সিপ্লাস প্রতিবেদক: সুনামগঞ্জের ছাতকে লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট কোম্পানির ডিও সাইকেল প্রকল্পে চট্টগ্রাম কাস্টমসের ২৮ বছরের পুরোনো ৪৮ হাজার ৮৭০ কেজি বিপজ্জনক কেমিক্যাল ধ্বংস করা হচ্ছে।
সোমবার(৬ ডিসেম্বর ) থেকে লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট এর কারখানার চুল্লিতে এই কেমিক্যালগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে।
বিষয়টি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার উপ-কমিশনার ফয়সাল বিন রহমান।
তিনি সিপ্লাসকে বলেন, কাস্টমস প্রতিনিধির মাধ্যমে তিনটি কাভার্ডভ্যানে ৪৮ হাজার ৮৭০ কেজি বিপজ্জনক কেমিক্যাল ধ্বংস করার জন্য বুধবার সুনামগঞ্জ নিয়ে আসা হয়েছে। কেমিক্যালগুলো ধ্বংস করার কাজ চলছে ।
ধ্বংস বলতে, কেমিক্যালগুলো লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট কোম্পানির ডিও সাইকেল প্রকল্পে সিমেন্টের ক্লিংকার তৈরির কাচামালের সাথে মিক্স করে চুল্লিতে দিয়ে ক্লিংকার তৈরি হচ্ছে। কাস্টমসের পণ্য ধ্বংস করার কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে কার্যক্রম চলছে , সমস্ত কর্মকান্ড শেষ করতে আরও এক সপ্তাহের মত সময় লাগবে।
আমদানিকারক খালাস না নেয়ার চট্টগ্রাম বন্দরের পি শেডে পড়ে ছিল বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল। এসব কেমিক্যালের মধ্যে ২৮-২৯ বছরের পুরোনো পণ্যও ছিলো; যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। চট্টগ্রাম কাস্টমস ৫৩ লট কেমিক্যালের মধ্য থেকে ২৫ লট কেমিক্যাল নিলামে তুললেও কোনো ক্রেতা পায়নি । তাই চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিপজ্জনক কেমিক্যালগুলো ধ্বংসের উদ্যোগ নেয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করলে বিপজ্জনক পণ্য হওয়ায় চট্টগ্রাম কার্যালয় সিদ্ধান্ত না দিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বললে তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা সুনামগঞ্জের ছাতকে লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট কোম্পানির ডিও সাইকেল প্রকল্পে কেমিক্যালগুলো ধ্বংস করার পরামর্শ দেয় । তারপর কাস্টমস লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা করে কেমিক্যালগুলো ধ্বংসের ব্যবস্থা করে, গত বুধবার(২ডিসেম্বর) বন্দরের পি শেড থেকে তিনটি কাভার্ড ভ্যান যোগে এসব কেমিক্যাল পাঠানো হয়েছিলো। কেনো ২৮ বছরেও পুরোনো কেমিক্যালগুলো আমদানিকারক খালাস করে নেয়নি এবং নিলামে তুললেও কেনো ক্রেতা পাওয়া যায়নি।
সে বিষয়ে জানতে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ্ জানান, কেমিক্যাল আমদানির পর কাস্টমসের বিভিন্ন জটিলতার কারনে সঠিক সময়ে ডেলিভারি না হওয়ায় কেমিক্যালের গুনগতমান নষ্ট হয়ে যায়, দরপতনের ফলেও ব্যবসায়ীরা পন্য খালাস করে নাই। কেমিক্যালগুলোর প্রয়োজন না হওয়া ও বিগত দুই দশকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে কেমিক্যালের গুনগতমান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নিলামে ক্রেতা না পাওয়ার অন্যতম কারন বলে তিনি মনে করেন।
আমদানিকৃত পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিন অতিবাহিত হলে কাস্টমস আমদানিকারককে নোটিশ দেয়। নোটিশ দেওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে পণ্য খালাস না নিলে তা নিলামে তুলতে পারে কাস্টম কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মিথ্যা ঘোষণা এবং ঘোষণার বেশি আনা জব্দ পণ্যও কাস্টমস যদি নিলামে তোলে তাহলে কমবে বন্দর ইয়ার্ডে নিলামযোগ্য কনটেইনার জট। কাস্টমসের নিলাম শাখার লোকবল সল্পতার কারনে দিনের পর দিন নিলামযোগ্য কনটেইনার পড়ে থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ চার্জ পায় না। এক্ষেত্রে কাস্টমস – বন্দরকে তাদের আইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে দ্রুততার সাথে কাজ করতে হবে।
উল্লেখ্য, লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট কোম্পানির ডিও সাইকেল প্রকল্পের দায়িত্বরতরা এই ধরনের কেমিক্যাল ধংসে অভিজ্ঞ। তারাই দেশে একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা এই ধরনের কেমিক্যাল ধ্বংস করে।

