সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও এবং চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড মডেল থানা এলাকায় পৃথক তিনটি অভিযানে আনুমানিক ৩৭ লক্ষ টাকা মূল্যের ২০০ বোতল ফেন্সিডিল, ১১,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১২ কেজি গাঁজা এবং ৯.৫ লিটার চোলাই মদ উদ্ধারসহ ৬ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র্যাব ৭। এ সময় মাদক পরিবহণে ব্যবহৃত ২টি মোটরসাইকেল জব্দ।
বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) পৃথক তিনটি অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।
আটকৃতরা হলেন, মোঃ শাহ আলম প্রঃ আলম (৪২), পিতা-মৃত সুরমান আলী, সাং -চর চারিয়া (শাহজাহানের বাড়ী), ৮নং পালাবান্দা ইউপি, থানা-ইসলামপুর, জেলা-জামালপুর, মোঃ বাচ্চু মিয়া (৪৫), পিতা-মৃত আহসান উল্লাহ, সাং-সরাইপাড়া, ১২নং ওয়ার্ড (বাচা মিয়া রোড, বাচ্চু মিয়ার বাড়ী), আবুল বিড়ি ফ্যাক্টরীর পিছনে, থানা-পাহাড়তলী, মোঃ লিটন মিয়া (৪১), পিতা-আব্দুস সালাম মিয়া, সাং- দেওয়ানহাট, মিস্ত্রি পাড়া (দরবার লাইন), ওয়ার্ড নং-২৪, থানা-ডবলমুড়িং, মোঃ শাহজালাল (৩২) (হেলপার), পিতা- মৃত আব্দুসসালাম, সাং- মাতাভাংগা, থানা- টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার, শফি আলম (২০), পিতা-মৃত মোঃ জালাল, মাতা-মোস্তফা খাতুন, সাং-হাজিমা রাস্তা (নবী হোসেন এর বাড়ী), থানা-উখিয়া, জেলা-কক্সবাজার, এবং মোসাঃ সালমা খাতুন (২৩), স্বামী-ইমাম হোসেন, পিতা-মৃত কবির আহাম্মদ, মাতা-এলম বাহার বেগম, সাং-নয়াপাড়া, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজারদের আটক
র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোঃ নূরুল আবছার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,
গোপন সংবাদের মোটরসাইকেল যোগে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য নিয়ে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামের দিকে আসছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে সীতাকুন্ড থানাধীন ডি টি রোড বানুর বাজার এর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে গাড়ি তল্লাশি শুরু করে। এসময় র্যাবের চেকপোস্টের দিকে আসা ২ টি মোটরসাইকেল এর গতিবিধি সন্দেহ জনক মনে হলে র্যাব সদস্যরা মোটরসাইকেলগুলোকে থামানোর সংকেত দিলে মোটরসাইকেলগুলো র্যাবের চেকপোস্টের সামনে না থামায়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেস্টা করলে র্যাব সদস্যরা দাওয়া করে মোঃ শাহ আলম (৪২),, মোঃ বাচ্চু মিয়া (৪৫), মোঃ লিটন মিয়া (৪১)কে আটক করি।
নিজ হেফাজতে থাকা ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশী করে ২০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধারসহ আসামীদের গ্রেফতার করা হয় এবং উক্ত মোটরসাইকেলগুলো জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ২ লক্ষ টাকা।
উল্লেখ্য যে, আসামী মোঃ শাহ আলম এর বিরুদ্ধে কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় ৫ টি মামলা রয়েছে, আসামী মোঃ বাচ্চু মিয়া এর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় ২ টি মামলা রয়েছে এবং আসামী মোঃ লিটন মিয়া এর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরীল ডবলমুড়িং থানায় ১ টি মামলা রয়েছে।
অপর একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পিকআপ যোগে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য নিয়ে কক্সবাজার হতে চট্টগ্রামের দিকে আসছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে চান্দগাঁও থানাধীন ৬নং পূর্ব ষোল শহর এলাকায় একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে গাড়ি তল্লাশি শুরু করে। এসময় র্যাবের চেকপোস্টের দিকে আসা একটি পিকআপের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে র্যাব সদস্যরা পিকআপটি থামানোর সংকেত দিলে পিকআপটি র্যাবের চেকপোস্টের সামনে থামায়। এসময় পিকআপ থেকে নেমে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে র্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে আসামী মোঃ শাহজালাল (৩২) (হেলপার)কে আটক করে। এসময় পিকআপের পিছনে বোঝাইকৃত সুপারির ব্যাগ তল্লাশি করে ১১,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ আসামীকে গ্রেফতার করা হয় এবং উক্ত পিকআপটি জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ৩৩ লক্ষ টাকা।
অন্যদিকে সীতাকুন্ড মডেল থানাধীন ভাটিয়ারী এলাকার ঢাকা টু চট্টগ্রাম মহাসড়কে পাকা রাস্তার উপর একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে গাড়ি তল্লাশি শুরু করে। এসময় র্যাবের চেকপোস্টের দিকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসকে থামানোর সংকেত দিলে বাসের ড্রাইভার বাসটি র্যাবের চেকপোস্টের সামনে থামায়। র্যাব সদস্যরা বাসের ভিতরে থাকা যাত্রীদের তল্লাশী করা কালে অ-৩ ও অ-৪ আসনের যাত্রীদের কথা বার্তায় সন্দেহ প্রকাশ পাওয়ায় শফি আলম (২০), ও মোসাঃ সালমা খাতুন (২৩) আটক করে।
তাদের নিজ হেফাজতে থাকা ট্রলি ব্যাগ তল্লাশী করে ১২ কেজি গাঁজা এবং ৯.৫ লিটার চোলাই মদ উদ্ধারসহ আসামীদের গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ০১ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, তারা দীর্ঘ দিন যাবৎ কক্সবাজার ও কুমিল্লা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে পরবর্তীতে তা চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পাচার করে আসছে।
গ্রেফতারকৃত আসামী এবং উদ্ধারকৃত আলামত সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে চট্টগ্রাম জেলার সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

