চন্দনাইশ প্রতিনিধি: “আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার” বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ৫৬টি অসহায়, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছেন মাথা গোঁজার ঠাঁই।
গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবাসন হিসেবে প্রদত্ত খাস জমিতে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন। এতে উপজেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোর ভাগ্য বদলে যাবে। উপকারভোগীরা অধীর আগ্রহে সময় পার করছেন কখন তারা তাদের স্বপ্নের গৃহে উঠবে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়নের বশরতনগর মৌজায় ০.৭০ একর জমির ওপর ২৯ টি সেমিপাকা ঘর নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে রংয়ের কাজ শেষ হবে। অপরদিকে দোহাজারী পৌরসভার দিয়াকুল মৌজায় ০.৮০ একর জমির ওপর ২২টি সেমিপাকা ঘর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। শিগগিরই নতুন ঘর বুঝে পাবেন তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র পরিবারগুলো।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে আগামী ২০ জুন ঘরগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ভোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, “সরকারি খাস জমিতে উপকার ভোগীদের ২ শতক জমির ওপর সেমিপাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। সবগুলো ঘর সরকার নির্ধারিত একই নকশায় হচ্ছে। ইটের দেয়াল, উপরে রঙিন টিনের চাল। প্রতিটি ঘরে দুইটি শোবার ঘর, রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট, খোলা বারান্দাসহ অন্যান্য সুবিধা থাকছে। বৈলতলী বশরত নগর এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কাবিটা কর্মসূচির আওতায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর ২৯টি ঘরের মধ্যে ২৪টি ঘরের প্রতিটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা করে এবং ৫টি ঘরের প্রতিটির জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা করে। অপরদিকে দোহাজারী পৌরসভার দিয়াকুল এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের টিআর কর্মসূচির আওতায় ২২ টি ঘরের প্রতিটির জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা করে।”
বৈলতলী ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল মোস্তফা চৌধুরী দুলাল বলেন, “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে সারা দেশে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রম ও সফলতার কারনে আজ আশ্রয়হীন পরিবারগুলো মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে যাচ্ছেন। বৈলতলী ইউনিয়নের বেশির ভাগ ওয়ার্ড শঙ্খ নদীর তীরবর্তী হওয়ায় নদী ভাঙনের ফলে অনেক স্বচ্ছল পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বৈলতলী ইউনিয়নের গৃহহীন ও পরিবার ঘরগুলো বরাদ্দ পেলে তারা মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবেন।”
চন্দনাইশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহফুজা জেরিন বলেন, “বৈলতলী ও দোহাজারী আশ্রয়ণ প্রকল্পে যারা ঘর বরাদ্দ পাবেন, ইতোমধ্যে তাদের প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউপি চেয়ারম্যানগণ ছিন্নমূল ও ভূমিহীন পরিবারের তালিকা জমা দিয়েছেন। আবার অনেক ভূমিহীন ও গৃহহীন খবর পেয়ে নিজ উদ্যোগে আবেদন জমা দিয়েছেন। অনেকে আবার জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পে ঘর বরাদ্দের আবেদন করেছেন। প্রাপ্ত তালিকাগুলো স্থানীয় ভূমি অফিস থেকে যাচাই-বাছাই করে ভূমিহীন ও গৃহহীন নিশ্চিত হওয়ার পরে সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী উপকারভোগীদের তালিকা চুড়ান্ত করা হয়েছে।”
ইট, টিন থেকে শুরু করে প্রতিটি নির্মাণ উপকরণের গুনগত মাণ ঠিক রেখে আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য নিয়মিত তদারকি করছেন উল্লেখ করে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “বর্তমান সরকারের শাসনামলে একটি মানুষও যাতে গৃহহীন না থাকে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গৃহহীন মানুষের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো হাতে নিয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “ঘরবাড়ি নেই ও ভূমিহীন এমন পরিবার আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসের সুযোগ লাভ করবেন। এক্ষেত্রে ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পুনর্বাসিত পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন উৎপাদনমুখী ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহারিক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে সবাই যাতে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে সে জন্য দেওয়া হবে ক্ষুদ্রঋণ।”








