চন্দনাইশ প্রতিনিধি: চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে চন্দনাইশে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জমিসহ ঘর প্রদান বিষয়ে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহফুজা জেরিন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন থানা অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দীন সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাফর আলী হিরু, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, বৈলতলী ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল মোস্তফা চৌধুরী দুলাল, দোহাজারী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্রসহ চন্দনাইশ কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।
প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়নের বশরতনগর মৌজায় ০.৭০ একর জমির ওপর ২৯ টি সেমিপাকা ঘর নির্মাণ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অপরদিকে দোহাজারী পৌরসভার দিয়াকুল মৌজায় ০.৮০ একর জমির ওপর ২২টি সেমিপাকা ঘর নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে।
আগামী ২০ জুন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গৃহহীনদের ঘর হস্তান্তর কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ব্রিফিংয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম বলেন, “বর্তমান সরকারের শাসনামলে একটি মানুষও যাতে গৃহহীন না থাকে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বাসস্থান নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ঘরবাড়ি নেই ও ভূমিহীন এমন পরিবারগুলোই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসের সুযোগ লাভ করবেন। এক্ষেত্রে ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পুনর্বাসিত পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন উৎপাদনমুখী ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহারিক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে সবাই যাতে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে সে জন্য দেওয়া হবে ক্ষুদ্রঋণ।
তিনি আরো বলেন, “সরকারি খাস জমিতে উপকারভোগীদের ২ শতক জমির ওপর সেমিপাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। সবগুলো ঘর সরকার নির্ধারিত একই নকশায় হচ্ছে। ইটের দেয়াল, উপরে রঙিন টিনের চাল। প্রতিটি ঘরে দুইটি শোবার ঘর, রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট, খোলা বারান্দাসহ অন্যান্য সুবিধা থাকছে। বৈলতলী বশরত নগর এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কাবিটা কর্মসূচির আওতায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর ২৯টি ঘরের মধ্যে ২৪টি ঘরের প্রতিটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা করে এবং ৫টি ঘরের প্রতিটির জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা করে। অপরদিকে দোহাজারী পৌরসভার দিয়াকুল এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের টিআর কর্মসূচির আওতায় ২২ টি ঘরের প্রতিটির জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা করে।”

