নিউজটি শেয়ার করুন

চন্দনাইশে মিতু আহতের ঘটনা: থানায় মামলা না নেয়ার অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার দক্ষিণ গাছবাড়িয়া ছৈয়দ মোঃ পাড়া এলাকায় খেলতে গিয়ে মারামারির ঘটনায় ১০ বছরের শিশু মিতু আকতার আহত হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা না নেয়ার অভিযোগ এনে মিতুর পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকালে বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মিতুর বড় বোন রুমি আক্তার।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “গত ২ নভেম্বর সকালে আমার বোন শেলী আকতারের ছেলে সাজেল (৮) ও প্রতিবেশি তাসমিন আক্তারের ছেলে তাহসিন (৮) এর সাথে বাড়ির উঠানে খেলা করছিল। সে সময় ওই দুই শিশুর মধ্যে খেলার ফাঁকে ঝগড়া-বিবাদকে কেন্দ্র করে তাসমিন আকতার আমার বোন ও মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলো। তাদের গালিগালাজ আমার ছোট বোন মিতু আকতার (১০) মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছিলো। তা দেখে তাসমিন আকতার বড় একটি ইটের টুকরা আমার বোনকে লক্ষ করে নিক্ষেপ করে।সেটি মিতুর তলপেটে লাগলে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে চাইলে ছৈয়দাবাদের জসিম অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জন সন্ত্রাসী নিয়ে এসে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এসময় আমার বোন ৮ মাসের অন্তসত্ত্বা শেলি আকতার প্রতিবাদ করলে তাকে সন্ত্রাসীরা কিল, ঘুষি মেরে ফুলা জকম করে। বিষয়টি চন্দনাইশ থানার পুলিশকে অবহিত করলে, পুলিশ একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করার পর এসআই আতিকুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসলেও অদ্যাবদি মামলা রেকর্ড না করে বিষয়টি আপোষ করার জন্য আমাদের পরামর্শ দেয়। আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে আপোষ মিমাংসার জন্য আমাদের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আমার বোন মিতু আজ চার দিন পর্যন্ত চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৯ নং বেডে ভর্তি রয়েছে। একজন ছোট শিশুর উপর এমন অমানুষিক নির্যাতন। একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলার উপর আঘাত বর্তমান সুস্থ সমাজে কোন ভাবে কাম্য নয়।”

এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করণের জন্য মামলা রেকর্ড করে অভিযুক্ত তাসমিন আক্তার ও তার সহযোগী জসিমকে আইনের আওতায় এনে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মিতুর মা নুর বেগম, ভাই মো. ফারুক ও মো.রুবেল।

এ ব্যাপারে চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেশব চক্রবর্তীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পাশাপাশি বাড়ির দুইটি শিশু খেলতে গিয়ে আহত হয়েছে। শিশুরা খেলার সময় একটা শিশু আরেকটা শিশুকে ঢিল ছুড়ে আহত করেছে।

আহত হওয়া শিশুর মা এসে আঘাতকারী শিশুর মা-বাবার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে আহত হয়েছে তার বয়স ৮ বছর, যে আঘাত করেছে তার বয়স ৭ বছর। মামলা কার বিরুদ্ধে নেবো? দুই শিশু খেলতে গিয়ে মারামারি করে একটি শিশু আহত হয়েছে। তাছাড়া প্রকৃত আসামীকে বাদ দিয়ে অন্য ব্যক্তিকে আসামী করে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।