Site icon CPLUSBD.COM

চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালে রোগী নেই, তবুও ওষুধ সংকট

মো: মহিন উদ্দীন: বেহালদশায় চট্টগ্রাম সরকারি রেলওয়ে হাসপাতাল। একসময় এখানে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় ও পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকলেও বর্তমানে তেমন রোগী নেই। তবে রোগী না থাকলে প্রতিদিন ওষুধ নিয়ে যায় ৭০/৮০ জন রোগী। তারপরও ওষুধ সংকট আছে বলে জানান ফার্মাসিষ্ট। এরমধ্যে আবার একজন ডেপুটি মেডিকেল অফিসার (ডিএমও) দিয়ে চলছে রেলওয়ের দুই হাসপাতাল।

রেলওয়ে হাসপাতালে ওষুধ বিতরণে চরম অনিয়ম হয়। যেখানে রোগী নেই, সেখানে কিভাবে প্রতিদিন ৭০/৮০ জন রোগী ওষুধ নিয়ে যায়, এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রেলের দায়িত্বরত কয়েকজন কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনার মধ্যে তেমন কোন রেলওয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীরা বাসা থেকে বের পর্যন্ত হয়নি। রেজিস্ট্রারে কোন রোগীর নাম নেই, নেই রোগীর বই নম্বর। একজনে ওষুধ নিয়ে যায় অনেকজনের নামে। তারপর সে ওষুধ বিক্রি করে ফার্মেসীতে। রোগী না হয়েও নিতে পারে নিজের ইচ্ছে মত ওষুধ। সে ওষুধ যায় রেলওয়ের চাকুরীজীবির আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে পর্যন্ত। এমন কি বন্ধু বান্ধব ও প্রতিবেশী পর্যন্ত পায় সরকারী রেলওয়ে হাসপাতালের ওষুধ, এমন দাবী একাধিক কর্মচারীর।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি নগরীর সিআরবি এলাকায় অবস্থিত রেলওয়ে হাসপাতালটি ঘুরে কোন রোগী চোখে পড়েনি। তবে ফার্মেসীতে কয়েকজনকে ওষুধ নিতে দেখা যায়। ওষুধ নেয়া রোগীদের রেজিষ্ট্রারের তালিকায় কয়েকজনের নাম পড়া গেলেও অধিকাংশ নামবিহীন। আর কিছু লেখা বোঝা যাচ্ছে না। অসম্পূর্ন ভাবে লেখা হয় রেজিষ্ট্রারের চকগুলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানান, রোগী আসে কয়েকজন। তারপরও ওষুধ নেই বলে জানায় ফার্মেসীতে। এত ওষুধ গুলো নিয়ে যায় কারা এ নিয়ে তাদের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওষুধ রেজিষ্ট্রারের সব গুলো ঘর পূরণ করা হয় না।

তারা বলেন,  সবগুলো ঘর পূরণ করলে সেখানে অনিয়ম কমে যাবে। অনেকেই ওষুধ নেন না কিন্তু দেখা যায় তাদের নাম লিখে দেয়। আবার পরিচিত কারো নাম বসিয়ে ওষুধও নেওয়া হয়। রেলে যারা চাকরি করে তাদের নির্দিষ্ট বই আছে। আমরা যে ওষুধ নিই সেটা কি আমরা, নাকি অন্য কেউ তা বুঝার কোন উপায় নেই। কারণ যে ওষুধ নেন তার পরিচিতি নম্বর ও স্বাক্ষর থাকলে অথবা মেডিকেল অফিসার আর জরুরি বিভাগে ডাক্তার রোগীকে দেখে যে সব ওষুধ প্রয়োজন তা লিখে স্বাক্ষর করে দিলে কোন ভাবেই ওষুধ চুরি করতে পারবে না।

জরুরি বিভাগ আর ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াও রেলের চাকুরীজীবিরা যে কোন সময় ওষুধ নিতে পারে বলে জানান ফার্মাসিষ্ট নাছির। এখানে বাইরের কাউকে ওষুধ দেওয়া হয় না। যারা ওষুধ নিতে আসেন তারা সবাই প্রায় পরিচিত। প্রত্যেক চাকুরিজীবির কাছে বই আছে চিকিৎসা নেওয়ার। কিন্তু অনেকেই বই নিয়ে আসে না। তাই বাধ্য হয়ে পরিচিতি নম্বরটা লেখা যায় না।

ডিএমও ডা: চিন্ময় সিপ্লাসকে বলেন, রেলের কর্মকর্তা কর্মচারী ছাড়া কেউ ওষুধ পাবে না। বাইরের কাউকে ওষুধ দেয়া হয় না। জোড়াতালি দিয়ে চলছে হাসপাতাল। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ খালী রয়েছে। তাই প্রত্যেককে নিজদের চিকিৎসা নেওয়ার জন্য যে বই দেয়া হয়েছে তা নিয়ে চাইলে ফার্মাসিষ্ট থেকে ওষুধ নিতে পারে। আবার ডাক্তারকেও দেখাতে পারে।

পুর্বাঞ্চল চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালের চীফ মেডিকেল অফিসার ডা: ইবনে সফি আব্দুল আহাদ সিপ্লাসকে বলেন, রেলের প্রত্যেক চাকুরীজীবির জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত চিকিৎসা সেবা নেওয়ার বই আছে। সেখানে একটি ব্যক্তি পরিচিতি নম্বর আছে। ওষুধ নেওয়ার সময় ফার্মাসিষ্টকে উক্ত বই দিয়ে সেবা নিতে পারে। তখন ফার্মাসিষ্টের রেজিষ্ট্রারে উক্ত বইয়ের পরিচিতি নম্বর আর সবগুলো ঘর পূরণ করে ওষুধ দিতে পারে। আমাদের প্রধান সমস্যা হল ডাক্তার আর নার্স,অবকাঠামোগত এবং পানি। আয়রণ যুক্ত পানি আর লাল পানি ছাড়া কিভাবে ব্যবহার করি। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন আর প্রকৌশল বিভাগসহ মন্ত্রণালয়ে অনেকবার চিঠি দিয়েছি এসব সমস্যা সমাধান করার জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এখানে কেউ অনুপস্থিত থাকে না এবং কর্মরত থেকেও অফিস করে না এমন কেউ নাই। যারা অনুপস্থিত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।