নিউজটি শেয়ার করুন

চমেক হাসপাতালে একদিনে ৩৫ জন রোগীর মৃত্যু

মো: মহিন উদ্দীন: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ(চমেক) হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একদিনেই মারা যায় ২৬ জন রোগী এবং হাসপাতালে আনার আগেই মারা যায় ৯ জন রোগী। সব মিলে প্রায় ৩৫ জন রোগী মারা যায়।

একই দিনে জরুরি ও বহি:বিভাগে একদিনে চিকিৎসা সেবা নিতে রোগী আসেন ৩ হাজার ২৮৭ জন। তার মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয় ৬৭০ জন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে নিজ গন্তব্যে চলে যায়।

গত মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর বারটার দিকে হাসপাতাল ঘুরে এ সব তথ্য জানা যায়।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বদলে গেছে চমেকের জরুরী বিভাগ। রোগীদের জরুরী সেবা প্রদানের জন্য আলাদা দুই রুমে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দেয় দুই চিকিৎসক। পাশাপাশি পুরুষ ও নারীর জন্য আলাদা কক্ষে রোগীদের সেবা দিচ্ছে দুইজন করে ৪ জন নার্স। এখন রোগীদের ডাক্তার দেখানোর জন্য আর দীর্ঘ লাইন ধরে দাঁড়াতে হয় না।

হাসপাতালের একটি সুত্রে জানা যায়, একইদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৬৭০ জন রোগীর মধ্যে থেকে গোপনে পালিয়ে গেছে ১৫ জন এবং সেচ্ছায় চলে যায় ৯৫ জন।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর অভিভাবক সিপ্লাসকে বলেন, শুধু টিকেটের জন্য লাইন ধরতে হয়। আগে তো টিকেট আর ডাক্তার উভয়ের জন্য দীর্ঘ লাইন ধরতে হতো। কিন্তু এখন দেখি তা নেই। এখন রোগীর জন্য ডাক্তারকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বেশ ভাল লাগছে। এভাবে যদি কর্তৃপক্ষ অন্যান্য হয়রানিগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেন। তাহলেই রোগীও বাচবে, হাসপাতালের সুনাম বৃদ্ধি পাবে।

চমেক হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স সেলিম জাহাঙ্গীর সিপ্লাস প্রতিবেদককে বলেন, আমরা প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে পরের দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা রেজিস্ট্রাশন অনুযায়ী হিসেব করি। সে হিসেবে জরুরী ও আউডডোরে একদিনে চিকিৎসা সেবা নিতে রোগী আসেন ৩ হাজার ২৮৭ জন। আউডডোরে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিতে রোগী আসেন প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন। সেখান থেকে রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ভর্তি করেন ৬৯ জনকে, একই সময়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন ৭৭০ জন। তারমধ্যে ভর্তি হয়েছে ৬০১ জন এবং ১৬৯ জন সেবা নিয়ে চলে যায়।

এদিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যু হয় ২৬ জনের এবং হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন ৯ জন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক সিপ্লাসকে বলেন, এখন রোগীর চাপ একটু কম। এককেদিন একেক রকমের রোগী আসে। তবে রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগ মেডিসিন বিভাগের। অন্যান্য বিভাগেরও রোগী থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here