সিপ্লাস ডেস্ক: করোনাকালে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রণোদনা ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে( সিএমএইচ) চিকিৎসাসহ ১৩ দফা দাবীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ড ও আওতাধিন থানা কমান্ডাররা।
রবিবার(১৯ জুলাই) সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডাররা বলেন, ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন এবং বিশ্ব মানচিত্রে লাল সবুজের পতাকা প্রতিষ্ঠিত করেছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধারাই এদেশের প্রথম সামরিক বাহিনী। প্রাকৃতিক কারণে প্রায় সকল মুক্তিযোদ্ধার বয়স ৬৫ বছরের উর্ধ্বে। ফলে মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। করোনাকালে অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা যথাযথ চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু বরণ করেছেন। প্রতিদিন কেউ না কেউ অসুস্থ হচ্ছে। অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ ব্যবস্হায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহবান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ অর্থবছরে মুক্তিযোদ্ধাের সন্মানি ভাতা বৃদ্ধির কথা থাকলেও বৃদ্ধি করা হয়নি। প্রতিদিন অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দামী ঔষধ সেবন করতে হয়। করোনাকালে মোটামুটি সব সেক্টরের লোকজন বিশেষ প্রণোদনা পেয়েছে। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যও বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করতে হবে।
বিবৃতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যান্য দাবী সমূহ হল : বীর মুক্তিযোদ্ধার সাংবিধানিক স্বীকৃতি,মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরব, ঐতিহ্য ও সম্মান রক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পূর্নাঙ্গ রেশনিং ব্যবস্থা, মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত আইন সংশোধন, সরকারি চাকরিতে বিশেষ ব্যবস্হায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্মদের নিয়োগ, সকল পর্যায়ে সরকারি কমিটিতে মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের স্বাক্ষীদের পুনর্বাসন, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবার এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতা বৃদ্ধি , পৃথক সঞ্চয়পত্রের স্কিম চালু করা, স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা নেওয়া এবং সহজশর্তে ৫০ লক্ষ টাকা গৃহ ঋণ দেওয়া।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডাররা ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, ডেপুটি কমান্ডার মোঃ শহীদুল হক চৌধুরী ছৈয়দ, কোতোয়ালী থানা কমান্ডার সৈরেন্দ্র নাথ সেন, চান্দগাও থানা কমান্ডার কুতুবউদ্দিন চৌধুরী, ডবলমুরিং থানা কমান্ডার দোস্ত মোহাম্মদ, সদরঘাট থানা কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম, বাকলিয়া থানা কমান্ডার আলী হোসেন, পাচলাইশ থানা কমান্ডার আহম্মদ মিয়া,খুলশী থানা কমান্ডার মোহাম্মদ ইউসুফ, বায়েজিদ থানা কমান্ডার ক্যাপ্টেন ( অবঃ) সাবের আহমেদ, পাহাড়তলী থানা কমান্ডার হাজী জাফর আহমেদ, আকবর শাহ থানা কমান্ডার মোঃ সলিমুল্লাহ, হালি শহর থানা কমান্ডার মোঃ ইউনুস, বন্দর থানা কমান্ডার কামরুল আলম জতু, ইপিজেড থানা কমান্ডার আবুল কালাম ও পতেঙ্গা থানা কমান্ডার জাকির হোসেন।








