মোঃ আলমগীর হোসেন, হাটহাজারী প্রতিনিধিঃ হাটহাজারীতে একই দিনে চরমোনাই পীরের সংগঠন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও হাটহাজারী টি-টেন ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে উভয় পক্ষের আয়োজকবৃন্দ।
গত এক সপ্তাহ আগে থেকে মাহফিলের প্রচারণা শুরু করলেও রবিবার থেকে হঠাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রিকেট খেলার প্রচারণা শুরু করে একই তারিখের।
প্রচার করা হচ্ছে, উক্ত খেলায় হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে খেলবেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম। একদিকে চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মোঃ রেজাউল করীম ও মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী’র মাহফিল প্রেমী অন্যদিকে প্রিয় খেলোয়াড় আশরাফুলের আগমনের খবরে ক্রিকেট প্রেমীদের আনন্দ উচ্ছাস দেখা দিলেও একইদিনে হওয়ায় উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। যদিও এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাহফিলের অনুমোদন পায়নি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু খেলা আয়োজকরা প্রশাসনের লিখিত অনুমোদন পেয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানান।
জানা যায়, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও হাটহাজারী সরকারি মডেল পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হচ্ছে। এই সংগঠনটি গত বছরও একই মাঠে মাহফিল করতে অনুমতি পায়নি প্রশাসনের। মাহফিল করতে না পারায় স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে মাহফিলের কার্যক্রম শেষ করে।
এ বছর দুই মাস আগে থেকে মাহফিলের তারিখ নির্ধারণ করে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অনুমতি চেয়েও অনুমতি পায়নি তারা। তারপরেও তারা ব্যানার পোস্টার লিফলেট বিতরণসহ হাটহাজারী উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী উপজেলায় সিএনজি যোগে মাইকিং করে প্রচারণা চালাচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক আইডিতে জাতীয় দলের খেলোয়াড় সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম একই দিনে গড়দুয়ারা ইউপি সদস্য ও ক্রীড়া সংগঠক মোহাম্মদ এরশাদ আলী’র পৃষ্ঠপোষকতায় হাটহাজারী মাঠে টি-টেন পরিবার কর্তৃপক্ষের আয়োজিত ফাইনাল খেলায় গড়দুয়ারা আলোকন সংঘের পক্ষ থেকে খেলবে বলে প্রচারণা চালাচ্ছে।
একদিকে ধর্মীয় মাহফিল প্রেমী আর অন্যদিকে খেলোয়ার প্রেমীদের আনন্দ উচ্ছ্বাসের মাঝে দেখা দিয়েছে টানটান উত্তেজনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটবে বলে সচেতন মহল মন্তব্য করেন।
হাটহাজারী ক্রিকেট টি-টেন টুর্নামেন্টের আহবায়ক মোঃ মিরাজ শিকদার জানান আমাদের এ খেলাটি দ্বিতীয় আসরের ফাইনাল খেলা। করোনা ভাইরাসের অনেক আগে থেকেই আমাদের খেলাটি শুরু হয়েছিল। লকডাউনের কারণে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী খেলা বন্ধ ছিল। কিন্তু ২৩ ডিসেম্বর ফাইনাল খেলাটি অনেক আগে থেকেই নির্ধারণ করা ছিল। প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে লিখিত অনুমোদন নিয়েছি। একজন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম খেলবে বলে অনেক আগেই তারিখ নির্ধারণ করে রেখেছি। এখন মাহফিলের তারিখ দিয়ে যে সমস্যা সৃষ্টি করছে সে বিষয়ে আমরা অবগত নয়। উপজেলা প্রশাসন যে ভাবে বলবে আমরা সে হিসেবে কাজ করব। শিডিউলের বাইরে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষের কিছু করার সুযোগ নেই।
মাহফিল কমিটির সদস্য সচিব মাওঃ মতিউল্লাহ নুরী জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করেছি কিন্তু উপজেলা প্রশাসনসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলদের সাথে মাহফিল নিয়ে বৈঠক হয়েছে কিছু শর্তসাপেক্ষে মৌখিক অনুমতি পেলেও এখনো পরিপূর্ণ লিখিত অনুমোদন পায়নি। দুর্ভাগ্যের বিষয় দু’মাস আগের নির্ধারিত মাহফিলের তারিখকে কেন্দ্র করে মাহফিল প্রেমী ও ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে একটি বিভাজন সৃষ্টি করছে তৃতীয় পক্ষ। যে কোনভাবে প্রশাসনের শর্তসাপেক্ষে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, মাহফিল বিষয়ে অনুমতি দেয়ার আমি কেউ নয়। ওরা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক অফিসে আবেদন করবে, অনুমতি পেলে মাহফিল করবে। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন জানান, মাহফিল আর খেলা একই দিনে হওয়ায় আমাদের করার কিছু নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশ দিবে সে হিসেবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








