Site icon CPLUSBD.COM

চন্দনাইশে ৪টি অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দিলো প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর

ctg news

চন্দনাইশ প্রতিনিধিঃ চন্দনাইশ উপজেলায় অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে চারটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।

রোববার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার এসএম আলমগীর, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক মো. নুরুল্লাহ্ নুরী।

অভিযানে উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের খান বটতল এলাকায় কেবি খাজা ব্রিকস ফিল্ড ও টু স্টার ব্রিকস ফিল্ড এবং কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের এলাহাবাদ এলাকায় মেসার্স কাঞ্চননগর ব্রিকস ও মেসার্স চৌধুরী ব্রিকস গুড়িয়ে দেয়া হয়।

এসময় র‌্যাব-৭ এর সহকারি পরিচালক এসপি রকিবুল হাসান, পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের পরিদর্শক নুর হাসান সজীব, নমুনা সংগ্রহকারী চন্দন বিশ্বাস সহ র‌্যাব-৭, চন্দনাইশ থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও চন্দনাইশে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ভেকু মেশিন ও ফায়ার সার্ভিস কাঞ্চনাবাদ বাদামতল এলাকায় আসলে ইটভাটার লোকজন প্রথমে বাঁধা দেয়। এরপর ভ্রাম্যমান আদালতের চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার এস এম আলমগীর ও চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. নুরুল্লাহ্ নুরী এর নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লোকজনকে সরিয়ে দিলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ইটভাটার কাঁচা ইট পানি দিয়ে ধ্বংস করে। ইট পোড়াবার জন্য সাজিয়ে রাখা পুরো ভাটা ভেকু মেশিন দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়।

এব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক মো. নুরুল্লাহ্ নুরী জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুসারে পরিবেশ রক্ষার জন্য অবৈধ ইটভাটা গুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে। এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অধিদপ্তরের নিয়মিত কার্যক্রম হিসেবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের সকল উপজেলায় এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হবে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রামের যে সব অবৈধ ইটভাটা রয়েছে সেগুলো ভেঙ্গে ফেলা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চন্দনাইশে মোট ৩২টি ইটভাটা রয়েছে। তৎমধ্যে ৫টিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে, বাকি ২৭টিতে ছাড়পত্র নেই।

দিনব্যাপী অভিযানে অবৈধ ৪টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ভাটাগুলো ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো ইটভাটা ভেঙ্গে দেয়া হবে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন ২০১৩ অনুযায়ী জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, বন বিভাগের ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়। এ অভিযান অভ্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

অপরদিকে ইটভাটার আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, যে ইটভাটাগুলো ধ্বংস করা হয়েছে, সেগুলো গড়ে তোলার সময় কর্তৃপক্ষ নির্বিকার ছিল। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইটভাটাগুলো থেকে সরকার মোটা অংকের ভ্যাট আদায় করে। ইটভাটা গুলো ধ্বংসের কারণে উদ্যোক্তারা নিঃস্ব হয়ে গেছে।