Site icon CPLUSBD.COM

চমেক হাসপাতালে একদিনে চিকিৎসা সেবা নেন ৩৭২৮ জন রোগী, মৃত্যু হয় ৪২ জন রোগীর

মো: মহিন উদ্দীন: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ(চমেক) হাসপাতালের একদিনে জরুরী ও বহি:বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে রোগী আসেন ৩ হাজার ৭শ ২৮ জন। তার মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয় ৮৭০ জন। বাকীরা প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে নিজ গন্তব্যে চলে যায়।

এ সময়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ৩২ জন রোগী ও হাসপাতালে আনার আগেই ১০ জন রোগীর মৃত্যু। তার মধ্যে ৫ জন পুলিশ কেস এবং ৫ জন সাধারণ রোগী। সব মিলে প্রায় ৪২ জন রোগী হাসপাতালে মারা যায়।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে হাসপাতাল ঘুরে সরেজমিনে এ সব তথ্য জানা যায়।

হাসপাতালের একটি সুত্রে জানা যায়, একইদিনে হাসপাতালে ভর্তিকৃত ৮৭০ জন রোগীর মধ্যে থেকে গোপনে পালিয়ে গেছে ২৫ জন এবং সেচ্ছায় চলে যায় ৮৯ জন।

রায় চৌধুরী, রাশেদ, আবির চৌধুরী ও রহিম উদ্দীনসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েকদিন আগে জরুরী বিভাগে মেডিকেল অফিসার (১) ও (২) নামে আলাদা দুইটি রুমে বসতেন। কিন্তু এখন দেখি একজন মেডিকেল অফিসার চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তার জন্য রোগীকে নিয়ে আবারও লাইন ধরতে হয়। এর মধ্যে ডাক্তার দুর থেকে শুধু কি সমস্যা জেনে একটি স্লিপ দিচ্ছে। আবার তা নিয়ে রোগীকে সহ যেতে হচ্ছে নার্সদের কাছে। তারপর নার্সরা রোগীর সব কিছু দেখে চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র দেন। তবে জরুরী বিভাগে আধুনিকায়ন হলেও চিকিৎসা সেবার মান বাড়েনি। বরং হয়রানি আরও বেড়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

ওয়াজিহা মাহমুদা (Waziha Mahmuda) নামে এক নারী বলেন, হাসপাতালে অনেক কষ্ট পাইছি ভর্তি করাতে ১ঘন্টা ৩০মিনিট লাগছে, একবার এই রুমে আরেকবার এ রুমে একবার এইদিকে আরেকবার ঐ দিকে একবার ঐ দিকে গিয়ে প্রেশার মেপে আনেন এক একটা কাহিনি,,,, অনেক বেশি কষ্ট পাইছি দাদুকে নিয়ে ১৫দিন আগের কথা বলতেছি,আগের সিস্টেম অনেক ভালো ছিল এখন ১৪ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

নাভিত আব্দুল্লাহ (Navid Abdullah) নামে বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ হাসপাতাল সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট করুন। ভোগান্তি একেবারেই কমেনি। জরুরী বিভাগে স্লিপ কাটতেই ঘন্টার পর ঘন্টা। ততক্ষণেই রোগী মারা যান। নার্সরা ডাক্তারের চেয়ে বড়। টাকা ছাড়া কোন কাজ হয়না। প্রতি ইনজেকশন সুচ করতে ২০০টাকা। গেইটে দারোয়ান টাকা নেয়, লিফটে টাকা নেয়। আর কি বলবো? এসব ভিডিওসহ তুলে ধরুণ।

চমেক হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স সেলিম জাহাঙ্গীর সিপ্লাস প্রতিবেদক কে বলেন, গত ২৪ ঘন্টা রেজিস্ট্রাশন অনুযায়ী হাসপাতালে আউডডোরে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিতে রোগী আসেন ২ হাজার ৮শ ৬৬জন। সেখান থেকে রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ভর্তি করেন ২০৭ জনকে, একই সময়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন ৭৩০ জন। তারমধ্যে ভর্তি হয়েছে ৬৫৫ জন এবং ৭৫ জন সেবা নিয়ে চলে যায়। এদিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যু হয় ৩২ জনের এবং হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন ১০ জন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক সিপ্লাসকে বলেন, প্রতিদিনই রোগীর চাপ বাড়ছে। এককেদিন একেক রকমের রোগী আসে। প্রতিটি রোগীকে আমরা দেখছি। তার পাশাপাশি নার্সরাও ভাল করে দেখছেন। জরুরী বিভাগে সেবার মান বেড়েছে।