রাউজান প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ধারের বজ্রপাত নিরোধক চারটি তালগাছ কেটে ফেললেন এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের ব্রিকফিল্ড নামক এলাকা হতে এই গাছগুলো কাটলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ মুফিজুর রহমান।
২৫ মে (মঙ্গলবার) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের শেখ শফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যানের ঘাটা নামক স্থানের সড়কের দক্ষিণ পাশে মাথা উঁচু করে একই সারিত দাঁড়িয়ে থাকা আটটি তালগাছের মধ্যে চারটি তালগাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে একটি মৃত গাছ। অভিযুক্ত শেখ মুফিজুর রহমান তালগাছ কেটে ফেলার কথা স্বীকার করে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে গাছগুলো কেটেছি। আপনি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলুন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল জব্বার সোহেল বলেন, আমরা মদুনাঘাট হতে সড়কের দুই ধারে আগাছা পরিস্কার ও তালগাছগুলো ছাঁটাই করছি। এরমধ্যে এই চারটি মৃত তালগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এখানে আমরা নারিকেল গাছ রোপন করব।
এই বিষয়ে উরকিরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সেলিম মুঠোফোনে বলেন, গত সোমবার সকালে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি চারটি তালগাছ কেটে ফেলে। এই চারটি তালগাছের মধ্যে তিনটি গাছ সম্পূর্ণ জীবিত এবং একটি মৃত গাছ ছিল।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, এই বিষয়ে আমি আপনার কাছে জানলাম। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নামপ্রকাশে অনিশ্চুক স্থানীয় একব্যক্তি বলেন, রাউজানে বজ্রপাত নিরোধক হিসেবে তালগাছ রোপণে স্থানীয় সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী যেখানে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রতিটি সড়কে তালগাছ রোপণ করছেন সেখানে একজন আওয়ামী লীগ নেতা তালগাছ কেটে ফেলার দুঃসাহস পায় কিভাবে।
উল্লেখ্য, হঠাৎ করেই বজ্রপাতের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা ও ঝুঁকি বেড়েছে। বিশ্বে বজ্রপাতের কারণে মৃত্যু ঘটনায় বাংলাদেশের নাম শীর্ষে উঠে এসেছে। এ কারণেই গুরুত্বহীন তালগাছের গুরুত্বও বেড়েছে। তালগাছ বজ্রনিরোধক হিসেবে কাজ করে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, গ্রামেগঞ্জে প্রচুর পরিমাণে তালগাছ ও নারিকেল গাছ থাকলে বজ্রপাতে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব।








