Site icon CPLUSBD.COM

চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন, উৎকণ্ঠায় পদপ্রত্যাশীরা

সিপ্লাস প্রতিবেদক: দীর্ঘ দুই দশক চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দুই দফা স্থগিত হওয়ার পর অবশেষে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি।

আগামী ১৯ জুন নগরীর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট হলে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ঐদিন সকাল ১০টায় সম্মেলন শুরু হবে। ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা ভার্চুয়ালি সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে জানান মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক এবং সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক এডভোকেট এ এইচ এম জিয়াউদ্দিন।

সম্মেলনে সাবজেক্ট কমিটির মাধ্যমে নতুন কমিটি হবে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভার্চুয়াল সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। সম্মেলনের দিনই নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি হতে পারে। তবে কারা নতুন নেতা হচ্ছেন, পুরোনো কে কে বাদ পড়ছেন, সে বিষয়ে এখনো সবাই অন্ধকারে। এ জন্য পদপ্রত্যাশী নেতারা উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত ২৭ মে রাত ৮ টার মধ্যে প্রস্তুতি কমিটির কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এসব জীবনবৃত্তান্ত ওইদিন রাতেই কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এখন যাচাই-বাছাইয়ের পর আগামী ১৯ জুন ঘোষণা করা হবে স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহানগর কমিটি। সম্মেলনের দিন নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হতে পারে। নতুন কমিটি হতে পারে ১০১ সদস্যের। এক্ষেত্রে পদগুলোতে একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হতে পারে নেতৃত্ব। নতুন কমিটিতে বর্তমান আহ্বায়ক ও দুই যুগ্ম আহ্বায়কের কেউই থাকছেন না। তারা ছাড়াও ২১ সদস্যের বর্তমান কমিটির বেশিরভাগ নেতাই নতুন কমিটিতে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

জানা গেছে, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আসন্ন সম্মেলনের জন্য সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে বর্তমান আহ্বায়ক ও দুই যুগ্ম-আহ্বায়ককে নিয়েই। অ্যাডভোকেট এ এইচ এম জিয়া উদ্দিনকে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক, কেবিএম শাহজাহানকে যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং সালাউদ্দিন আহমেদকে সদস্য সচিব হিসেবে রাখা হয়েছে।

এদিকে গত ২০ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন পদ প্রত্যাশীরা। ঝিমিয়ে পড়া নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের দায়িত্ব নিতে গত কয়েকদিন ধরেই ঢাকায় দৌড়ঝাঁপের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তদবিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন নতুন কমিটির সম্ভাব্য পদ প্রত্যাশীরা।

নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে আলোচনায় যারা চট্টগ্রামে ক্ষমতাসীন দল দুটি প্রধান ধারায় বিভক্ত। একদিকে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

অন্যদিকে সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন। এই দুটি বলয় থেকেই নতুন নেতৃত্ব আসবে বলে তাদের ধারণা করা হচ্ছে।

নওফেলের অনুসারীদের মধ্যে আলোচনায় থাকা নেতারা হলেন- আজিজুর রহমান, কাউন্সিলর আবুল হাসনাত বেলাল। আ জ ম নাছিরের অনুসারীদের মধ্যে সুজিত দাশ এবং আনোয়ারুল ইসলাম বাপ্পি এবং মহানগর যুবলীগ আহ্বায়ক মহিউদ্দীন বাচ্চুর ছোট ভাই হেলাল উদ্দিন আলোচনায় আছেন। বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাদেক হোসেন পাপ্পু ও নুরুল কবির পেতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ পদ।

এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্ববায়ক অ্যাডভোকেট এ এইচ এম জিয়া উদ্দিনের অনুজ অ্যাডভোকেট তসলিম উদ্দিন, আজাদ খান অভি, মো. জসিম উদ্দিন, মনোয়ার জাহান মনি, মো. সালাউদ্দিন এবং আবদুর রশিদ লোকমানও রয়েছেন আলোচনায়।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে কমিটি ঘোষণা করার কথা থাকলেও অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পদে অগ্রাধিকার পেতে যাচ্ছেন নবীনরা। আর এক্ষেত্রে দুই ধারায় বিভক্ত নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রভাব স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতেও পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

এদিকে, যারা চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগকে সুসংগঠিত করার জন্য নির্দ্বিধায় কাজ করে গেছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন, দলীয় ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে কাজ করে গেছেন, কমিটি গঠনের সময় তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান নেতারা। প্রবীণ ও ত্যাগী নেতারা উপেক্ষিত হলে দলের জন্য তা অশনি সংকেত বয়ে আনবে বলেও মনে করছেন তারা।

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, নগর রাজনীতিতে গ্রুপিং থাকলেও আমাদের সংগঠনে কোনো গ্রুপিং বা নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভাজন ছিল না। নতুন কমিটিতেও যাতে কোনও ধরনের গ্রুপিং না থাকে সেভাবেই কমিটির পদ বন্টন করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবসময় মনে প্রাণে চেয়েছি স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটি হোক, নতুন নেতৃত্ব আসুক। নতুন কমিটি গঠনের জন্য আসন্ন সম্মেলনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। করোনা পরিস্থিতির কারণে স্থগিত না থেকে ভার্চুয়াল সম্মেলনের দিকে এগুচ্ছে, এটাকে আমাদের নিরলস পরিশ্রমের ফল এবং বিরাট প্রাপ্তি বলে মনে করি।

চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ এইচ এম জিয়া উদ্দিন বলেন, কমিটিতে এমন অনেক সিনিয়র নেতাকর্মী আছেন, যারা নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন, কিন্তু পরিচয় দেওয়ার মত তেমন কোন পদবিই তাদের নেই। কিন্তু তাদের বাদ দিয়ে নবীন কাউকে যদি কমিটির শীর্ষ পদে আনা হয় তাহলে ত্যাগী, সৎ নেতারা রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে।

তিনি বলেন, নতুন নেতৃত্বকে আমরা সবসময়ই স্বাগত জানাই। নতুন নেতৃত্ব দলকে আরও গতিশীল করে। কিন্তু সিনিয়রদের কথা ভুলে গেলে চলবে না। কারণ দলের প্রতি দায়বদ্ধতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তারা অনেক বেশি এগিয়ে থাকবেন। আমি আশা করবো, নতুন কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। কেন্দ্রীয় নেতাদেরও আমরা এই অনুরোধটি করেছি।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে যুবলীগের সম্মেলন হয়নি, ছাত্রলীগের সম্মেলনও আটকে আছে। তাই ২০ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য এই কমিটিতে তাদের মধ্যে অনেকেই আসতে চাইছেন। তবে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা প্রাধান্য পাবেন।