নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবাসীদের কার্গো পণ্য ১১ মাসেও খালাস না হওয়ায় ক্ষোভ

গত বছরের মার্চ মাসে কার্গোতে সৌদি আরব থেকে মাল ছেড়ে আজও মাল পায়নি শত শত সৌদি প্রবাসীরা।

ঘটনার বিবরনে জানা যায় সৌদি আরব থেকে তুলনা মুলক বিমানের চেয়ে সস্তায় প্রবাসীদের নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল সি কার্গোতে পাঠায় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বিগত ১০/১১ মাস যাবত চট্টগ্রাম বন্দরের কাস্টমস কমিশনারের এক অজানা একগুয়ামির কারণে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত মালামাল গুলি চট্টগ্রাম বন্দরে আটকা আছে।

যে দেশ প্রবাসীদের রেমিটেন্সের উপর নির্ভর করে দিনদিন এগিয়ে যাচ্ছে,যাদের ঘামের টাকায় দেশের চালিকা শক্তি সচল আছে, তাদের সামান্য নিত্যপ্র্যোজনীয় মালামালের উপর কেন শকুনের লালসা প্রবাসীরা জানেনা। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যেখানে প্রবাসীদের সব চেয়ে বেশী অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন, সেখানে প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকা শকুনের দল কি অদৃষ্ট শক্তির কারণে প্রবাসীদের মালামাল গুলি আটকিয়ে রেখেছেন তা প্রবাসীরা জানেনা। যা এত দিনে নষ্ট হয়ে গেছে বা যাবে। এক কোটিরও বেশী প্রবাসী এইভাবে যদি পদে পদে হয়রানির শিকার হয় বাংলাদেশ একদিন বুঝতে পারবে প্রবাসীরা কি জিনিস।

যেখানে প্রতিদিন বাংলাদেশের ৩টি বিমান বন্দর দিয়ে হাজার হাজার কেজি মালামাল প্রবাসীরা পাঠাচ্ছেন, সেখানে কোন ধরনের সমস্যা নেই শুধু চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মালামাল কেন আটকিয়ে আছে তা জাতির কাছে প্রশ্ন?

বিগত বেশ কিছুদিন যাবত সিপ্লাসটিভি মদিনা প্রতিনিধির কাছে এমন অভিযোগ করে আসছেন অনেক ভুক্তভোগী প্রবাসী। বেশ কিছু কার্গো কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেছে, কি কারণে মালামাল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছাড়া পাচ্ছেনা জানতে চাই।

সবাই এক বাক্যে বলেন, দীর্ঘ দিন যাবত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রবাসীদের মালামাল যথা নিয়মে খালাস হয়ে আসছিল, গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে কোন আগাম নোটিশ নাদিয়ে প্রবাসীদের সব মালামাল চট্টগ্রাম বন্দরে আটকিয়ে রাখা হয়।

কথা হয় চট্টগ্রামের মদিনা প্রবাসী জয়নাল আবেদীনের সাথে। তিনি বলেন তার পরিবার ছিল দীর্ঘদিন সৌদি আরবে। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে পরিবার দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। পরিবারের ব্যবহার্য্য জিনিসপত্র সস্তায় সি কার্গোতে করে পাঠিয়েছেন। আজ প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হয়ে গেল তার মাল গুলি এখনো সে পায়নি।

কথা হয় ওয়াহিদুল আলম নামের অন্য একজন প্রবাসীর সাথে। তিনি জানান, গত রমজান মাসে সে বাড়িতে মাল পাঠাইয়া রমজানের পরে ছুটিতে গিয়া ৫মাস ছুটি কাটিয়ে চলে এসেছেন কিন্তু এখনো তার মালের কোন হদিস নেই। কথা হয় মদিনা প্রবাসী ফেনীর সাদেক আলী ভূইয়া নামের এক প্রবাসীর সাথে। সে গত মার্চে বাড়ির জন্য বেশ কিছু মাল পাঠাইয়াছেন। তার মালের মধ্যে বেশ কিছু খাদ্য দ্রব্য ও বাচ্চাদের চকলেট ছিল। হয়তো এতদিনে সব পচে গলে নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি ক্ষোভের সহিত আক্ষেপ করে বলেন, বিদেশে হাঢ় ভাঙ্গা কষ্ট করে শরীরের রক্ত পানি করে কামাই করা টাকায় দেশে আত্বীয় স্বজনের জন্য পাঠানো মালামাল কত যে কষ্টের তা একমাত্র প্রবাসে যারা আছেন তারাই বুঝবে।

জিদ্দার এক কার্গো মালিকের সাথে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন,আমরা যথা নিয়মে মাল পাঠাইয়াছি,যেভাবে দীর্ঘদিন যাবত পাঠাইয়া আসছিলাম। হঠাৎ গত বছরের এপ্রিল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের কাষ্টমস কমিশনারের একগুয়েমির কারণে মাল খালাস বন্ধ হয়ে যায়, যা এখনো কোন ধরনের সুরাহা হয়নি। এ ছাড়াও কার্গো অফিসে প্রত্যেকদিন কাষ্টমারের সহিত ঝগড়া হচ্ছে। ইহার একটি তড়িৎ সুরাহা হওয়া দরকার। আমরা প্রবাসীদের পক্ষ থেকে প্রবাসী বান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রির হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আশু একটি বিহিত ব্যবস্থা গ্রহনপুর্বক প্রবাসীদের কষ্টার্জিত মালামালের খালাস গ্রহনের দাবী জানাই এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা গ্রহন করে প্রবাসীদের দেশে মালামাল পাঠানোর সুব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাই।