক নিধনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম চোখে পড়ছে না বলে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। তাঁদের মতে, বছরের এই সময়ে সিটি করপোরেশনের লোকজন এলাকায় এলাকায় এসে নালা-নর্দমা ও ভবনের আশপাশের জায়গায় ওষুধ ছিটিয়ে যেতেন। কিন্তু এই মৌসুমে তা দেখা যায়নি।

চট্টগ্রামের শুলকবহর এলাকার বাসিন্দা রুহি রায় বলেন, আগের বছর এই সময়ে সিটি করপোরেশনের লোকজন নালা-নর্দমা ও ভবনের আশপাশে ওষুধ ছিটিয়ে যেতেন। কিন্তু এ বছর এখনো তাঁদের দেখা যায়নি। ঘরে কয়েল জ্বালিয়ে ও মশা মারার ওষুধ স্প্রে করেও মশার উৎপাত থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না।

একই অভিযোগ করলেন নগরের পশ্চিম বাকলিয়ার বাসিন্দা চাকরিজীবী ওমর ফারুক, নাসিরাবাদের বাসিন্দা ও ছাত্র সাদ্দাম হোসেন, কাজীর দেউরির গৃহিণী লক্ষ্মী বিশ্বাস।

চিকিৎসকেরা মশক নিধনে নালা-নর্দমা ও ডোবা নিয়মিতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁরা বলেন, মশার কারণে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, অ্যালার্জি ও চর্মরোগ হয়। বদ্ধ ডোবা-নালায় মশা প্রজনন হয় বেশি। এ জন্য এসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

এদিকে মশার উৎপাত থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে প্রাধান্য দিয়ে ১০০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি শুরু করেছেন চট্টগ্রামের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি শনিবার নগরীর চান্দগাঁও ওয়ার্ডে নতুন থানা চত্বরের সামনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

তারপরও চট্টগ্রাম নগরে মশার  উৎপাত প্রসঙ্গে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী সিপ্লাসকে বলেন, মশার বিস্তার নাগরিক দুর্ভোগ ও অস্বস্তির বড় উপসর্গ। মশার বিস্তার নিরসনে প্রথম ২০দিনে ৪১ ওয়ার্ডকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়।

এ কার্যক্রমে নগরবাসীকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, করপোরেশন মশা নিধনের ওষুধ ছিটাবে, প্রকাশ্য স্থান ও নালা-নর্দমার জমে থাকা আবর্জনা ও বর্জ্য পরিস্কার করবে। শুধু এভাবে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা সম্ভব নয়।

এজন্য নাগরিক সচেতনতা প্রয়োজন উল্লেখ করে রেজাউল বলেন, নিজ গরজেই বাসা-বাড়িতে মশার প্রজনন ও উৎসস্থল ধ্বংস এবং আবর্জনা সরিয়ে ফেলে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে। কেউ নালা-নর্দমায় বা খালে এবং  পানি চলাচলের পথে পলিথিন ও প্লাস্টিক,বর্জ্য-আবর্জনা ফেলা যাবে না।

তিনি বলেন, মশা মারতে করপোরেশনের পক্ষ থেকে যেসব ওষুধ ছিটানো হয় তার মান নির্ণয়ের জন্য ঢাকায় পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকার পরও মশা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। জলাবদ্ধতা নিরসনে উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য নগরীর প্রতিটি খাল ও নালায় বাঁধ দেওয়ায় কোথাও কোন স্বাভাবিক পানি চলাচলের সুযোগ নেই। বদ্ধ পানিতে মশার প্রজনন সবচেয়ে বেশি। তাই নানা উদ্যোগ গ্রহণের পরও মশার উৎপাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে প্রতিয়মান।