চট্টগ্রামে দুই বছর আগে তরুণীকে ‘উত্ত্যক্তের’ দায়ে কারাভোগ করা এক যুবক অভিযোগ করেছেন, পুলিশের সঙ্গে যোগাসাজশ করে সাজানো ঘটনায় তাকে এই শাস্তির ব্যবস্থা করেছিল প্রেমিকার পরিবার।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের তৃতীয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালতে এর প্রতিকার চেয়ে নালিশি অভিযোগ করেছেন তিনি। দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করতে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
অভিযোগকারী রুবাইয়াত সায়েম (২৬) নগরীর চান্দগাঁও থানার কে বি আমান আলী সড়কের নাছির উদ্দীন আহমেদের ছেলে।
পাঁচলাইশ থানার সাবেক ওসি মহিউদ্দীন মাহমুদ, এসআই মোহাম্মদ আবু তালেব, পাঁচলাইশ থানার হিলভিউ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ওই তরুণী ও তার ভাই কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি।
রুবাইয়াতের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রজীবনে বেশ কয়েক বছর মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার। ২০১৭ সালে দুই পরিবারের সিদ্ধান্তে তারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হন। এরপরই ওই মেয়েকে ‘উত্ত্যক্তের’ দায়ে তাকে সাজা দেওয়ার ঘটনাটি ঘটে।
রুবাইয়াতের আইনজীবী নাজমুল আলম বলেন, “ওই নারীর পরিবারের সদস্যরা ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল কৌশলে বাদীকে নিজেদের বাসার কাছে ডেকে নেয়। কোনো ধরনের পরোয়ানা ছাড়াই র্যাব রুবাইয়াত সায়েমকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে পাঁচলাইশ থানায় হস্তান্তর করা হয়।”
ঘটনার দিন ও রাতে রুবাইয়াত সায়েম থানায় ছিলেন দাবি করে তিনি বলেছেন, পরদিন ১১ এপ্রিল সকালে ওই মেয়ে এবং তার ভাইয়ের উপস্থিতিতে নগরীর প্রবর্তক মোড় এলাকায় বদনা শাহর মাজারের সামনে নেওয়া হয় রুবাইয়াতকে।
”এসআই মোহাম্মদ আবু তালেব একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন দিয়ে জানান, রুবাইয়াত সেখানে মেয়েটিকে ইভটিজিং করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে রুবাইয়াতকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।”
ওই সাজার পর ১৮ দিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত হন রুবাইয়াত। এরপর তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপিল করে সাজা থেকে মুক্তি পান।
আইনজীবী নাজমুল আলম বলেন, “পুলিশ সদস্যরা অবৈধভাবে লাভবান ও প্ররোচিত হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রুবাইয়াতকে আটকে রেখে সাজানো অভিযোগের ভিত্তিতে দণ্ডিত করেন।”
এতদিন পরে এ বিষয়ে আদালতে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে রুবাইয়াত বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওই দণ্ডের বিরুদ্ধে তার আপিলের রায় হয়েছে মাস দুয়েক আগে।
এ ঘটনায় তিনি যেসব পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তাদের মধ্যে পাঁচলাইশ থানার সাবেক ওসি মহিউদ্দীন মাহমুদ এখন চট্টগ্রাম নগরীতে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) কর্মরত আছেন।








