রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম-কাপ্তাই রোডের অসহনীয় যানজট নিরসনে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের এএসপির উদ্যোগে যানবাহন স্ট্যান্ড নির্মাণ করেছে এলাকাবাসী।
আজ (২০ সেপ্টেম্বর, রবিবার) সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম’র উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে উপজেলার রোয়াজার হাট পৌর এলাকায় এ স্ট্যান্ডটি নির্মাণ করা হয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত পার্কিং স্ট্যান্ড না থাকায় কাপ্তাই সড়কের রোয়াজার হাট পৌর শহর অংশে সারাক্ষণ অসহনীয় যানজট বিদ্যমান থাকে। যানবাহন চালকেরা যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করাই এ ট্রাফিক বিশৃঙ্খলার প্রধানতম কারণ। নানা মহল থেকে বারবার এ বিষয়ে দাবি তোলা হলেও এ বিষয়টির টেকসই সুরাহা হয়নি কখনোই। অবশেষে সার্কেল এএসপির উদ্যোগ ও এলাকাবাসীর সহায়তায় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এ স্ট্যান্ডটি নির্মাণ করা হল। এর পাশাপাশি স্ট্যান্ডে নির্দিষ্ট দূরত্বে খুটি গেড়ে দড়ি লাগিয়ে দিয়েছেন সার্কেল এএসপি। সড়কের যেসব স্থানে ময়লা-আবর্জনা ও গাড়ি পার্কিংয়ের অনুপযোগী এসব স্থানে স্থানীয় জনসাধারণকে সাথে নিয়ে ইট-বালি দিয়ে সংস্কার করে দিচ্ছেন তিনি। এলাকাবাসীর সাথে এ কাজে অংশ নিয়েছেন রোয়াজারহাট ব্যবসায়ী সমিতি, সিএনজি-অটোরিকশা সমিতি ও রাঙ্গুনিয়া কলেজের এক ঝাঁক ছাত্র। সংস্কার কাজ শেষে সিনএনজি-অটোরিকশায় যাত্রী উঠানামা করার জন্য নির্দিষ্ট এই পার্কিং জোন আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণকারী উপজেলার মুরাদনগর এলাকার অধিবাসী মাহিন উদ্দিন (৩১) নামে এক যুবকের মাধ্যমে এই পার্কিং জোনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন রোয়াজারহাট ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি বদিউল খায়ের লিটন চৌধুরী, পৌরসভার প্যানেল মেয়র (২) লোকমানুল হক তালুকদার, সৌদিয়া প্রবাসী মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাসেল চৌধুরী, সিএনজি-অটোরিকশা সমিতির নুরুল আজিম মনু, যুবলীগ নেতা মাহবুব আলম সিকদার, রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি শহীদুল ইসলাম সোহেল চৌধুরী, জিএস মহিউদ্দিন জয়সহ এলাকার বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় সিএনজি চালক রহিম মিয়ার সাথে। তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য এএসপি সাহেবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “সরকারি লোকেরা সারাক্ষণ রাস্তায় গাড়ি দাড় না করতে বলতো। কিন্তু রাস্তার নিচে যে কাঁদা ও গর্ত, তাতে নামালে প্রায়সময়ই গাড়ি আটকে যেত এমনকি কখনো উলটে যাওয়ার ভয়ও আছে। তাই জরিমানা বা শাস্তির ভয় থাকলেও আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তার উপরেই যাত্রী ওঠানামা করাতাম। আর আমরা সেখানে নামালেও বা কি৷ কোন যাত্রী কি এই কাদাপানির মধ্যে নেমে গাড়িতে উঠবে? তবে এখন স্ট্যান্ড নির্মাণের পর আমরা সবাই নিয়ম মেনে স্ট্যন্ডে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করব”।
প্রবাসী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আগে রোয়াজারহাট দিয়ে গেলেই নিশ্চিত যানজটে পড়তে হতো। ১০ মিনিটের সড়ক পেরুতে আধাঘন্টারও বেশি সময় লেগে যেতো। এখন সড়কে দড়ি টেনে দিয়ে যাত্রী উঠানামার নির্দিষ্ট স্থান করে দেওয়াতে সড়ক যানজট মুক্ত হয়েছে। সড়কে পুলিশের এই তদারকি অব্যাহত রাখা গেলে স্থায়ীভাবে সড়ক যানজট মুক্ত হবে।’
জানতে চাইলে এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম এ প্রসঙ্গে বলেন, “কাপ্তাই সড়কের যানজটপ্রবণ মোড় ও বাজারগুলোতে নির্ধারিত পার্কিং স্পট না থাকায় কোনভাবেই যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। চালকদেরকে চাপ দিলে তারা বারবার এ বিষয়টিই তুলে ধরছিলেন, তাই এই রাস্তায় যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আমরা বাজার কমিটি, যানবাহন সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদেরকে সাথে নিয়ে লাল রশি দিয়ে পার্কিং স্পট চিহ্নিত করে দিচ্ছি। এমনকি যেসব এলাকায় রাস্তার পাশে উপযুক্ত পার্কিং স্পট নেই, সেখানে আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় পার্কিং স্পট নির্মাণ করে দিচ্ছি। চালকদেরকে এই পার্কিং স্পট কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হচ্ছে। জনবহুল এলাকাগুলোতে এ বিষয়ে প্রচারণা চালিয়ে মাইকিং ও করা হচ্ছে। মোট কথা কাপ্তাই সড়কের যানজট পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সবরকম উদ্যোগই নিচ্ছি আমরা”। এই উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহ ধরে সড়কে নিয়মিত মনিটরিং করাসহ যানজট নিরসনে নানামুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়নে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম। তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগে চট্টগ্রাম- কাপ্তাই সড়কে ইতোমধ্যেই শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে। যানজট নিরসনে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এর মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের ইতি ঘটবে বলেও প্রত্যাশা তাদের।








