সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) জরুরি বিভাগে রোগী নিয়ে আসা বাবু (৫০) নামে পাঞ্জাবী পরিধান করা এক ব্যক্তি টিকেট নেওয়ার জন্য লাইনে দাড়াতে গিয়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই কখন যে নিজের পকেট থেকে এনড্রয়েট মোবাইল নিয়ে নিল তা খেয়ালও করতে পারেনি বলে তিনি জানান।
সোমবার (১ মার্চ) দুপুর সাড়ে বারটার সময় চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার শিকার ব্যক্তিটি আরও জানান, ‘জরুরি বিভাগের সামনে আছে সিসি ক্যামেরা এবং দাঁড়ানো আছে পুলিশের কনেস্টবল সাজ্জাদ। তারপরও কিভাবে পকেটমার আমার মোবাইল নিল। আমি তাৎক্ষনিক দাড়িয়ে থাকা পুলিশকে মোবাইল চুরির বিষয়টি জানানোর পরও কোন কথাও বললেন না তিনি। তখন যদি সেখানে যারা দাড়িয়ে ছিল তাদেরকে সাথে সাথে তল্লাশী করলে হয়তো আমার মোবাইলটি পাওয়া যেত।
তিনি আরও জানান টিকেট নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ালে পকেটমার আমার মোবাইল নিয়ে যায়। কিন্তু পাশে দাড়িয়ে আছে পুলিশ কনেস্টবল সাজ্জাদ। তাকে জানানোর পরও কোন কথা বলেনি। এরপর তিনি সেখান থেকে সরে পরে। তারপর কথা হয় আরেক কনেস্টবল আরমানের সাথে। তারা দুইজন ছাড়া আর কাউকে দেখা যায়নি।
আগত আরও কয়েকজন রোগীর অভিভাবক জানান, আগে জরুরি বিভাগ পূর্ব গেইটে ছিল। বর্তমানে নতুন ভবনের দক্ষিণে হওয়ায় অনেকে তা খোঁজে পেতে ভোগান্তির শিকার হয়। শুধু তা নয় মুমূর্ষু কোন রোগীকে বসিয়ে রেখে লাইন ধরতে হয় টিকেটের জন্য। এরপর আবার লাইনে দাঁড়িয়ে যেতে হয় ডাক্তারের কাছে। তারপর ডাক্তার দেখানোর পর রোগীকে নিতে লাগে আরও সময়। এত সময় অতিবাহিত করতে গিয়ে প্রতিদিনই কেউ না কেউ পরপারে পাড়ি জমাতে হয়। তার মধ্যে আবার আনসার এবং নার্স আর ওয়ার্ড বয়দের হয়রানি আরও চরম অতিষ্ঠ করে রোগী ও তাদের অভিভাবকদেরকে।
এরই মধ্যে মইজ্যার টেক নামক এলাকার মইত্তার ঘাটার একটি করাতকলে কাজ করার সময় দুর্ঘটনাবশত মইনুদ্দিন (২৩) নামে এক যুবকের হাত কেটে যায়। তাকে নিয়ে আসা হয় জরুরি বিভাগে। সিএনজিতে তাকে নিয়ে আরেক সহযোগী বসে থাকলেও আহত যুবকের কান্না আর চেচামেচি করছে। আর অন্য একজন টিকেটের জন্য লাইনে দাড়িয়ে আছে। তারই মধ্যে চমেক হাসপাতালে নিচতলায় ক্যাজুয়াল্টি, ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ সরিয়ে সেখানেই করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য চালু করা হয় গত বছরের মে মাসে। এর মধ্যে ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও চালু হয়নি ক্যাজুয়াল্টি, ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন এর অন্তর্বিভাগের সেবা। ফলে অন্তর্বিভাগের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। তাছাড়া এর বাইরে বিভাগ দুটির অধিকাংশ চিকিৎসকের বসার সুযোগও নেই।
জানা গেছে, পুরাতন (আগের জায়গায়) ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগে ২০ শয্যা ও ক্যাজুয়াল্টি বিভাগে ২৫ শয্যায় রোগী ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হতো। ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগে ৬-৭ জন এবং ক্যাজুয়াল্টি বিভাগে ৫-৬ জন নিয়মিত চিকিৎসক আছেন। এর বাইরে প্রতিটি বিভাগে এমএস বা এমডিসহ বিভিন্ন কোর্সে অধ্যয়নরত অনারারি চিকিৎসকেরা দায়িত্ব পালন করে। তারাও রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেন।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আফতাবুল ইসলাম বলেন, আগের জরুরি বিভাগে কাজ চলছে। তার জন্য রোগীরা সাময়িক সময় পাচ্ছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ হবে। আপাতত ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগে কোনও রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না। করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম চালু করাসহ অফিসের নানান কাজের কারণে এতদিন বিভাগটি চালু করা যায়নি।








